শিরোনাম
◈ বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার ম‌ধ্যে ওয়ান‌ডে সিরিজের প্রথম ম‌্যাচ আজ ◈ নতুন মোড় তনু হত্যা মামলায়, সাবেক দুই সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ◈ রাজধানীতে ছুরিকাঘাতে সাবেক স্বেচ্ছাসেবক দল আহ্বায়ককে হত্যা ◈ পদ্মার চর থেকে সবুজ জ্বালানি : পাবনায় দুই সোলার পার্কে ১৬৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন, যোগ হচ্ছে জাতীয় গ্রিডে ◈ মঙ্গলবার ভো‌রে বিশ্বকাপের শেষ প্রস্তুতি ম‌্যা‌চে মিশ‌রের মু‌খোমু‌খি ব্রাজিল ◈ কোরআ‌নে চুমু দি‌য়ে যাত্রা শুরু, মেক্সিকোতে ইরানের বিশ্বকাপ দল‌কে উষ্ণ অভ্যর্থনা ◈ নাহিদ রানাকে নিয়ে আতং‌কে আ‌ছি, বললেন অ‌স্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক ◈ মোবাইলের স্ক্রিন থেকে মাঠে ফিরুক শিশুরা, খেলার মাঠ ও পার্ক দখলমুক্তের ঘোষণা সংসদে ◈ ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নেই, তবু বলছি’— আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সংসদে রুমিন ফারহানার তোপ ◈ যুক্তরা‌স্ট্রে ইংল্যান্ড দ‌লের ক‌্যা‌ম্পের কা‌ছেই বন্দুক হামলা, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বিশ্বকাপের অ‌নেকগুলো দল

প্রকাশিত : ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০৫:১০ বিকাল
আপডেট : ০৬ জুন, ২০২৬, ০৩:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

শেষ মুহূর্তে শেরপুর-১ আসনে তিন প্রার্থীর ত্রিমুখী লড়াই

তপু সরকার হারুন, শেরপুরঃ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে শেরপুর-১ (সদর) আসনে বিএনপি, জামায়াত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর ত্রিমুখী হাড্ডা হাড্ডি লড়াই হবে বলে শেরপুর সদর -১ আসনের সাধারন মানুষের মতামত । এ আসন টিতে ৬ জন প্রার্থী থাকলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে তিনজনকে কেন্দ্র করেই। তারা হচ্ছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা, মোটরসাইকেল প্রতীকের (স্বতন্ত্র ) মো. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। জামায়াত মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী হাফেজ রাশেদুল ইসলাম । নির্বাচনকে ঘিরে সপ্তাহজুড়ে শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত ছিলো ভোটের গরম হাওয়া। প্রতিটি মহল্লা, ইউনিয়ন ও গ্রামাঞ্চলের চায়ের দোকানগুলোতে চায়ের ধোঁয়ার সঙ্গে জমে উঠেছিল নির্বাচনী আলোচনা। ইতোমধ্যে প্রচারণা শেষ হতে চললেও সর্বত্র আলোচিত হচ্ছে ত্রিমুখী লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে শেষ হাসি কে হাসবেন?

জানা যায়, এ নির্বাচনে শেরপুর-১ আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী জেলা বিএনপির যুগ্ম
আহ্বায়ক ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা শেরপুরের রাজনীতিতে একটি বড় চমক হিসেবে আবির্ভূত হন। পেশায় চিকিৎসক, বয়সে তরুণ এবং নারী প্রার্থী হিসেবে তিনি সাধারণ ভোটারদের কাছে- বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের কাছে এক ভিন্ন আশার প্রতীক হয়ে উঠেছেন। ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাবা তৎকালীন শেরপুর জেলা বিএনপিনর সাধারন সম্পাদক মো. হযরত আলীর বিকল্প হিসেবে অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগের তৎকালীন প্রভাবশালী প্রার্থী সাবেক এমপি আতিউর রহমান আতিকের বিরুদ্ধে তিনি তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছিলেন। সেবার ক্ষমতার জটিল সমীকরণে
ফলাফল ভিন্ন হলেও ডা. প্রিয়াঙ্কা দেশজুড়ে আলোচনায় উঠে আসেন। বর্তমানে তিনি বিএনপির সব প্রার্থীর মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ এবং বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের একমাত্র নারী প্রার্থী হিসেবেও আলোচিত।

শেরপুর-১ আসনে দীর্ঘ ৪১ বছর ধরে বিএনপির কোনো এমপি নেই এবং প্রায় এক দশক ধরে ধানের শীষ প্রতীকও অনুপস্থিত ছিল। জোটগত কারণে টানা দুইবার আসনটি জামায়াতকে ছেড়ে দেয় বিএনপি। সর্বশেষ ১৯৭৯ সালে খোন্দকার আব্দুল হামিদ বিএনপির এমপি নির্বাচিত হন। ১৯৮৩ সালে তার মৃত্যুর পর বিএনপি থেকে আর কেউ নির্বাচিত হতে পারেননি। শুধু ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ১৫ দিনের জন্য নামমাত্র এমপি ছিলেন বিএনপি প্রার্থী, সাবেক সচিব মো. নজরুল ইসলাম। ফলে এবারের নির্বাচন বিএনপি সমর্থকদের কাছে আবেগ ও প্রত্যাশার জায়গা হয়ে উঠেছে।

