শিরোনাম
◈ বিদ্যুৎ খাতে হযবরল, অলস সক্ষমতার বিপুল ভার মানুষের ওপর  ◈ মূল্যবৃদ্ধির চাপ ধনীদের ওপর, ৬৫ শতাংশ সাধারণ মানুষ সুরক্ষিত: তথ্যমন্ত্রী ◈ জুয়া নিয়ন্ত্রণে গোয়েন্দাদের বাড়তি ক্ষমতা, সন্দেহ হলেই তল্লাশি ও গ্রেপ্তার করতে পারবে, অপব্যবহারের আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের ◈ অনলাইন ঝড় থেকে রাজপথে: শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র বিক্ষোভ, থাকছেন সোনম ওয়াংচুক-ও ◈ ১১ দলীয় জোটে আবার ভাঙনের গুঞ্জন, বেরিয়ে গেছে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, ১০ জুন আসতে পারে ঘোষণা ◈ পোষা বিড়াল কি বাড়ায় মানসিক রোগের ঝুঁকি? নতুন গবেষণায় আলোচনার ঝড়! ◈ দেশের বাজারে টানা দুই দফায় স্বর্ণের দাম কমেছে ভরিপ্রতি ৮ হাজার ৭৪৮ টাকা ◈ প্রথম সফরে মালয়েশিয়া কেন বেছে নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান? : ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন ◈ শত্রু দেশ যুক্তরা‌স্ট্রে খেলা ইরা‌নের, দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটা‌তে মনপ্রাণ উজাড় ক‌রে খেল‌বেন ইরানি ফুটবলাররা ◈ বিদেশি ফ্রাঞ্চাইজি লি‌গে খেলার জন‌্য অবসর নেয়া বন্ধ কর‌তে কড়া নিয়ম আনার পথে বিসিসিআই

প্রকাশিত : ২২ অক্টোবর, ২০২৫, ০৬:৫১ বিকাল
আপডেট : ৩০ মে, ২০২৬, ০৮:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

সচল ১৬ স্থলবন্দরে ১ কোটি ৫২ লাখ টন পণ্য আমদানি, ৮ বন্দর নিষ্ক্রিয়

আইরিন হক, বেনাপোল (যশোর): দেশের ২৪টি স্থলবন্দরের মধ্যে গত ২০২৪–২৫ অর্থবছরে ১৬টি সচল বন্দরের মাধ্যমে ভারত থেকে ১ কোটি ৫২ লাখ ৮৬ হাজার ৬৬ মেট্রিক টন পণ্য আমদানি হয়েছে। একই সময়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে রফতানি হয়েছে ১২ লাখ ৭২ হাজার ৩২৮ মেট্রিক টন পণ্য। তবে ব্যবসায়িক পরিবেশ ও অবকাঠামো অনুন্নত থাকায় বাকি ৮টি স্থলবন্দরে কোনো আমদানি–রফতানি কার্যক্রম হয়নি।

বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) ওবাইদুল মিয়া স্বাক্ষরিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি আমদানি হয়েছে বেনাপোল, ভোমরা ও সোনামসজিদ বন্দর দিয়ে।

বেনাপোল বন্দর দিয়ে গত অর্থবছরে ৯৫,৮৯৯টি ভারতীয় ট্রাকে ২০ লাখ ১১ হাজার ২৬৭ মেট্রিক টন পণ্য আমদানি এবং ৪৭,৪৩৭টি বাংলাদেশি ট্রাকে ৪ লাখ ২১ হাজার ৭১৩ টন পণ্য রফতানি হয়েছে।

ভোমরা বন্দর দিয়ে ২১ লাখ ৪৪ হাজার ৯ মেট্রিক টন পণ্য আমদানি ও ২ লাখ ৮৬ হাজার ১৪৬ টন রফতানি হয়েছে।
সোনামসজিদ বন্দর দিয়ে ৩৬ লাখ ৩ হাজার ১৪৪ টন আমদানি হয়েছে, যা অন্যতম বৃহৎ আমদানি কেন্দ্র।

অন্যদিকে, গবড়াকুড়া-কড়ইতলী ও নাকুগাঁও বন্দর দিয়ে রফতানি কার্যক্রম ছিল শূন্য, আর বিলোনিয়া বন্দর দিয়ে সবচেয়ে কম আমদানি হয়েছে (মাত্র ৩৮ মেট্রিক টন)।

ব্যবসায়ীদের দাবি: অবকাঠামো উন্নয়ন জরুরি

ভারত-বাংলাদেশ ল্যান্ডপোর্ট ইমপোর্ট-এক্সপোর্ট কমিটির চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান বলেন, “স্থলপথে বাণিজ্য বাড়ানোর ইচ্ছা থাকলেও অনুন্নত অবকাঠামো বড় বাধা। বিবিআইএন (বাংলাদেশ–ভারত–নেপাল–ভুটান) চুক্তি এখনো আলোর মুখ দেখেনি। অন্তর্বর্তী সরকারকে এখনই কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।”

বাংলাদেশ সিঅ্যান্ডএফ ফেডারেশনের সভাপতি সামসুর রহমান বলেন, “স্থলবন্দরগুলোর নাজুক অবস্থা নিয়ে ভারতীয় ব্যবসায়ীদেরও ক্ষোভ আছে। অবকাঠামো উন্নয়ন হলে ব্যবসায়ীদের খরচ কমবে এবং সরকারের রাজস্ব আয় দ্বিগুণ হতে পারে।”

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক মোস্তাফিজ্জোহা সেলিম বলেন, “রাজনৈতিক বিবেচনায় কিছু বন্দর অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু বাস্তবে কোনো বাণিজ্য হচ্ছে না। ব্যবসায়ীদের পরামর্শ না নিয়েই এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।”

সরকার ও বাণিজ্য কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

বেনাপোল বন্দর পরিচালক শামিম হোসেন বলেন, “০৫ আগস্টের পর উভয় দেশের কিছু পণ্যে নিষেধাজ্ঞা থাকায় আমদানির পরিমাণ কমেছে। তবে বেনাপোল বন্দরে আধুনিক পণ্যগার, ইয়ার্ড ও রেল সংযোগ উন্নয়নের কাজ চলছে।”

তিনি আরও জানান, বেনাপোল দিয়ে মূলত শিল্পকারখানার কাঁচামাল, তৈরি পোশাক, কেমিকেল, ফল, চাল, পেঁয়াজ, মাছ ইত্যাদি পণ্য আমদানি হয়। আর বাংলাদেশ থেকে রফতানি হয় বসুন্ধরা টিসু, মেলামাইন, পাটজাত পণ্য, মাছ, ওয়ালটন ইলেকট্রনিকসসহ বিভিন্ন পণ্য।

২০২৪–২৫ অর্থবছরে স্থলবন্দর বাণিজ্যে মোট ১ কোটি ৬৫ লাখ টনের বেশি পণ্য আদান-প্রদান হলেও, অনুন্নত অবকাঠামো ও নীতিগত জটিলতায় আট বন্দর নিষ্ক্রিয় থেকে গেছে। বাণিজ্য সম্প্রসারণে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যোগাযোগব্যবস্থা, ইয়ার্ড ও কাস্টমস সুবিধা বাড়ানো গেলে রাজস্ব আয়ে বিপুল প্রবৃদ্ধি আসবে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়