রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহীতে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক নার্সকে ধর্ষণের অভিযোগে এক চিকিৎসককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত ওই চিকিৎসকের নাম আহসান হাবীব। তিনি নগরীর লক্ষ্মীপুর মোড়ের আল আরাফা ক্লিনিকের মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর থানার সীমন্তপুর ইউনিয়নে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আরএমপি র রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে ফেসবুকে ওই নার্সের সঙ্গে চিকিৎসক আহসান হাবীবের পরিচয় হয় এবং অল্প দিনের মধ্যেই তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ওই সময় ভুক্তভোগী নারী ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন।
প্রায় ছয় মাস আগে চিকিৎসক আহসান হাবীব বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ভুক্তভোগী নার্সকে রাজশাহীতে ফিরিয়ে আনেন। এরপর বিভিন্ন সময়ে তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়।
অভিযোগ, গত ৬ অক্টোবর ওই চিকিৎসক পারিবারিকভাবে ভুক্তভোগী নারীকে না জানিয়ে অন্য এক নারীকে বিবাহ করেন। এই ঘটনা জানতে পেরে ভুক্তভোগী নার্স গত ৯ অক্টোবর রাতে লক্ষ্মীপুর মোড়ের আল আরাফা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে তার সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখানে চিকিৎসক আহসান হাবীব পুনরায় বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাকে আবারও ধর্ষণ করেন।
এরপর থেকে চিকিৎসক ভুক্তভোগী নার্সের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। পরে গত ২৩ অক্টোবর ভুক্তভোগী ওই নারী বাদী হয়ে রাজপাড়া থানায় ধর্ষণের মামলা দায়ের করেন।
এ ঘটনায় আল আরাফা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক ও বাংলাদেশ প্রাইভেট হসপিটাল ক্লিনিক ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন এবং অভিযুক্ত চিকিৎসকের কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন।
রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান জানান, এই ঘটনায় থানায় একটি ধর্ষণ মামলা হয়েছে। অভিযুক্ত চিকিৎসককে গ্রেফতারের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে বলেও জানান তিনি।