শিরোনাম
◈ এবার লেবাননে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালানোর বার্তা ট্রাম্পের ◈ বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফের বেড়া নির্মাণে মেঘালয়ের আপত্তি, গ্রামবাসীর প্রতিবাদ ◈ পুরোপুরি সুস্থ নন ইলিয়াস কাঞ্চন: কথা বলছেন, তবে জড়তা কাটেনি, স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন তথ্য ◈ এমপিদের সরাসরি তহবিল বরাদ্দ বাতিল, প্রকল্প অনুমোদন দেবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ◈ পুলিশের দ্রুততম তদন্ত, আদালতের ছুটি বাতিল এই দৃষ্টান্তমূলক রায় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে ◈ ঢাকাকে যানজটমুক্ত করতে ‘জিরো সিগন্যাল’ মহাপরিকল্পনা, ব্যয় আড়াই হাজার কোটি টাকা ◈ পরিচালক‌দের ‌ভো‌টে তা‌মিম ইকবাল বিসিবির সভাপতি  ◈ সংসদে প্রতিশ্রুতি দিলে স্ট্যাডি করেই দেবেন: জ্বালানিমন্ত্রীকে স্পিকার (ভিডিও) ◈ ব্রাজিলের জার্সির রঙ সাদা থেকে যেভাবে হলুদ হয়ে উঠলো  ◈ ৬ শিশুর প্রত্যেকের পরিবারকে ৮০ লাখ টাকা করে দেবে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল

প্রকাশিত : ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৫, ০৭:৪৮ বিকাল
আপডেট : ০৬ জুন, ২০২৬, ০৭:০০ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

কুমিল্লায় শ্রেনী কক্ষে দুই শিক্ষকের মারামারির ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল

ফারুক আহাম্মদ, ব্রাহ্মণপাড়া (কুমিল্লা) প্রতিনিধিঃ কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মালাপাড়া ইউনিয়নের চান্দপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুই শিক্ষকের মধ্যে ধস্তাধস্তি ও হাতাহাতির ৩৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে গত ৮ ডিসেম্বর দুপুরে ওই বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে ধস্তাধস্তি ও হাতাহাতির এ ঘটনা ঘটে। ভাইরাল হওয়া ৩৩ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, একজন শিক্ষক আরেকজন শিক্ষককে চেয়ারের সঙ্গে চেপে ধরে আছেন। এমন পরিস্থিতি দেখে এক নারী কন্ঠে আতঙ্কিত হয়ে বলতে শোনা যায় 'আল্লাহ রহম করো, আল্লাহ রহম করো। জুনায়েদ সাহেব আপনারা এডি কাজ করতাছেন, আপনারা এডি কাজ করতাছেন? মারামারি করন লাগে দুইজনে, কাইজ্জা করন লাগে?' প্রত্যক্ষদর্শী ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, চান্দপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাহমুদুল হাসান জুনায়েদ ও সহকারী শিক্ষক মো. মহিউদ্দিনের মধ্যে বিভিন্ন সময় নানা খুটিনাটি বিষয় নিয়ে বাগবিতণ্ডা হতো। ঘটনার দিন ( ৮ ডিসেম্বর ) বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে সহকারী শিক্ষক মো. মহিউদ্দিন ও সহকারী শিক্ষক মাহমুদুল হাসান জুনায়েদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়।

একপর্যায়ে তা ধস্তাধস্তি ও হাতাহাতিতে রূপ নেয়। উত্তেজনার মধ্যে সহকারী শিক্ষক মাহমুদুল হাসান জুনায়েদ অফিসে থাকা একটি বটি ( ধারালো অস্ত্র ) নিয়ে সহকারী শিক্ষক মো. মহিউদ্দিনের ওপর হামলার চেষ্টা করেন। এ সময় উপস্থিত সহকারী শিক্ষিকা ঝর্না আক্তার দ্রুত এগিয়ে গিয়ে মাহমুদুল হাসান জুনায়েদের কাছ থেকে বটিটি কেড়ে নেন। এরপরও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এসে দুই শিক্ষকের মধ্যে পুনরায় হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে মাহমুদুল হাসান জুনায়েদ তার সহকর্মী মো. মহিউদ্দিনকে ধাক্কা দিয়ে চেয়ারে ফেলে গলা চেপে ধরেন। এ সময় উপস্থিত সহকারী শিক্ষকরা চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন উপস্থিত হলে দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনার অবসান ঘটে।

