শিরোনাম
◈ বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক জোরদারে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হাকান ফিদানের বৈঠক ◈ বিদ্যুৎ খাতে হযবরল, অলস সক্ষমতার বিপুল ভার মানুষের ওপর  ◈ মূল্যবৃদ্ধির চাপ ধনীদের ওপর, ৬৫ শতাংশ সাধারণ মানুষ সুরক্ষিত: তথ্যমন্ত্রী ◈ জুয়া নিয়ন্ত্রণে গোয়েন্দাদের বাড়তি ক্ষমতা, সন্দেহ হলেই তল্লাশি ও গ্রেপ্তার করতে পারবে, অপব্যবহারের আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের ◈ অনলাইন ঝড় থেকে রাজপথে: শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র বিক্ষোভ, থাকছেন সোনম ওয়াংচুক-ও ◈ ১১ দলীয় জোটে আবার ভাঙনের গুঞ্জন, বেরিয়ে গেছে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, ১০ জুন আসতে পারে ঘোষণা ◈ পোষা বিড়াল কি বাড়ায় মানসিক রোগের ঝুঁকি? নতুন গবেষণায় আলোচনার ঝড়! ◈ দেশের বাজারে টানা দুই দফায় স্বর্ণের দাম কমেছে ভরিপ্রতি ৮ হাজার ৭৪৮ টাকা ◈ প্রথম সফরে মালয়েশিয়া কেন বেছে নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান? : ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন ◈ শত্রু দেশ যুক্তরা‌স্ট্রে খেলা ইরা‌নের, দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটা‌তে মনপ্রাণ উজাড় ক‌রে খেল‌বেন ইরানি ফুটবলাররা

প্রকাশিত : ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ০৯:১৮ রাত
আপডেট : ০৪ জুন, ২০২৬, ১০:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ফরিদপুরে ঢেউখালিতে দুইশো বছরের ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মৎস্য মেলা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ঢেউখালি বাজারে বসেছে প্রায় দুইশত বছরের ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মৎস্য মেলা। বাংলা নববর্ষের আবহকে আরও প্রাণবন্ত করতে বুধবার (১৫ এপ্রিল) বৈশাখের দ্বিতীয় দিনে একদিনব্যাপী এ মেলার আয়োজন করা হয়। ভোর ৬টা থেকে শুরু হয়ে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলা এ মেলায় বরাবরের মতোই ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও জমজমাট বেচাকেনা।

সদরপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ সারা বছর অপেক্ষা করেন এই বিশেষ দিনের জন্য। বৈশাখের শুরুতেই আয়োজিত এই মৎস্য মেলা গ্রামীণ জীবনে যেন উৎসবের রূপ নেয়। সকাল হতেই ঢেউখালি বাজারে নেমে আসে মানুষের ঢল—ক্রেতা, বিক্রেতা ও দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

স্থানীয়দের ভাষ্য, দুইশত বছর আগে শুরু হওয়া এই মেলা এখনো তার ঐতিহ্য ও জৌলুস অটুট রেখেছে। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে চলে আসা এই আয়োজন কেবল কেনাবেচার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

মেলায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা মাছ ব্যবসায়ীরা বড় বড় মাছ নিয়ে পসরা সাজান। বিশাল আকৃতির মাছগুলোই প্রথমে নজর কাড়ে দর্শনার্থীদের। আকার ও প্রজাতি ভেদে দাম তুলনামূলক বেশি হলেও ক্রেতাদের আগ্রহে ভাটা পড়েনি। দরদাম আর বিক্রেতাদের হাঁকডাকে মুখর হয়ে ওঠে পুরো মেলা প্রাঙ্গণ।

এ মেলায় পুকুর ও বিলের মাছের পাশাপাশি পদ্মা, আড়িয়াল খাঁ ও ভূবনেশ্বর নদীর বড় আকারের মাছ বিশেষ আকর্ষণ হয়ে ওঠে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আনা ইলিশ, চিংড়ি, রুই, কাতল, বোয়াল, গজার ও আইড়সহ নানা প্রজাতির মাছ দেখতে ভিড় করেন দর্শনার্থীরা। অনেক মাছের আকার এতটাই বড় যে তা দেখতে আলাদা আকর্ষণ তৈরি হয়।

মাছ ব্যবসায়ীরা জানান, এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে তারা প্রতিবছরই মেলায় অংশ নেন এবং ক্রেতাদের হাতে ভালো মানের মাছ তুলে দিতে সচেষ্ট থাকেন।

অন্যদিকে, বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ক্রেতারাও মাছের বৈচিত্র্য ও মেলার পরিবেশে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। প্রতিবছর এই মেলায় প্রায় ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকার মাছ বিক্রি হয় বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের মতে, এই মেলা শুধু বিনোদনের উৎস নয়—গ্রামীণ অর্থনীতির জন্যও তা গুরুত্বপূর্ণ। একদিনের এই আয়োজনকে ঘিরে বাড়ে ব্যবসা-বাণিজ্য, সৃষ্টি হয় অস্থায়ী কর্মসংস্থান এবং প্রাণ ফিরে পায় পুরো এলাকা।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়