শিরোনাম
◈ মার্কিন অবরোধের প্রভাব: ভিসা-মাস্টারকার্ড লেনদেন স্থগিতের ঘোষণা কিউবার ◈ মেডিকেলের ছাত্রীরা বছরের পর বছর যৌন হয়রানির শিকার, কমপক্ষে ৩০ জনের অভিযোগ ◈ দ‌ক্ষিণ আ‌ফ্রিকার টি-টোয়েন্টিতে খেল‌বেন রিশাদ হো‌সেন! ◈ ১৩ বছর পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের মা‌টি‌তে ওয়ান‌ডে জ‌য়ের স্বাদ পে‌লো  শ্রীলঙ্কা ◈ নতুন-পুরনো সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা: এনআইডি ব্লকের প্রস্তুতি, নতুন তালিকা হচ্ছে, নজরদারিতে স্বজনরাও ◈ বিদ্যুৎ দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে আজ সারা দেশে জামায়াতের বিক্ষোভ ◈ বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ডিসেম্বরে নিউজিল্যান্ড সফ‌রে যাচ্ছে ◈ লিও‌নেল মে‌সি স্পেনের মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার জিতলেন, বা‌র্সেলোনার অভিনন্দন ◈ রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলা: যুক্তিতর্ক শুনানি আজ ◈ মমতার বিস্ফোরক মন্তব্যেও নীরব দিল্লি, বক্তব্য নেই বিজেপির

প্রকাশিত : ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১২:৩৫ দুপুর
আপডেট : ৩১ মে, ২০২৬, ১০:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

দেশজুড়ে সহিংসতা ও অবৈধ অস্ত্রের দাপট বাড়ছে: নির্বাচনী সময়েও হামলা–গুলিবর্ষণে চরম উদ্বেগ

ছবিঃ বণিক বার্তা

সহযোগীদের খবর: দেশে খুন-সহিংসতার মতো ঘটনা বেড়েই চলেছে। এমনকি নির্বাচনী প্রচারণার সময়ও প্রার্থীদের ওপর গুলিবর্ষণসহ হামলার ঘটনা ঘটছে। হাতে অবৈধ অস্ত্র থাকায় অপরাধীরা এমন ঘটনা ঘটানোর সুযোগ পাচ্ছে। এতে জনমনে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বাড়ছে। সূত্র: বণিক বার্তা প্রতিবেদন

গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের দিন গত বছরের ৫ আগস্ট দেশের বিভিন্ন থানা থেকে লুট হওয়া এক হাজারের বেশি অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি। এসব অস্ত্র উদ্ধারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়। কিন্তু সুফল মেলেনি। উল্টো লুটের অস্ত্র দিয়ে ঘটছে খুন-খারাবি। এমনকি লুট হওয়া এসব অস্ত্র দিয়ে থানা ভবনে হামলার ঘটনাও ঘটেছে। এছাড়া কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের নামে থাকা লাইসেন্স করা অস্ত্রগুলোরও সন্ধান বের করতে পারেনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। উল্টো নির্বাচন সামনে রেখে বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে মর্টার শেল, এসএমজির মতো ভারী অস্ত্র ও গোলাবারুদ দেশে প্রবেশ করানো হচ্ছে বলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তফসিল ঘোষণার পর দিন গত শুক্রবার ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে রাজধানীর বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট এলাকায় গুলি করে মোটরসাইকেল আরোহী দুর্বৃত্তরা।

এর আগে গত ৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার খন্দকারপাড়া এলাকায় ওই আসনের বিএনপির প্রার্থী ও নগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহর নির্বাচনী জনসংযোগে গুলি করার ঘটনা ঘটে। এ সময় বিএনপি প্রার্থীর সঙ্গে থাকা তার কর্মী সরোয়ার হোসেন ওরফে বাবলা নিহত হন। গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন এরশাদ উল্লাহসহ আরো পাঁচজন। এসব ঘটনা সুষ্ঠু নির্বাচনের ক্ষেত্রে একটি অশনিসংকেত হিসেবে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