এ ব্যাপারে সহকারী শিক্ষক মাহমুদুল হাসান জুনায়েদ বলেন, ভিডিও যেটা ফেসবুকে ছাড়া হয়েছে, সেটা ঘটনার শেষাংশ। প্রথম দিকে আমাকে তিনি দুইবার ধাক্কা দিয়ে চেয়ারে ফেলে দেন এবং আমার শার্টের কলার ধরেন। আমি আত্মরক্ষার জন্য তাকে ধাক্কা দিলে সে চেয়ারে পড়ে। আমি আত্মরক্ষার জন্য তার হাতে ও পায়ে হাত দিয়ে ধরে রাখি। বটি দিয়ে আঘাতের চেষ্টা এটা পুরো মিথ্যে কথা।

এ ব্যাপারে সহকারী শিক্ষক মো. মহিউদ্দিন বলেন, জুনায়েদ সাহেব সবসময় জোরজবরদস্তি ও ক্ষমতা দেখায়। তার কথা কেউ না শুনলেই তিনি রাগান্বিত হয়ে যান। এর আগেও একবার তিনি আমাকে হাতুড়ি দিয়ে মারতে চেয়েছিলেন। সেদিন তিনি অফিস কক্ষে বসে আমাকে হুমকিধামকি দিচ্ছিলেন। আমি প্রতিবাদ করায় তিনি আমার ওপর চড়াও হন। পরে আমাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। হঠাৎ করেই তিনি অফিসে রান্নাবান্নার জন্য রাখা দা দিয়ে আমাকে মারতে তেড়ে আসেন। ঝর্না ম্যাডাম তার হাত থেকে দা কেড়ে নেন। পরে তিনি আমাকে চেয়ারে ফেলে আমার গলা চেপে ধরেন।

এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সহকারী শিক্ষিকা ঝর্না আক্তার বলেন, আমি অফিস কক্ষে বসে অফিসিয়াল কাজ করছিলাম। জুনায়েদ সাহেব নিজে নিজে কথা বলছিলেন। একসময় মহিউদ্দিন সাহেব জুনায়েদ সাহেবের কথার জবাব দেন। তারপর দুজনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। বাগবিতণ্ডা একপর্যায়ে ঝগড়ায় রূপ নেয়। পরে জুনায়েদ সাহেব অফিসের বটি-দা হাতে নিলে আমি বটি-দাটি কেড়ে নিই। পরেও দুজনের মধ্যে হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তি হয়। এ ব্যাপারে চান্দপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লাইলী আক্তার বলেন, গত ৮ ডিসেম্বর আমাদের অফিস কক্ষে দুই শিক্ষকের মধ্যে হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তি হয়।

এ ঘটনাটি আমি উপজেলা শিক্ষা অফিসকে অবহিত করলে সহকারী শিক্ষা অফিসার মিজানুর রহমান আমাদের স্কুল পরিদর্শন করেন। তিনি ঘটনার বিস্তারিত তথ্য নিয়ে গেছেন। বাকিটা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দেখবেন। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হালিমা পারভীন বলেন, উপজেলার চান্দপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঘটনাটি জানার সঙ্গে সঙ্গে আমি সহকারী শিক্ষা অফিসারকে ওই বিদ্যালয়ে পাঠিয়েছি। এ ঘটনায় রিপোর্ট তৈরি করে আমরা জেলায় পাঠিয়েছি। জেলা শিক্ষা অফিস এ ঘটনার ব্যবস্থা নেবে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়