এদিকে এ আসনে জামায়াত মনোনীত আরেক প্রার্থী হাফেজ রাশেদুল ইসলাম। তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সাবেক সভাপতি এবং ঢাকার ধানমন্ডি দক্ষিণ থানা জামায়াতের আমীর। এ আসন থেকে জামায়াতের একক নির্বাচন এবং বিএনপির সাথে জোটগত নির্বাচনে টানা ৪ দফায় দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সাবেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামান। আওয়ামী লীগ সরকারের

মেয়াদে যুদ্ধাপরাধের মামলায় তাকে ফাসি দেওয়া হলে পরবর্তীতে তার পরিবার থেকে কেউ প্রার্থী হবেন এমনটাই ভাবা হচ্ছিল। কিন্তু পুত্র হাসান ইমাম ওয়াফী এবি পার্টিতে যোগ দিলে দলের প্রার্থী মনোনয়নে সমীকরণ পাল্টে যায়। চব্বিশের পটপরিবর্তনের পর থেকেই মাঠে নামেন প্রয়াত কামারুজ্জামানের একই এলাকার অধিবাসী হাফেজ রাশেদুল ইসলাম। দলের একক প্রার্থী হিসেবে তৃণমূল পর্যায়ে দলকে সংগঠিত করার পাশাপাশি দীর্ঘদিন থেকেই অংশ নিয়ে আসছিলেন বিভিন্ন সভা-সমাবেশ ও অনুষ্ঠানাদিতে। শেষ পর্যায়ে তিনিই জামায়াত ও এনসিপিসহ ১১ দল মনোনীত প্রার্থী হয়ে লড়ছেন। এ আসনে এনসিপি প্রার্থী প্রকৌশলী লিখন মিয়া সময় স্বল্পতার কারণে প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করতে পারলেও পরবর্তীতে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়ে রাশেদুল ইসলামের পক্ষেই কাজ করছেন।

অন্যদিকে বিএনপি থেকে মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে মাঠে নামেন জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক ও জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি শফিকুল ইসলাম মাসুদ। এ কারণে তিনি উভয় দলীয় পদ থেকে বহিস্কার হলেও ঝাঁপিয়ে পড়েন নির্বাচনের মাঠে। তিনি বিগত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে তৎকালীন আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থীর কাছে পরাজিত হলেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোট পেয়ে আলোচনায় উঠে আসেন।

এছাড়া নির্বাচনে দলীয় বিভেদের সূত্র ধরে মাঠ পর্যায়ের অনেকেই তার পক্ষে নির্বাচনে নামেন। সর্বশেষ এ আসনের অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী ও স্থানীয় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আলোচিত সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো. ইলিয়াস উদ্দিন নিজে নির্বাচনের মাঠ থেকে সরে গিয়ে মাসুদের পক্ষে সরাসরি কাজ করছেন। ফলে বিএনপি ও বিদ্রোহী প্রার্থী একই এলাকার অধিবাসী হওয়ায় চরাঞ্চলের ভোটে বিভক্তি দেখা দিয়েছে। অবশ্য চরাঞ্চলের আরও এক প্রার্থী, জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক মাহমুদুল হক মনি লাঙল প্রতীক নিয়ে কারাগার থেকে লড়ছেন। তবে ভোটের মাঠে লাঙলের কোন আলাপ-আলোচনাই নেই।

মাঠ পর্যায়ের ভোটারদের দাবি এবার বেশ স্পষ্ট। তরুণ ভোটাররা রেললাইন স্থাপন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবি তুলছেন। প্রবীণ ভোটারদের মতে, শেষ পর্যন্ত তিনিই জয়ী হবেন, যিনি ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে শেরপুরবাসীর প্রাণের দাবিগুলো সংসদে জোরালোভাবে তুলে ধরতে পারবেন।

বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, শেরপুরের প্রতিটি বাজার ও জনপদে চলছে প্রিয়াঙ্কার তারুণ্য, মাসুদের ব্যক্তিগত প্রভাব এবং রাশেদুল ইসলামের সাংগঠনিক শক্তি নিয়ে আলোচনা। অভিজ্ঞতা বনাম নতুন প্রজন্মের এই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কে জয়ী হবেন, তা বলা কঠিন। তবে এটুকু নিশ্চিত-শেরপুরবাসী এবার একটি ব্যতিক্রমী ও ঐতিহাসিক নির্বাচনের সাক্ষী হতে যাচ্ছে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়