শিরোনাম
◈ বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক জোরদারে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হাকান ফিদানের বৈঠক ◈ বিদ্যুৎ খাতে হযবরল, অলস সক্ষমতার বিপুল ভার মানুষের ওপর  ◈ মূল্যবৃদ্ধির চাপ ধনীদের ওপর, ৬৫ শতাংশ সাধারণ মানুষ সুরক্ষিত: তথ্যমন্ত্রী ◈ জুয়া নিয়ন্ত্রণে গোয়েন্দাদের বাড়তি ক্ষমতা, সন্দেহ হলেই তল্লাশি ও গ্রেপ্তার করতে পারবে, অপব্যবহারের আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের ◈ অনলাইন ঝড় থেকে রাজপথে: শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র বিক্ষোভ, থাকছেন সোনম ওয়াংচুক-ও ◈ ১১ দলীয় জোটে আবার ভাঙনের গুঞ্জন, বেরিয়ে গেছে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, ১০ জুন আসতে পারে ঘোষণা ◈ পোষা বিড়াল কি বাড়ায় মানসিক রোগের ঝুঁকি? নতুন গবেষণায় আলোচনার ঝড়! ◈ দেশের বাজারে টানা দুই দফায় স্বর্ণের দাম কমেছে ভরিপ্রতি ৮ হাজার ৭৪৮ টাকা ◈ প্রথম সফরে মালয়েশিয়া কেন বেছে নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান? : ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন ◈ শত্রু দেশ যুক্তরা‌স্ট্রে খেলা ইরা‌নের, দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটা‌তে মনপ্রাণ উজাড় ক‌রে খেল‌বেন ইরানি ফুটবলাররা

প্রকাশিত : ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:২১ দুপুর
আপডেট : ০৪ জুন, ২০২৬, ০৩:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বিনা টিকিটে ট্রেন যাত্রার ৫০ বছর পর রেলের পাওনা শোধ করলেন মফিজুল

দীর্ঘ ৫০ বছর আগে বিনা টিকিটে ট্রেনে যাত্রার ঘটনায় অনুশোচনা থেকে অবশেষে টিকিটের মূল্য পরিশোধ করেছেন মফিজুল ইসলাম (৬০) নামের এক বৃদ্ধ। তিনি ২০ হাজার টাকা জমা দিয়ে নিজের সেই পুরোনো ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করেছেন।

বুধবার (৮ এপ্রিল) শ্রীপুর রেলস্টেশন মাস্টার মো. সাইদুর রহমানের পরামর্শে তিনি ২০ হাজার টাকা জমা দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্টেশন মাস্টার নিজেই। মফিজুল ইসলাম গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার চন্নাপাড়া এলাকার আব্দুল মান্নান বেপারীর ছেলে।

জানা গেছে, ১৯৭৬ সালের দিকে তরুণ বয়সে মফিজুল ইসলাম কাঁঠালের ব্যবসা শুরু করেন। গাজীপুরের শ্রীপুর থেকে কাঁঠাল কিনে তিনি ঢাকায় নিয়ে বিক্রি করতেন। আর সেই কাঁঠাল গাজীপুর থেকে ঢাকায় আনা নেওয়া করতেন ট্রেনযোগে। কিন্তু ওই সময় তিনি বিনা টিকিটে ট্রেনে যাতায়াত করতেন। কোন কোন সময় ট্রেনে দায়িত্বপ্রাপ্তদের কিছু টাকা দিতেন। তবে সেই টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হতো না।

তরুণ বয়সে বিনা টিকিটে কয়েক বছর ট্রেনে যাতায়াত করে বর্তমানে নিজেকে অপরাধী মনে করেন মফিজুল ইসলাম। সেই অপরাধ তাকে প্রতিনিয়ত যন্ত্রণা দিচ্ছিল। তার সেই যন্ত্রণা থেকে নিজেকে শান্ত করতে যোগাযোগ করেন গাজীপুরের শ্রীপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার সাইদুর রহমানের সঙ্গে। পরে স্টেশন মাষ্টারের পরামর্শে তার কাছে ট্রেনের টিকিটের মূল্য বাবদ ২০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন মফিজুল ইসলাম।

মফিজুল ইসলাম বলেন, ‘১৯৭৬ সালের দিকে ব্যবসায়িক প্রয়োজনে কাঁঠাল নিয়ে বিনা টিকিটে ট্রেনে ঢাকায় যাতায়াত করতাম। তখন বুঝতাম না এটা অপরাধ। কোন কোন সময় ট্রেনের দায়িত্বরতদের কিছু টাকা হাতে ধরিয়ে দিতাম। কিন্তু সেটা বৈধ ছিল না। এখন বৃদ্ধ বয়সে সেই অপরাধটা কুড়ে কুড়ে তীব্র যন্ত্রণা দিচ্ছিল। তাই নিজের ঋণ পরিশোধ করতে সেই ট্রেনের ভাড়া পরিশোধ করার সিদ্ধান্ত নেই। পরে স্টেশন মাস্টারের কাছে ২০ হাজার টাকা পরিশোধ করি। এখন নিজেকে অপরাধ মুক্ত মনে হচ্ছে। অনেক স্বস্তিবোধ করছি। সকলের কাছে অনুরোধ থাকলো কেউ যেন বিনা টিকিটে ট্রেনে বা কোন যানবাহনে যাতায়াত না করেন।’

রেলস্টেশন মাস্টার মো. সাইদুর রহমান বলেন, ‘গত ১ এপ্রিল ওই বৃদ্ধ স্টেশনে এসে টাকা পরিশোধ করেন। ওই টাকা ৬ এপ্রিল রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হয়।’

রেলস্টেশন মাস্টার বলেন, ‘রেলওয়েতে এভাবে পুরোনো বকেয়া বা দায়মুক্তির টাকা পরিশোধের আইনি বিধান রয়েছে। মফিজুল ইসলাম এসে যখন বিষয়টি খুলে বললেন, আমরা তার মানসিকতায় মুগ্ধ হয়েছি।’

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়