পুলিশ সদর দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, গত বছরের ৫ আগস্ট দেশের বিভিন্ন থানাসহ পুলিশের বিভিন্ন স্থাপনা থেকে ৫ হাজার ৭৬৩টি আগ্নেয়াস্ত্র লুট হয়। এর মধ্যে ৪ হাজার ৪২৩টি উদ্ধার হয়েছে। এখনো উদ্ধার হয়নি ১ হাজার ৩৪০টি। আগ্নেয়াস্ত্র ছাড়াও সে সময় থানা থেকে ৬ লাখ ৫২ হাজার ৮টি বিভিন্ন ধরনের গোলাবারুদ লুট করা হয়। এর মধ্যে ৩ লাখ ৯৪ হাজার ৭২৮টি গুলি উদ্ধার হয়েছে। এখনো ২ লাখ ৫৭ হাজার ২৮০টি গুলি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পুলিশের এ তালিকার বাইরেও স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) বেশকিছু অস্ত্র-গোলাবারুদ ওই সময়ে লুট হয় বা খোয়া যায়, সেগুলোও সব উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। লুট হওয়া এসব অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশ, সেনাবাহিনী, র‌্যাবসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানায়, থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র দিয়ে গত আগস্টে মুন্সিগঞ্জের একটি পুলিশ ক্যাম্পে হামলা করে ডাকাত দল। এ সময় ব্যাপক গোলাগুলিও হয়। পরে সেখান থেকে লুটের বেশকিছু অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রের সঙ্গে গণ-অভ্যুত্থানের সময় পালিয়ে যাওয়া সন্ত্রাসীদের অস্ত্রও যোগ হয়েছে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র প্রবেশ করেছে এমন তথ্যও আছে তাদের কাছে। নাম না প্রকাশের শর্তে পুলিশের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, প্রতিবেশী দুই দেশ থেকেই অস্ত্র আসছে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, বিদেশী অস্ত্রের চালানের পাশাপাশি দেশী অস্ত্র বিক্রেতাদের রয়েছে নির্দিষ্ট কিছু সিন্ডিকেট। তাই এসব অস্ত্র কারা কীভাবে আনছে এবং সন্ত্রাসীদের রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় কারা দিচ্ছে, সেদিকে বিশেষ নজর রাখতে হবে। পাশাপাশি সম্মিলিতভাবে দুর্বৃত্তদের প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে হবে। আর পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্রসহ বৈধ-অবৈধ সব অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান জোরদার করতে হবে।

সন্ত্রাসীদের তালিকা নিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের একটি প্রতিবেদনের তথ্যে বলা হয়েছে, আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর প্রচারণায় বাধা দেয়া, ভোটারদের ভয় দেখানো বা বিরোধী পক্ষকে চাপে রাখতে আন্ডারওয়ার্ল্ডের সদস্যদের ভাড়াটে হিসেবে ব্যবহারের ঝুঁকি আছে। দীর্ঘদিন ধরে দেশের বাইরে বা আত্মগোপনে থাকা শীর্ষ সন্ত্রাসীরা এবার নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন করে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করতে পারে। বিভিন্ন গ্রুপের মধ্যে এলাকাভিত্তিক সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, জবরদখল, আধিপত্য বিস্তার, রেষারেষি ও পূর্ব শত্রুতা রয়েছে। এ বিরোধ কাজে লাগিয়ে কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নেতারা সুযোগ নিচ্ছেন।

