শিরোনাম
◈ বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া ওয়ানডে সিরিজের ম্যাচ দেখা যা‌বে সর্বনিম্ম ২০০ টাকায়  ◈ ঝুঁকিতে বিশ্বের ১৫ দেশ: আগামী ৫০ বছরে হারিয়ে যেতে পারে পৃথিবীর মানচিত্র থেকে ◈ আপা ডাকায় নয়, পুরোনো বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি: সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশা ◈ শার্শায় আইনজীবী মিন্টুকে গ্রেফতারচেষ্টা, গ্রামবাসীর বাধায় ব্যর্থ পুলিশ ◈ বিদেশি বিনিয়োগ আনা বাংলাদেশিদের পুরস্কৃত করবে সরকার ◈ জাপানি কনসোর্টিয়ামের সাথে চুক্তি ১৯ জুলাইয়ের মধ্যে, ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে চালু হচ্ছে শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল ◈ ইন্টারপোল রেড নোটিশভুক্ত নজরুল ইসলাম লিবিয়ায় গ্রেফতার ◈ এই বিজয় বাংলাদেশ ও গণতন্ত্রের বিজয়: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ-হত্যা: যে কারণে স্বপ্না হঠাৎ স্বামী সোহেল রানাকে মারতে তেড়ে যান ◈ তোফায়েলের জানাজা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক, মুখ খুললেন হাছান মাহমুদ

প্রকাশিত : ১৮ মে, ২০২৬, ০৬:১৩ বিকাল
আপডেট : ০৪ জুন, ২০২৬, ১০:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

সংযোগ সড়ক নেই, ৩ বছরেও চালু হয়নি ১০ কোটি টাকার সেতু

নরসিংদীর মনোহরদী ও গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল একটি সেতুর। ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর নির্মাণও হলো সেতুটি। এতে ব্যয় ১০ কোটি টাকা। তিন বছর আগেই শেষ হয় সেতুর নির্মাণকাজ। কিন্তু এখনো চালু হয়নি বহুল কাঙ্ক্ষিত সেতুটি। কারণ দুই পাশে নেই সংযোগ সড়ক। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন দুই পাড়ের লাখো মানুষ।

২০২২ সালে সেতুটি নির্মাণ করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। মনোহরদী উপজেলার আশাদনগর ও কাপাসিয়া উপজেলার সিংগুয়া গ্রামের মধ্যবর্তী ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর নির্মিত হয় এই ব্রিজ। তবে সংযোগ সড়কের কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় সেতুটি এখন পর্যন্ত কোনো কাজে আসছে না জনসাধারণের।

বর্তমানে নারী, শিশু, শিক্ষার্থী ও রোগীসহ হাজারো মানুষকে ঝুঁকি নিয়ে রশি ধরে নৌকায় নদী পার হতে হচ্ছে। প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায় বর্ষা মৌসুমে।

সব সময় মাঝি পাওয়া যায় না। রশি ধরে নৌকায় চলাচল করতে খুব কষ্ট হয়। একটু অসাবধান হলেই দুর্ঘটনা ঘটে। এত বড় সেতু বানিয়ে যদি মানুষ ব্যবহারই করতে না পারে, তাহলে লাভ কী?
কাপাসিয়ার বাগুয়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল আউয়ালের মন্তব্য, ‘সেতুর কাজ প্রায় তিন বছর আগেই শেষ হয়েছে। কিন্তু দুই পাশের রাস্তা না থাকায় মানুষের দুর্ভোগ কমেনি। কোটি কোটি টাকা খরচ করেও সেতুটি এখনো কোনো কাজে আসছে না।’

এই সেতুর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরলেন সিংগুয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী সাজেদুল হক।

তার মন্তব্য, ‘এই সেতুটি মনোহরদী ও কাপাসিয়ার মানুষের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের স্কুলে ওপারের অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। কিন্তু রাস্তার কাজ শেষ না হওয়ায় এখনো কষ্ট করে চলাচল করতে হচ্ছে। দ্রুত সংযোগ সড়কের কাজ শেষ করে সেতুটি চালুর দাবি জানালেন সাজেদুল।

সংযোগ সড়ক নির্মাণে জমি-সংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হয়েছে। নতুন করে সড়ক নির্মাণের চূড়ান্ত পরিকল্পনাও এখনো সম্পন্ন হয়নি। এ বিষয়ে সংশোধিত প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সেতু নির্মাণের তিন বছর পার হওয়ার পরও কাজে না আসায় ক্ষোভ ঝাড়লেন মনোহরদী উপজেলার আশাদনগর গ্রামের মো. জালাল উদ্দিন।

‘বয়স হয়ে গেছে, সব সময় মাঝি পাওয়া যায় না। রশি ধরে নৌকায় চলাচল করতে খুব কষ্ট হয়। একটু অসাবধান হলেই দুর্ঘটনা ঘটে। এত বড় সেতু বানিয়ে যদি মানুষ ব্যবহারই করতে না পারে, তাহলে লাভ কী?’ প্রশ্ন জালাল উদ্দিনের।

এমন ক্ষোভ শুধু জালালের নয়, মনোহরদী ও কাপাসিয়ার দুই পাড়ের বাসিন্দাদের। দ্রুত সংযোগ সড়কের কাজ শেষ করে সেতুটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়ে আসছেন তারা।

নানা জটিলতার কারণে তিন বছরেও সেতুটি চালু করা সম্ভব হয়নি, বললেন মনোহরদী উপজেলা প্রকৌশলী হরষিত কুমার সাহা।

‘সংযোগ সড়ক নির্মাণে জমি-সংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হয়েছে। নতুন করে সড়ক নির্মাণের চূড়ান্ত পরিকল্পনাও এখনো সম্পন্ন হয়নি। এ বিষয়ে সংশোধিত প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। দ্রুত বাকি কাজ শেষ করে চলাচলের উপযোগী করা হবে সেতুটি’— যোগ করলেন হরষিত কুমার সাহা।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়