শিরোনাম
◈ ট্রাম্পের জন্য ‘বিশ্বাসের পরীক্ষা’: জব্দকৃত ২৪ বিলিয়ন ডলার ফেরত চায় ইরান ◈ বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক জোরদারে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হাকান ফিদানের বৈঠক ◈ বিদ্যুৎ খাতে হযবরল, অলস সক্ষমতার বিপুল ভার মানুষের ওপর  ◈ মূল্যবৃদ্ধির চাপ ধনীদের ওপর, ৬৫ শতাংশ সাধারণ মানুষ সুরক্ষিত: তথ্যমন্ত্রী ◈ জুয়া নিয়ন্ত্রণে গোয়েন্দাদের বাড়তি ক্ষমতা, সন্দেহ হলেই তল্লাশি ও গ্রেপ্তার করতে পারবে, অপব্যবহারের আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের ◈ অনলাইন ঝড় থেকে রাজপথে: শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র বিক্ষোভ, থাকছেন সোনম ওয়াংচুক-ও ◈ ১১ দলীয় জোটে আবার ভাঙনের গুঞ্জন, বেরিয়ে গেছে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, ১০ জুন আসতে পারে ঘোষণা ◈ পোষা বিড়াল কি বাড়ায় মানসিক রোগের ঝুঁকি? নতুন গবেষণায় আলোচনার ঝড়! ◈ দেশের বাজারে টানা দুই দফায় স্বর্ণের দাম কমেছে ভরিপ্রতি ৮ হাজার ৭৪৮ টাকা ◈ প্রথম সফরে মালয়েশিয়া কেন বেছে নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান? : ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন

প্রকাশিত : ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ০৬:১০ বিকাল
আপডেট : ০৩ জুন, ২০২৬, ১০:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

‘হাতির বিকট চিৎকার শুনে দৌড়ে গিয়ে দেখি, ধানখেতে রক্তে ভেজা দেহ পড়ে আছে’

পাহাড়ের পাদদেশে একখণ্ড জমিতে বোরো ধান চাষ করেছিলেন কৃষক ছাবের আহমেদ (৬৭)। এলাকাটি হাতির বিচরণক্ষেত্র। তার ওপর ধান পেকেছে। পাকা ধানের গন্ধে হাতির পাল হানা দিতে পারে, এমন আশঙ্কা থেকে ছাবের আহমেদ খেতের পাশে আগুন জ্বালিয়ে সারা রাত পাহারা দেন। ভোরের দিকে হঠাৎ একটি বন্য হাতি নেমে আসে পাহাড় থেকে সাবের সেটিকে তাড়ানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। উন্মত্ত হাতিটি তাঁকে শুঁড়ে পেঁচিয়ে আছাড় মারে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় কৃষক ছাবেরের।

আজ বুধবার ভোরে কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নের পূর্ব গজালিয়া সাতঘরিয়া পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। সাবের আহমেদ পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাঁর এক ছেলে মানসিক প্রতিবন্ধী বলে জানা গেছে।

ছাবের আহমেদের জমির পাশেই একটি মসজিদের অবস্থান। ওই মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ আবদুল্লাহর ঘুম ভাঙে ফজরের আজানের একটি আগে। এ সময় তিনি হাতির বিকট গর্জন শুনে ছুটে গিয়ে দেখেন, হাতির পাশেই ছাবেরের নিথর রক্তাক্ত দেহ পড়ে আছে। মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, দৃশ্যটি ছিল খুবই মর্মান্তিক। ছাবের আহমদ ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। তাঁর আয়ে পরিবার চলত। তাঁর মৃত্যুতে পরিবারটি এখন দিশাহারা।

ইদানীং এলাকায় হাতির উৎপাত বেশ বেড়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন। এ কারণ ছাবেরের মতো অনেক কৃষক রাতে আগুন জ্বালিয়ে পাকা ধান পাহারা দেন। গতকাল মঙ্গলবার রাতে ছাবেরের ধানখেতের একটু দূরে নিজের খেত পাহারা দিচ্ছিলেন কৃষক জামাল উদ্দিন। তিনি বলেন, হাতিটি শুঁড় দিয়ে ছাবের আহমদকে আছাড় মারে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। বিশেষ করে তিনি দুই পা, হাত ও মুখে মারাত্মক আঘাত পান। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ওই এলাকায় বন্য হাতির চলাচল বেড়েছে। বিশেষ করে পাহাড়সংলগ্ন এলাকায়। খাদ্যের সন্ধানে হাতিরা লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। ফলে মানুষের সঙ্গে হাতির সংঘাত বাড়ছে। তবে হাতির আঘাতে মৃত্যু হওয়া কৃষক ছাবেরের পরিবার ক্ষতিপূরণ পাবেন বলে বন বিভাগ জানিয়েছে।

কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের ফুলছড়ি রেঞ্জের রাজঘাট বিট কর্মকর্তা শাহ আলম বলেন, পাহাড়ের পাশে ছাবের আহমদ বোরো ধানের চাষ করেছেন। গভীর রাতে তিনি সেখানে ধান পাহারা দিতে যান। ভোরের দিকে বন্য হাতি ধানখেতে নামলে ছাবের আহমদ বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় হাতির আক্রমণে ঘটনাস্থলে তিনি নিহত হয়েছেন। বন বিভাগের পক্ষ থেকে তাঁর পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হবে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়