সানজিদা রুমা, নরসিংদী : নরসিংদীতে ছোট ভাই হাসান (২৬) এর হাতে বড় ভাই আল আমিন (৩০) খুন হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার সকালে নরসিংদী শহরের সাটিরপাড়া এলাকার একটি পেট্রোল পাম্পের সামনে।
নিহত বড় ভাই আল আমিন ও ঘাতক তার ছোট ভাই হাসান নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার নিলক্ষা ইউনিয়নের আতশআলি বাজারের বাসিন্দা নুর ইসলামের ছেলে। তারা শহরের চৌয়ালা এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালাতেন।
নিহতের স্বজনরা জানায়, হাসান ও আল আমিনরা ৫ ভাই ও ২ বোন। তারা নরসিংদী শহরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে| দীর্ঘদিন যাবত চৌয়ালার বাসিন্দা হাবিবের ছেলে নাইম প্রেমের প্রস্তাব দিচ্ছিল তাদের বোন দুই সন্তানের জননী তাসলিমা বেগমকে। কিন্তু নাইমের প্রেমের প্রস্তাবে তাসলিমা রাজি হচ্ছিল না। এই নিয়ে দীর্ঘদিন নাইমের সাথে বিরোধ ছিল ভাইদের| এই বিরোধে নাইমের ভয়ে সম্প্রতি তারা গ্রামের বাড়ি চলে গিয়েছিলো| গত ৩ দিন আগে বড় ভাই আল-আমিন স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় নাইমের সাথে এ ঘটনা মিমাংসা করে চৌয়ালার একটি ভাড়া বাসায় উঠে| কিন্তু তার ছোট ভাই হাসান এটা মেনে নিতে পারে নি। সকালে আল আমিন বাজার করতে বের হলে সাটিরপাড়া এলাকায় আজাদ ফিলিং স্টেশনের সামনে ছোট ভাই হাসান তাকে কেঁচি দিয়ে পেটে একাধিক আঘাত করলে সে গুরুতর আহত হয়| পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।
নিহতের স্ত্রী শিল্পী বেগম বলেন, ছোট দেবরের সঙ্গে নাইমের অনেক দিন ধরে দ্বন্দ্ব ছিল| পরে আমরা সবাই মিলে বিষয়টি মীমাংসা করি| কিন্তু নাইম আমার ননদ তাসলিমার ফোন নম্বর সংগ্রহ করে তাকে বারবার ফোন দিয়ে বিরক্ত করতে শুরু করে| একপর্যায়ে বিয়ে না করলে আমার দেবরকে হত্যা করার হুমকি দেয়| এ ঘটনার পর আমাদের নরসিংদী থেকে গ্রামে পাঠিয়ে দেওয়া হয়| তিন দিন আগে মীমাংসা করে আবার নরসিংদীতে আসি| কিন্তু আমার দেবর মীমাংসার পক্ষে ছিলনা| এতে আমার স্বামীএকাই মিমাংসা করে শহরে চলে আসে| আর মিমাংসার পক্ষে না থাকায় ছোট ভাই হাসান শহরে আসতে পারবে না চিন্তা করে রাগে ক্ষোভে আমার স্বামীকে ছোট ভাই হত্যা করেছে| ঘটনার আগের রাতে আমার স্বামীকে ফোন করে হুমকি দেয়, "তোর রক্ত দিয়ে আমি গোসল করব" হাসান বলে, তুই যখন প্যাঁচ ভেঙে গেছিস, আমাদের চিন্তা করিস না, তাহলে তোর মতো ভাইয়ের দরকার নাই| আমি যদি নুরুর সন্তান হয়ে থাকি, তাহলে তোর রক্ত দিয়ে গোসল করব| পরদিন সকালে বাজারে গেলে তাকে হত্যা করা হয়| আমি স্বামী হত্যার বিচার চাই।
নরসিংদী জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ফরিদা গুলশানারা কবির বলেন, সকালে আল আমিন নামে একজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় আনা হলে আমরা তাকে মৃত অবস্থায় পাই। তার পেটে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ছিল| ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে।
নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ আর এম আল মামুন জানান , হত্যাকান্ডের ঘটনায় ঘাতক ছোট ভাই হাসান ও নাইমকে আটক করা হয়েছে। মামলা দায়েরের পর তাদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হবে। নাইমের নামে বিভিন্ন থানায় ১৩টি মামলা রয়েছে।