শিরোনাম
◈ ‘অনেক হয়েছে, এবার শেষ করা যাক’: সরাসরি সম্প্রচারে মেজাজ হারালেন ট্রাম্প, সাক্ষাৎকার ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন ◈ বাজেট ২০২৬-২৭: উচ্চক্ষমতার মোটরসাইকেলে টিআইএন, করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব ◈ বাংলাদেশে ৪৮০০ জনকে প্রত্যাবাসনের দাবি, নতুন তথ্য দিলেন শুভেন্দু ◈ অবহেলা, প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে ড. ইউনূসসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন ◈ ইসলামী ব্যাংকে আস্থার সংকট: পাঁচ দিনে ইসলামী ব্যাংক থেকে উত্তোলন ৩৫০০ কোটি টাকা ◈ মামলা দায়েরের জন্য ১০ হাজার টাকা দাবি, লাশ নিয়ে থানা ঘেরাওয়ের পর এসআই প্রত্যাহার ◈ অস্ট্রেলিয়ার ভিসা ও চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে লাখো টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারক চক্র, আবেদনকারীদের সতর্কবার্তা ◈ ব্যাংকিং খাতে নতুন শর্ত: নতুন ও পুরোনো হিসাবেও লাগবে টিআইএন, আসছে বাজেটে প্রস্তাব ◈ দেশের বিভিন্ন জেলায় ভুয়া কমিটি গঠন ও প্রচারের অভিযোগ, বিএনপির মিডিয়া সেলের সতর্কবার্তা ◈ ঘোড়ার মাংস খাওয়া নিয়ে জয়া আহসানের রিট, যে নির্দেশ দিলেন হাইকোর্ট

প্রকাশিত : ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০৭:০০ বিকাল
আপডেট : ২৪ মে, ২০২৬, ০৩:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ফরিদপুরে বাজার দখল ও আধিপত্য নিয়ে রণক্ষেত্র: সংঘর্ষে আহত ২০, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুরের সালথা ও বোয়ালমারী উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার ও বাজার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে পৃথক সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। 

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত দফায় দফায় এসব সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, নির্বাচন-পরবর্তী প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে সালথা উপজেলার খারদিয়া এলাকায় টুলু মিয়া ও জিহাদ মিয়ার সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। শনিবার সকালে সেই বিরোধ চরমে রূপ নেয়। উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হন। কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয় এবং আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়।

অন্যদিকে, বোয়ালমারী উপজেলার ময়েনদিয়া এলাকায় আব্দুল মান্নান ও মজিবর সরদার গ্রুপের মধ্যে বাজার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘর্ষ বাঁধে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিপক্ষের অন্তত দুটি বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এছাড়া ৮ থেকে ১০টি বাড়িঘরে ভাঙচুর চালানো হয়। নটখোলা গ্রামের কয়েকটি পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বড়খারদিয়া, নটখোলা ও ময়েনদিয়া গ্রামে সংঘর্ষের চিহ্ন ছড়িয়ে আছে। পুড়ে যাওয়া ঘরের দেয়াল, ভাঙা দরজা-জানালা ও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা আসবাবপত্র এলাকায় ভয়াবহ পরিস্থিতির সাক্ষ্য দিচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা জানান, হামলাকারীরা হঠাৎ করেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর চালায় এবং পরে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে ঘরের আসবাবপত্র, মূল্যবান মালামাল ও নগদ অর্থ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

এলাকাবাসীর দাবি, ময়েনদিয়া বাজারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কয়েকটি পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। পূর্বেও একাধিকবার ছোটখাটো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তবে শনিবারের হামলা ছিল পূর্বপরিকল্পিত ও সংঘবদ্ধ বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। যদিও অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এলাকায় টহল জোরদার করেছে।

ফরিদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (সালথা-নগরকান্দা সার্কেল) মাহমুদুল হাসান বলেন, “আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ও সেনাবাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে এবং দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সংঘর্ষের পর থেকে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আতঙ্কে অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। পুনরায় সংঘর্ষ এড়াতে প্রশাসন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করার উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কোনো মামলা দায়েরের তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়