জামাল হোসেন খোকন : চুয়াডাঙ্গায় মৌসুমের শুরুতেই আমের বাজারে দাম কমে যাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। জেলার চারটি উপজেলায় গত ৫ মে থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আম সংগ্রহ শুরু হলেও এক মাসের ব্যবধানে বাজারে আমের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এতে উৎপাদন খরচ তুলতে পারবেন কি না, তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন চাষিরা।
কৃষকদের অভিযোগ, গত বছরের তুলনায় এ বছর আম চাষে সার, কীটনাশক ও পরিচর্যা বাবদ খরচ কয়েক হাজার টাকা বেড়েছে। অথচ বাজারে আমের ন্যায্যমূল্য পাওয়া যাচ্ছে না। গত বছর প্রতি মণ হিমসাগর আম ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হলেও এ বছর একই আম বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকায়।
অন্যদিকে বাজারের আড়তদার ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমের পরিপক্বতা ঠিক না থাকা এবং বাজারে সরবরাহ বেশি থাকায় চাহিদা কমেছে। এছাড়া সাতক্ষীরা, রাজশাহী ও চুয়াডাঙ্গাসহ বিভিন্ন জেলায় প্রায় একই সময়ে আম সংগ্রহ শুরু হওয়ায় বাজারে একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ আম আসছে। ফলে দাম কমে যাচ্ছে।
স্থানীয় ফল ব্যবসায়ী ও আড়তদারদের দাবি, বিভিন্ন জেলায় পর্যায়ক্রমে আম সংগ্রহের তারিখ নির্ধারণ করা হলে বাজারে সরবরাহের ভারসাম্য বজায় থাকত এবং কৃষকরাও ভালো দাম পেতেন।
চাষিরা জানান, বর্তমান বাজার পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন। এতে আগামী বছর অনেক কৃষক আম চাষে আগ্রহ হারাতে পারেন বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
চুয়াডাঙ্গা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জানান, এ বছর জেলায় ২ হাজার ২০৩ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩০ হাজার ৬৯৭ মেট্রিক টন। তিনি বলেন, কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।