শিরোনাম
◈ স্বর্ণের দামে বড় পতন বিশ্ববাজারে ◈ ডিপফেক-মিথ্যা তথ্য রোধে এআই নীতিমালা আনছে সরকার ◈ গুলশানে দুটি স্পা সেন্টারে পুলিশের অভিযান, ২৮ জন আটক ◈ হাদি হত্যা মামলায় জাবেরকে বাদী করার কারণ জানতে চান বোন মাসুমা ◈ বাজেট অধিবেশন ঘিরে সংসদ ভবন এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র বহন ও মিছিল-সমাবেশ নিষিদ্ধ ◈ এশিয়ান গেমস ক্রিকে‌টে বাংলা‌দেশসহ ১০ দল চূড়ান্ত, অ‌ক্টোব‌রে খেলা হ‌বে জাপা‌নে  ◈ গ‌্যাংস্টার দাউদ ইব্রাহিমের হুম‌কি‌তে আ‌মি প্রস্রাব ক‌রে দেই, আইপিএলের ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা শোনালেন ললিত মো‌দি ◈ আগস্টে ইউপি নির্বাচনের তফসিল, আচরণবিধিতে আসছে বড় পরিবর্তন ◈ হামে ও উপসর্গে মৃত্যু বেড়ে ৬১০, ২৪ ঘণ্টায় প্রাণ গেল আরও ৫ শিশুর ◈ পাহাড়ি অঞ্চলে সফল আর্লি ওয়ার্নিং মডেল: আগাম সতর্কবার্তায় কমছে প্রাণহানি, ভূমিধস মোকাবিলায় নতুন আশার আলো

প্রকাশিত : ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ০৬:৫৭ বিকাল
আপডেট : ০৫ জুন, ২০২৬, ০৬:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

দীর্ঘদিন সিসিএস না থাকায় রেলে দাপ্তরিক স্থবিরতা

এম আর আমিন, চট্টগ্রাম : দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ রেলওয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদ ‘প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক (সিসিএস)’ শূন্য থাকায় দাপ্তরিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নীতিনির্ধারণ সংক্রান্ত বহু গুরুত্বপূর্ণ ফাইল আটকে থাকায় সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোতে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সিসিএস পদটি রেলওয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদ। এ পদ শূন্য থাকায় বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রমে ধীরগতি নেমে এসেছে।

রেলওয়ের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সিসিএস না থাকায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ ফাইল দীর্ঘদিন ধরে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী এসব সিদ্ধান্ত ওই পদের কর্মকর্তার মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও পদটি শূন্য থাকায় কার্যক্রম এগোচ্ছে না।
গত ২২ দিন ধরে পদটি শূন্য রয়েছে। ফলে রেলের যন্ত্রাংশসহ প্রয়োজনীয় কেনাকাটা কার্যত বন্ধ হয়ে আছে। দ্রুত কার্যক্রম চালু না হলে এর প্রভাব নিরাপদ রেল চলাচলে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে রেলের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। যন্ত্রাংশ সংকটে রেল চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে বিষয়টিকে সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বলেও মনে করছেন রেলওয়ে শ্রমিক দলের নেতারা।

দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন মাধ্যম রেল। প্রতিদিন লাখো মানুষ যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনের জন্য রেলের ওপর নির্ভরশীল। অথচ এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সিসিএস পদ শূন্য থাকায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

সিসিএস পদটি মূলত রেলওয়ের যন্ত্রাংশ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিতরণের কেন্দ্রবিন্দু। একটি ট্রেন সচল রাখতে অসংখ্য যন্ত্রাংশ নিয়মিত পরিবর্তন বা মেরামতের প্রয়োজন হয়। ইঞ্জিন, বগি, সিগন্যালিং সিস্টেম থেকে শুরু করে ছোট যান্ত্রিক উপকরণ—সবকিছু সময়মতো সংগ্রহ করা না গেলে রেল চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে বাধ্য। অথচ দীর্ঘ ২২ দিন ধরে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে কেউ দায়িত্ব পালন না করায় যন্ত্রাংশ ক্রয় ও সরবরাহ সংক্রান্ত কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।

সূত্র জানায়, সিসিএস দপ্তরের অনুমোদন ছাড়া বড় ধরনের যন্ত্রাংশ ক্রয় প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া যায় না। ফলে চলমান অনেক ক্রয় প্রক্রিয়া আটকে আছে। এর আগে ২০২৪ সালে সরকার পতনের পর বরাদ্দ প্রাপ্তি ও প্রশাসনিক জটিলতায় কেনাকাটা স্থবির হয়ে পড়ে। তার প্রভাবে ২০২৫ সালে রেল মারাত্মক যন্ত্রাংশ সংকটে পড়ে। বিভিন্ন সময়ে ইঞ্জিন বিকল হয়ে সিডিউল বিপর্যয়সহ নানা ঘটনা ঘটে। সেই ধকল এখনো পুরোপুরি কাটেনি। এরই মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এ পদটি খালি থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।

জানা যায়, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি সিসিএসের দায়িত্ব নেন বেলাল হোসেন সরকার। সে সময় পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ না থাকায় প্রয়োজনীয় কেনাকাটা সম্ভব হয়নি। পরে অর্থ বরাদ্দ এলেও পিপিআর জটিলতায় সময়ক্ষেপণ হয়। চলতি বছর নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর কেনাকাটা স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও গত ১৫ মার্চ এক অফিস আদেশে পশ্চিমাঞ্চলের সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক (সিওএস) মো. আনোয়ারুল ইসলামকে সিসিএসের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং বেলাল সরকারকে ওএসডি করা হয়। পরে ২ এপ্রিল সেই আদেশ আংশিক বাতিল করে আনোয়ারুল ইসলামকে তার আগের পদে ফিরিয়ে নেওয়া হলেও সিসিএস পদে কাউকে পদায়ন করা হয়নি। ফলে এখনো পদটি শূন্য রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যন্ত্রাংশের সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে তার প্রভাব সরাসরি ট্রেন চলাচলের ওপর পড়বে। একটি ইঞ্জিন বা বগির ক্ষুদ্র ত্রুটিও সময়মতো মেরামত না হলে বড় দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই সিসিএস পদ দীর্ঘদিন শূন্য থাকা শুধু প্রশাসনিক সমস্যা নয়, এটি যাত্রী নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি।

এদিকে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা রয়েছে, সিসিএস পদটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী হওয়ায় এটি অনেকের কাছে লোভনীয়। অতীতে এ ধরনের পদে নিয়োগকে ঘিরে তদবীর ও প্রতিযোগিতার ঘটনা থাকলেও এবার তেমন তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। ফলে পদটি দীর্ঘদিন খালি রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, দায়িত্বশীল কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতে অনেক সিদ্ধান্ত ঝুলে আছে। মাঠপর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে কর্মকর্তারা জটিলতার মুখে পড়ছেন। এতে কাজের গতি কমে যাচ্ছে এবং কর্মপরিকল্পনা ব্যাহত হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, রেলওয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে কৌশলগত পদ দীর্ঘদিন খালি থাকা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও কার্যকর নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে এ পদে যোগ্য কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়া জরুরি।

এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা জানান, কেনাকাটার ধারাবাহিকতা রক্ষায় অন্তত ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দিয়ে হলেও দ্রুত পদটি পূরণ করা উচিত। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ পদ দীর্ঘদিন খালি না রাখতে সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন প্রয়োজন।

এ বিষয়ে জানতে  বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) মো. আফজাল হোসেন ও রোলিং স্টকের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি, আরএস) ফকির মো. মহিউদ্দিনের মোবাইলে একাধিকবার কল করেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়