এতে আরো বলা হয়, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর শীর্ষ সন্ত্রাসী আব্বাস আলী ওরফে কিলার আব্বাস, সুইডেন আসলাম, ইমামুল হাসান হেলাল ওরফে পিচ্চি হেলাল, সানজিদুল ইসলাম ওরফে ইমন, খন্দকার নাঈম আহমেদ ওরফে টিটন, খোরশেদ আলম ওরফে ফ্রিডম রাসু কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান। আর মোল্লা মাসুদ ভারত থেকে দেশে ফিরে আসেন। আমেরিকা থেকে দেশে ফেরেন আমিন রসুল সাগর ওরফে টোকাই সাগর। এরপরই তারা এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া হয়ে ওঠে। জেলে থাকা অবস্থায় যেসব ক্যাডার তাদের কথামতো চলত এবং টাকা ওঠাত তাদের ডেকে নেয়া হয় সন্ত্রাসীদের আস্তানায়। তাদের কাছে এলাকাভিত্তিক টাকা আদায়ের তালিকা চাওয়া হলে এরপর তারা বেঁকে বসেন। তারা আগের মতো চাঁদার ভাগ দিতে রাজি হলেও এলাকার পুরো নিয়ন্ত্রণ দিতে অনেকে অস্বীকার করেন। এ নিয়ে তাদের অনেকের মধ্যে চরম মনোমালিন্য দেখা দিয়েছে। সেই মনোমালিন্য থেকে খুনোখুনিও হচ্ছে।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে পাচারের সময় দেশের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে মোট ১ হাজার ২২৫টি অস্ত্র, গুলি ও ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে গত জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত চার মাসে উদ্ধার হয়েছে ৯৭টি অস্ত্র, গুলি ও ম্যাগাজিন। বাকি ১ হাজার ১২৮টি অস্ত্র, গুলি ও ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয় গত মে মাস থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ পাঁচ মাসে। এ সময় জব্দ হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে দুটি এসএমজি। এছাড়া রয়েছে তিনটি মর্টার শেল, ১১টি রিভলবার, ১৯টি পিস্তল, পাঁচটি শটগান। প্রাণঘাতী এসব অস্ত্র ছাড়াও এ বছরের প্রথম নয় মাসে সীমান্ত থেকে ১ হাজার ১০৮ রাউন্ড বিভিন্ন ধরনের গুলি উদ্ধার হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৩১ রাউন্ডই উদ্ধার হয়েছে মে থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে। এছাড়া এ সময় বিপুলসংখ্যক ম্যাগাজিনও উদ্ধার হয়েছে সীমান্ত এলাকা থেকে। পাশাপাশি দেশী পিস্তল, রাইফেলসহ অন্যান্য আরো বেশকিছু অস্ত্র সীমান্তে জব্দ হয়। জব্দ হওয়া অস্ত্রের কয়েক গুণ বেশি অস্ত্র দেশের অভ্যন্তরে পাচার হয়ে যায় বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। রাজনৈতিক দলগুলো রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। সারা দেশেই চলছে দলীয় প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা একাধিক বৈঠক করছেন। সম্প্রতি ঢাকাসহ বিভাগীয় শহরগুলোয় হত্যাকাণ্ড, চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন সরকারের হাইকমান্ড। ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ কয়েকটি স্থানে হত্যাকাণ্ড ও গুলির ঘটনার পেছনে আন্ডারওয়ার্ল্ডের শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নাম উঠে এসেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ জুলাই রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় ১ ঘণ্টার ব্যবধানে দুজনকে হত্যার ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে মোহাম্মদপুর নবোদয় হাউজিং এলাকায় মো. ইব্রাহিম নামের এক যুবককে গুলি করে হত্যা করা হয়। রাত ৯টার দিকে মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যানে আল আমিন নামের আরেক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। এর আগে ২৫ মে রাতে বাড্ডার গুদারাঘাট এলাকায় বিএনপি নেতা কামরুল আহসানকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তিনি গুলশান থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। ২০ মার্চ রাতে গুলশানে পুলিশ প্লাজার সামনে সুমন মিয়া নামের এক যুবককে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। তিনি ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ দেয়ার ব্যবসা করতেন। ৩১ মার্চ সাভারে মো. রুবেল নামের এক নিরাপত্তাকর্মীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। গত ১ আগস্ট মহাখালীতে মুখোশপরা দুই ব্যক্তির ছোড়া গুলিতে আহত হন বক্ষব্যাধি হাসপাতালের কর্মচারী ইউনিয়নের নেতা জামাল হোসেন। এছাড়া ১৭ নভেম্বর মিরপুর ১২ নম্বর সেকশনের সি-ব্লকে দোকানে ঢুকে পল্লবী থানা যুবদলের সদস্য সচিব গোলাম কিবরিয়াকে (৪৭) গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

দুর্বৃত্তদের হামলা ও হত্যার লক্ষ্যবস্তু শুধু রাজনৈতিক নেতারাই নন, হচ্ছেন সাধারণ মানুষও। এমনকি শীর্ষ সন্ত্রাসীরাও নিজেদের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এক গ্রুপ আরেক গ্রুপের ওপর হামলা চালাচ্ছে। সবশেষ পুরান ঢাকার আদালতে হাজিরা দিয়ে ফেরার সময় শীর্ষ সন্ত্রাসী মামুনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এছাড়া সম্প্রতি মোহাম্মদপুরে বাসায় ঢুকে মা ও মেয়েকে হত্যার বিষয়টিও দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে।

