দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এর উৎপত্তিস্থল সাতক্ষীরা হওয়ায় ওই এলাকার মানুষ তীব্র কম্পন অনুভব করেছেন। গত কয়েক দশকের মধ্যে এমন ভূমিকম্প অনুভূত হয়নি বলে জানিয়েছেন সাতক্ষীরার বাসিন্দারা।
তবে ভূমিকম্পে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
সাতক্ষীরা আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী রিপন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সাতক্ষীরার একাধিক মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জুমার দিন হওয়ায় অধিকাংশ মানুষ মসজিদে অবস্থান করছিলেন। হঠাৎ তীব্র ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় আতঙ্কিত হয়ে সবাই দৌড়ে মসজিদ বাইরে চলে যায়। গত কয়েক দশকের মধ্যে এমন ভূমিকম্প হয়নি বলে জানিয়েছে সাতক্ষীরার প্রবীণ মানুষেরা। ফলে মানুষেরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।
সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার আব্দুল হাকিম বলেন, আমার জীবনে এমন কম্পন অনুভব কখনো হয়নি। বুক কাঁপছিল।
সাতক্ষীরার আব্দুল হামিদ বলেন, আমি মসজিদে ছিলাম।
ভূমিকম্পে মসজিদ কেঁপে ওঠে। এ সময় আমরা দৌড়ে মসজিদের বাইরে যাই। এমন কম্পন প্রথম অনুভূত হওয়ায় আমরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলাম। আমরা আমাদের বাড়ির দিকে কোনো ক্ষতি হয়েছি কিনা এখনো জানতে পারিনি।
এদিকে যশোরেও তীব্র কম্পন অনুভূতির কথা জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
অ্যাডভোকেট ইদ্রিস আলী জানান, ‘জুমার নামাজ চলাকালীন হঠাৎ পুরো শহর কেঁপে ওঠে। মসজিদসহ বহুতল ভবনগুলোতে প্রবল ঝাঁকুনি অনুভূত হয়। নামাজের কাতারেই অনেকে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। আমার ৭০ বছরের জীবনে এমন ঝাঁকুনি আগে অনুভব করিনি।’
ইখতেখার মাহমুদ বাবু বলেন, ‘আমি মসজিদ থেকে বের হয়ে মোটরসাইকেলে উঠছিলাম। হঠাৎ পায়ের নিচের মাটি কেঁপে ওঠে। সঙ্গে সঙ্গে মোটরসাইকেল থেকে নেমে যাই।’
নূর ইসলাম বলেন, ‘এর আগে কখনো এমন ভয়াবহ ঝাঁকুনি অনুভব করিনি। মনে হচ্ছিল ভবনটি এখনই ধসে পড়বে। কম্পন শুরু হতেই মানুষ আতঙ্কিত হয়ে ভবন ছেড়ে খোলা জায়গায় চলে আসেন।’
প্রসঙ্গত, আজ (শুক্রবার) দুপুর পৌনে ২টার দিকে এই ভূকম্পন অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ৫ দশমিক ৪ বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের আবহাওয়াবিদ ফারজানা সুলতানা। এর উৎপত্তিস্থল সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলায় দেখানো হয়েছে।
সূত্র: কালের কণ্ঠ