রাজশাহীর দুর্গাপুরে দাওকান্দি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে ঢুকে এক শিক্ষিকাকে জুতাপেটা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতা আকবর আলী ও তার সমর্থকদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় কলেজের অধ্যক্ষসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। পরীক্ষাকেন্দ্র হওয়ায় কলেজ ও আশপাশের ১০০ গজ এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি ছিল এবং সকাল থেকেই পুলিশ মোতায়েন ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শী, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জানান, দুপুরের দিকে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাকের কক্ষে গিয়ে বিভিন্ন বিষয়, বিশেষ করে আগের অধ্যক্ষের সময়কার আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে তারা প্রভাষক আলেয়া খাতুন হীরাকে মারধর করেন।
এর কিছুক্ষণ পর আরও নেতাকর্মী এসে অধ্যক্ষসহ কয়েকজন শিক্ষকের ওপর হামলা চালায় এবং অফিস কক্ষে ভাঙচুর করে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক, প্রভাষক আলেয়া খাতুন হীরা, অধ্যাপক রেজাউল করিম আলম এবং আরও দুই কর্মচারী। তাদের কয়েকজনকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রভাষক আলেয়া খাতুন হীরা বলেন, “তারা বিভিন্ন সময় কলেজে এসে হিসাব চাইতেন, মূলত চাঁদা দাবি করতেন। অধ্যক্ষের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় আমিও হামলার শিকার হয়েছি।”
অভিযোগ অস্বীকার করে স্থানীয় বিএনপি নেতা আকবর আলী বলেন, আগের অনিয়ম-দুর্নীতির হিসাব চাইতে গেলে তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়। তার দাবি, “শিক্ষক আলেয়া খাতুন হীরা প্রথমে আমাদের ওপর হামলা করেন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।”
অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, চার মাস আগে যোগ দেওয়ার পর থেকেই বিএনপির বিভিন্ন গ্রুপ তার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। তিনি তা প্রত্যাখ্যান করায় বিরোধ তৈরি হয়।
দুর্গাপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম জানান, সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতির আশঙ্কায় আগে থেকেই পুলিশ মোতায়েন ছিল। “উভয় পক্ষকে নিবৃত করার চেষ্টা করা হয়। তবে কিছু লোক জোরপূর্বক প্রবেশ করে হামলা ও ভাঙচুর চালায়,” বলেন তিনি।
এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।