তফসিল ঘোষণার একদিনের মধ্যে প্রার্থীর ওপর গুলির ঘটনা সুষ্ঠু নির্বাচনের ক্ষেত্রে একটি অশনিসংকেত হিসেবে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক। তিনি বলেন, ‘তফসিল ঘোষণার একদিনের মধ্যে ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক ওসমান হাদির ওপর হামলা বা প্রকাশ্যে গুলি করা সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে একটি অশনিসংকেত। সেই প্রেক্ষাপটে আমরা এ ঘটনার সঙ্গে যারা অভিযুক্ত তাদের আইনের আওতায় আনা দেখতে চাই। অন্য ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রেও অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। আমাদের দেশে একটা প্রবণতা আছে যে কোনো একটা ঘটনা ঘটলে সেটাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখা। তবে এ ঘটনাটাকে এভাবে দেখা যাবে না।’

বিগত সময়ের নির্বাচনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি আরো বলেন, ‘অতীতের নির্বাচনেও সংঘাত-সহিংসতা হয়েছে। তবে এবারের সংঘাত-সহিংসতা ভিন্ন কারণে হচ্ছে। নির্বাচনকেন্দ্রিক যত সমীকরণই থাকুক একটা অংশগ্রহণমূলক এবং স্বচ্ছ নির্বাচন আয়োজনের জন্য যে ধরনের পদক্ষেপ নেয়া দরকার তা আমরা দেখছি না। তাই হাদি ও এরশাদ উল্ল্যার ওপরে হামলা আসলে পুরো নির্বাচন ব্যবস্থার ওপরে হামলা। নির্বাচন কমিশনের বিষয়টিকে গুরুত্ব আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সব অংশীজনকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ করা দরকার। আর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজ হবে যেসব এলাকায় অতীতে সহিংসতা হয়েছে, সেই জায়গায়গুলোয় কাজ করা। তাহলে অপরাধীরা দূরে থাকবে। অপরাধীরা দূরে থাকলে প্রার্থীদের প্রচারণাও সুন্দর হবে। ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়বে।’

এদিকে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের তথ্যমতে, কেবল গত নভেম্বরে দেশে ৭২টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এতে নয়জনের মৃত্যু হয় ও আহত হন ৭২৪ জন। ৪৩টি গণপিটুনির ঘটনায় ১৯ জন মারা যান আর আহত হন ৩৮ জন। এছাড়া এ সময় ৫৮ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে আরো দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে বলে মনে করেন গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের সদস্য, মানবাধিকার কর্মী নূর খান লিটন। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনী প্রচারণার ক্ষেত্রে প্রার্থীদের ওপর হামলা এবং গুলির ঘটনাগুলো নতুন করে চ্যালেঞ্জের সূত্রপাত ঘটিয়েছে। এ ঘটনাগুলো দৃশ্যত অসহিষ্ণু পরিবেশের বার্তা দিচ্ছে। যেভাবে হাদিকে গুলি করা হয়েছে সেটা ঠাণ্ডা মাথায় সুপরিকল্পিতভাবে দক্ষ শুটার করেছে। বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ঘোলাটে অবস্থা বিরাজ করছে। একে অন্যকে যেভাবে ভাষাগত আক্রমণ করছে, তাতে এখানে যদি রাজনৈতিক সমঝোতা না হয়, সে ক্ষেত্রে গণতন্ত্রের বড় ক্ষতি হয়ে যাবে। এখানে সবাইকে এগিয়ে এসে ঐক্যবদ্ধভাবে এসব দুর্বৃত্তায়ন প্রতিরোধ করতে হবে। বিশেষ করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর হতে হবে।’

পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (গণমাধ্যম ও জনসংযোগ) এএইচএম শাহাদাত হোসাইন বলেন, ‘সংসদ নির্বাচনের সময় সহিংসতার বিষয়টি মাথায় রেখে দায়িত্ব পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ। জোরদার করা হয়েছে অস্ত্র উদ্ধার অভিযান। আর গুলির যেসব ঘটনা ঘটছে, সেগুলো গুরুত্ব সহকারে তদন্তের পাশাপাশি জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।’

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়