শিরোনাম
◈ বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া ওয়ানডে সিরিজের ম্যাচ দেখা যা‌বে সর্বনিম্ম ২০০ টাকায়  ◈ ঝুঁকিতে বিশ্বের ১৫ দেশ: আগামী ৫০ বছরে হারিয়ে যেতে পারে পৃথিবীর মানচিত্র থেকে ◈ আপা ডাকায় নয়, পুরোনো বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি: সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশা ◈ শার্শায় আইনজীবী মিন্টুকে গ্রেফতারচেষ্টা, গ্রামবাসীর বাধায় ব্যর্থ পুলিশ ◈ বিদেশি বিনিয়োগ আনা বাংলাদেশিদের পুরস্কৃত করবে সরকার ◈ জাপানি কনসোর্টিয়ামের সাথে চুক্তি ১৯ জুলাইয়ের মধ্যে, ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে চালু হচ্ছে শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল ◈ ইন্টারপোল রেড নোটিশভুক্ত নজরুল ইসলাম লিবিয়ায় গ্রেফতার ◈ এই বিজয় বাংলাদেশ ও গণতন্ত্রের বিজয়: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ-হত্যা: যে কারণে স্বপ্না হঠাৎ স্বামী সোহেল রানাকে মারতে তেড়ে যান ◈ তোফায়েলের জানাজা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক, মুখ খুললেন হাছান মাহমুদ

প্রকাশিত : ১১ মে, ২০২৬, ০৮:৫৮ রাত
আপডেট : ০১ জুন, ২০২৬, ০৮:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

টিকটক তারকা নয়, বানাতে চেয়েছিল যৌনকর্মী : ফরিদপুরে পাচারকারীর জেল

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুরে এক কিশোরীকে (১৬) টিকটক তারকা ও মডেল বানানোর প্রলোভন দেখিয়ে পতিতালয়ে বিক্রির দায়ে আদল কাজী (৫৪) নামের এক ব্যক্তিকে সশ্রম দুটি ধারায় পাঁচ বছর ও সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দুটি ধারায়ই তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এই টাকা অনাদায়ে তাকে আরও ছয়মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। দুটি সাজা একসঙ্গে ভোগ কার্যকর হওয়ায় তিনি সাত বছর কারাদণ্ড ভোগ করবেন।

সোমবার (১১ মে) দুপুরে ফরিদপুরের মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এই রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আদল কাজী ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার পূর্ব গঙ্গাবর্দী এলাকার মৃত ইমান কাজীর ছেলে। রায় ঘোষণার সময় আসামি পলাতক ছিলেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনের ১০ ধারায় আসামিকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। এ ছাড়া একই আইনের ১১ ধারায় তাকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেন বিচারক। দুটি সাজা একই সঙ্গে চলবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার নথিপত্র থেকে জানা গেছে, ২০২১ সালের ২০ জুলাই ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীকে উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে এবং টিকটক মডেল বানানোর প্রলোভন দিয়ে বাড়ি থেকে অপহরণ করা হয়। পরে তাকে ফরিদপুর শহরের রথখোলা এলাকায় একটি পতিতালয়ে চড়া দামে বিক্রি করে দেওয়া হয়। সেখানে তাকে আটকে রেখে জোরপূর্বক দেহব্যবসায় বাধ্য করা হচ্ছিল।

ঘটনাটি জানতে পেরে ২০২১ সালের ২৭ জুলাই রাতে র‍্যাব-৮ এর একটি দল রথখোলা এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে ওই কিশোরীকে উদ্ধার করা হয় এবং হাতেনাতে আদল কাজীকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই রাতেই র‍্যাব-৮ এর ডিএডি মো. আবুল বাশার বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় আদল কাজী ছাড়াও সুমন ওরফে রাসেল নামের এক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছিল।

মামলাটি তদন্ত করেন ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শ্রী প্রসাদ কুমার চাকী। তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তিনি আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, আসামি আদল কাজী সংঘবদ্ধ মানব পাচার চক্রের সদস্য এবং তিনি কৌশলে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে নারীদের সংগ্রহ করে দেহব্যবসায় বাধ্য করতেন। তবে মামলার অন্য আসামি সুমনের সঠিক নাম-ঠিকানা না পাওয়ায় তাকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করা হয় এবং কেবল আদল কাজীকে অভিযুক্ত করে বিচার শুরু হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ওই আদালতের পিপি গোলাম রব্বানী বলেন,এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়