রাঙামাটির লংগদু উপজেলায় একটি বয়স্ক পুরুষ বন্যহাতির মৃত্যুর পর তার দেহ থেকে অঙ্গ চুরির ঘটনা ঘটেছে। ময়নাতদন্ত করার আগেই রাতের অন্ধকারে দুর্বৃত্তরা মৃত হাতিটির শুঁড় ও একটি পেছনের পা কেটে নিয়ে গেছে। এদিকে, মারা যাওয়ার ৪৮ ঘণ্টা পার হলেও দুর্গম পথ ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে এখনও প্রাণীটির ময়নাতদন্ত করা সম্ভব হয়নি।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিমের সদস্যরা বন বিভাগকে মৃত হাতিটির খবর দেন। স্থানীয় ও বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, হাতিটি দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিল। ২০২৪ সালে প্রথম অসুস্থ হওয়ার পর বন বিভাগ এবং চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় (সিভাসু)-এর চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে সে সুস্থ হয়ে ওঠে। এ বছরও দুই দফায় তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল। এটি ছিল ওই এলাকার সবচেয়ে বয়স্ক ও বড় হাতিগুলোর একটি।
হাতিটি মারা যাওয়ার পর এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। টানা দুই দিন ধরে তার সঙ্গী একটি স্ত্রী হাতি মৃতদেহটি আগলে রেখে সেখানেই অবস্থান করছিল। এ সময় অনেক উৎসুক মানুষ সেখানে ভিড় করে এবং হাতিটিকে উত্তেজিত করার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বন বিভাগের পাবলাখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম জানান, গত রাতে স্ত্রী হাতিটি বনে ফিরে গেলে মৃতদেহটি একা পড়ে ছিল। এই সুযোগে গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা হানা দিয়ে হাতিটির শুঁড় ও একটি পেছনের পা কেটে নিয়ে যায়। বন বিভাগের প্রহরী সকালে গিয়ে বিষয়টি দেখতে পান।
শরীফুল ইসলাম বলেন, 'একজন প্রহরীর পক্ষে শত শত মানুষকে সামলানো সম্ভব নয়। রাতে নিরাপত্তার কারণে প্রহরী ঘটনাস্থল ত্যাগ করলে দুর্বৃত্তরা এই সুযোগ নেয়। আমরা তদন্ত করে দোষীদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেব।'
এদিকে, ভারী বৃষ্টির ও সড়ক ব্যবস্থার অবনতিতে ময়নাতদন্তে নিয়োজিত চিকিৎসক দল সময়মতো পৌঁছাতে পারছে না। বন বিভাগ জানিয়েছে, ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে এবং এরপরই মৃতদেহটি যথাযথ প্রক্রিয়ায় মাটিচাপা দেওয়া হবে। এ ঘটনায় বন বিভাগের পক্ষ থেকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।