শিরোনাম
◈ বিদ্যুৎ খাতে হযবরল, অলস সক্ষমতার বিপুল ভার মানুষের ওপর  ◈ মূল্যবৃদ্ধির চাপ ধনীদের ওপর, ৬৫ শতাংশ সাধারণ মানুষ সুরক্ষিত: তথ্যমন্ত্রী ◈ জুয়া নিয়ন্ত্রণে গোয়েন্দাদের বাড়তি ক্ষমতা, সন্দেহ হলেই তল্লাশি ও গ্রেপ্তার করতে পারবে, অপব্যবহারের আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের ◈ অনলাইন ঝড় থেকে রাজপথে: শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র বিক্ষোভ, থাকছেন সোনম ওয়াংচুক-ও ◈ ১১ দলীয় জোটে আবার ভাঙনের গুঞ্জন, বেরিয়ে গেছে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, ১০ জুন আসতে পারে ঘোষণা ◈ পোষা বিড়াল কি বাড়ায় মানসিক রোগের ঝুঁকি? নতুন গবেষণায় আলোচনার ঝড়! ◈ দেশের বাজারে টানা দুই দফায় স্বর্ণের দাম কমেছে ভরিপ্রতি ৮ হাজার ৭৪৮ টাকা ◈ প্রথম সফরে মালয়েশিয়া কেন বেছে নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান? : ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন ◈ শত্রু দেশ যুক্তরা‌স্ট্রে খেলা ইরা‌নের, দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটা‌তে মনপ্রাণ উজাড় ক‌রে খেল‌বেন ইরানি ফুটবলাররা ◈ বিদেশি ফ্রাঞ্চাইজি লি‌গে খেলার জন‌্য অবসর নেয়া বন্ধ কর‌তে কড়া নিয়ম আনার পথে বিসিসিআই

প্রকাশিত : ২৫ অক্টোবর, ২০২৫, ০৯:১৭ রাত
আপডেট : ০২ জুন, ২০২৬, ০২:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

আমন ধানে পোকা দমনে মৌলভীবাজারে জনপ্রিয় হচ্ছে পরিবেশবান্ধব ‘পাচিং’ পদ্ধতি

মোঃ জালাল উদ্দিন, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: আমন মৌসুমে মাজরা পোকার আক্রমণে ক্ষতির মুখে পড়তেন মৌলভীবাজারের কৃষকেরা। এখন সেই দৃশ্য বদলে যাচ্ছে। ক্ষতিকর পোকা দমনে কীটনাশকের পরিবর্তে কৃষকেরা ঝুঁকছেন পরিবেশবান্ধব ‘পাচিং’ বা ‘ডেথ পাচিং’ পদ্ধতির দিকে। বাঁশের খুঁটি ও গাছের ডাল ব্যবহার করে সহজলভ্য এই কৌশলে শিকারি পাখিরা ধানখেতে এসে পোকা খেয়ে ফেলে—ফলে কীটনাশক ব্যবহারের খরচ কমছে, ফসল হচ্ছে সুরক্ষিত এবং পরিবেশ থাকছে দূষণমুক্ত।

প্রকৃতির সহায়তায় কৃষির রক্ষাকবচ, পাচিং পদ্ধতিতে ধানখেতে নির্দিষ্ট দূরত্বে বাঁশের খুঁটি বা গাছের ডাল পুঁতে দেওয়া হয়। খুঁটির মাথায় খড় বা শুকনো ডাল বেঁধে দেওয়া হয় যাতে পাখিরা এসে বসতে পারে। এই পাখিগুলো—বিশেষ করে শালিক, ফিঙে, দোয়েল ও বাবুই—ধানগাছের ক্ষতিকর মাজরা পোকার ডিম ও লার্ভা খেয়ে ফেলে। এর ফলে স্বাভাবিকভাবে কীটপতঙ্গের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং ধানগাছ সুস্থভাবে বেড়ে ওঠে।

কৃষকের অভিজ্ঞতা, কমলগঞ্জ উপজেলার পতনঊষার ইউনিয়নের কৃষক আনোয়ার মিয়া বলেন, “আমি কয়েক বছর ধরে পাচিং ব্যবহার করছি। আগের মতো আর মাজরা পোকার আক্রমণ হয় না। এবারও জমিতে ৩০টি পাচিং দিয়েছি। এতে খরচও কমেছে, ধানের ফলনও ভালো হয়েছে।”

রাজনগর উপজেলার কৃষক নূরুল ইসলাম জানান, “আগে প্রতি মৌসুমে কীটনাশকে প্রায় পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা খরচ হতো। এখন পাচিং ব্যবহারে সেই খরচ অর্ধেকে নেমে এসেছে। পাখিরা দিনভর ধানক্ষেতে বসে পোকা খেয়ে ফেলে—এ যেন প্রাকৃতিক পাহারাদার।”

সরেজমিনে যা দেখা গেছে, কমলগঞ্জ, রাজনগর ও কুলাউড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, অনেক কৃষকই এখন বিচ্ছিন্নভাবে পাচিং পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। গড়ে ১০০ শতক জমিতে ২৫–৩০টি ডেথ পাচিং স্থাপন করা হয়েছে। বাঁশের খুঁটির মাথায় খড় বেঁধে পাখির বসার ব্যবস্থা করা হয়। মাঠজুড়ে দেখা মিলছে শালিক, ফিঙে, চাতক ও বাবুই পাখির।

প্রশাসনের তত্ত্বাবধান ও সফলতা, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে মৌলভীবাজার জেলায় ৯৮ হাজার ২০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার শতভাগ পূরণ করেছে। এর মধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ কৃষক ইতোমধ্যে পাচিং পদ্ধতি গ্রহণ করেছেন।

মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোঃ জালাল উদ্দীন বলেন, “পাচিং পদ্ধতি খুবই কার্যকর ও পরিবেশবান্ধব। কৃষকেরা এতে যেমন খরচ বাঁচাচ্ছেন, তেমনি কীটনাশক ব্যবহারও অনেক কমে যাচ্ছে। ফলে মাটির উর্বরতা বাড়ছে এবং পরিবেশও সুরক্ষিত থাকছে। বিশেষ করে মাজরা পোকার আক্রমণ থেকে ধান বাঁচাতে এই পদ্ধতি খুব প্রয়োজনীয়।”

পরিবেশ ও অর্থনীতির লাভ, বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে প্রতিবছর পোকামাকড়ের কারণে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ ধানক্ষেত ক্ষতির মুখে পড়ে। পাচিং পদ্ধতির মাধ্যমে এই ক্ষতি ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে কীটনাশক ব্যবহার হ্রাস পেলে পরিবেশ দূষণও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে।

পরিবেশবিদ ড. রুবিনা হক বলেন, “পাচিং পদ্ধতি প্রকৃতির সঙ্গে কৃষির সহাবস্থানের এক উজ্জ্বল উদাহরণ। এটি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করে এবং কৃষিকে আরও টেকসই করে তুলছে। সরকার যদি এটি প্রচার ও প্রণোদনা দেয়, তবে সারাদেশেই কৃষকেরা উপকৃত হবেন।”

কৃষকের দাবি—প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা বাড়ানো, মৌলভীবাজারের কৃষকেরা বলছেন, পাচিং পদ্ধতি সহজ ও সাশ্রয়ী হলেও অনেকেই এখনো তা সম্পর্কে জানেন না। মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের আরও প্রচারণা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নিলে এই পদ্ধতির ব্যাপক ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়