শিরোনাম
◈ মার্কিন অবরোধের প্রভাব: ভিসা-মাস্টারকার্ড লেনদেন স্থগিতের ঘোষণা কিউবার ◈ মেডিকেলের ছাত্রীরা বছরের পর বছর যৌন হয়রানির শিকার, কমপক্ষে ৩০ জনের অভিযোগ ◈ দ‌ক্ষিণ আ‌ফ্রিকার টি-টোয়েন্টিতে খেল‌বেন রিশাদ হো‌সেন! ◈ ১৩ বছর পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের মা‌টি‌তে ওয়ান‌ডে জ‌য়ের স্বাদ পে‌লো  শ্রীলঙ্কা ◈ নতুন-পুরনো সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা: এনআইডি ব্লকের প্রস্তুতি, নতুন তালিকা হচ্ছে, নজরদারিতে স্বজনরাও ◈ বিদ্যুৎ দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে আজ সারা দেশে জামায়াতের বিক্ষোভ ◈ বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ডিসেম্বরে নিউজিল্যান্ড সফ‌রে যাচ্ছে ◈ লিও‌নেল মে‌সি স্পেনের মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার জিতলেন, বা‌র্সেলোনার অভিনন্দন ◈ রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলা: যুক্তিতর্ক শুনানি আজ ◈ মমতার বিস্ফোরক মন্তব্যেও নীরব দিল্লি, বক্তব্য নেই বিজেপির

প্রকাশিত : ২১ অক্টোবর, ২০২৫, ১০:৩৪ রাত
আপডেট : ০২ জুন, ২০২৬, ০১:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : মনজুর এ আজিজ

ফেব্রুয়ারির মধ্যে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বসবে সোলার প্যানেল!

মনজুর এ আজিজ : আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দিতে সৌর বিদ্যুৎ প্যানেল বসাতে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। আর ফেব্রুয়ারির মধ্যে এসব বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে আনতে হবে। যেসব বিতরণ কোম্পানি ফেল করবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাছাড়া এ প্রক্রিয়ায় কর্মকর্তাদের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করা হবে। আর কোন কর্মকর্তার অসহযোগিতার খবর পেলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. ফাওজুল কবির খান।

মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে বিদ্যুৎ ভবনে এক চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে এমন মন্তব্য করেন তিনি। বিদ্যুৎ বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট ৫ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের (স্বাস্থ্য সেবা বিভা, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, মহিলা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ) মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হয়। তারা মূলত তাদের অধীনে থাকা প্রতিষ্ঠানের ছাদ হস্তান্তর প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করবেন। ওইসব সৌর বিদ্যুতের প্যানেল থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ প্রথমে তারা ব্যবহার করতে পারবেন। উদ্বৃত্ত অংশ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করবেন।

জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচীর উদ্যোগ ‘খ’ অর্থাৎ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্য স্থাপনা: স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও হাসপাতালে ওপেক্স মডেলে বিনিয়োগ, যেখানে প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনো ব্যয় বহন করতে হবে না। এটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ওই চুক্তি করা হয়। ক এবং খ শ্রেণির আওতায় দুই থেকে তিন হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ফাওজুল কবির খান বলেন, দেশে প্রাথমিক জ্বালানির ঘাটতি রয়েছে। প্রতিনিয়ত দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন কমছে। বছরে গড়ে দৈনিক উৎপাদন ২০০ মিলিয়ন কমছে। আমরা গত ৬ মাসে মাত্র ৫০ মিলিয়ন ঘনফুট উৎপাদন বাড়াতে পেরেছি। ঘাটতি মেটাতে এলএনজি আমদানি করছি যা, খুবই ব্যয়বহুল। পাশাপাশি এলএনজি আমদানির অবকাঠামো চ্যালেঞ্জ রয়েছে, ১০৮ কার্গো এলএনজি আনা হয়েছে। আর মাত্র ৭ কার্গো আনা যাবে। অনেক বিদ্যুৎ কেন্দ্র গ্যাসের অভাবে চালাতে পারছি না। এলএনজি আমদানি করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করলে ১৮ থেকে ২০ টাকা খরচ পড়বে, শিল্পে ৪০ টাকার উপরে দাম পড়বে।

তিনি বলেন, এই সংকট থেকে মুক্তির উপায় হচ্ছে নবায়নযোগ্য জ্বালানি। এই কর্মসূচি আমাদের অস্তিত্বের প্রশ্ন, সবর করতেই হবে। ব্যাটারি থাকবে না, গ্রিড কানেক্টেড হবে, যে কারণে ব্যয় কম হবে। ৩ হাজার মেগাওয়াট যদি পাই, তাহলে ব্যয়বহুল বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালাতে হবে না। পৃথিবীর কোন দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ এতো কম না। শ্রীলংকায় ৭৫ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে।

উপদেষ্টা উপস্থিত বিতরণ কোম্পানিগুলোর কাছে টেন্ডার প্রক্রিয়ার অবস্থা জানতে চান। বিদ্যুতের একটি বিতরণ কোম্পানি জানায়, তারা ৩৫দিন সময় দিয়ে দরপত্র আহ্বান করতে যাচ্ছে। জবাবে উপদেষ্টা বলেন, পিপিআর বিধি অনুযায়ী ২৮ দিনের যে সময়সীমা রয়েছে, তার বেশি সময় দেওয়া যাবে না। ২০ নভেম্বর দরপত্র জমার তারিখ চুড়ান্ত করতে হবে। দরপত্র যাচাই-বাছাই করতে হবে ২৬ নভেম্বরের মধ্যে। ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে দরদাতাদের সঙ্গে চুড়ান্ত চুক্তি করতে হবে। ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে বিদ্যুতের উৎপাদন শুরু করতে হবে এর অন্যথা দেখতে চাই না।

তাড়াহুড়ো করা হচ্ছে কি-না? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, সৌর বিদ্যুৎ এখন খুব উচ্চ প্রযুক্তির বিষয় না। এখানে প্যানেল এনে বসিয়ে দিলেই বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করা সম্ভব। এক সময় আমাদের সংস্কৃতি ছিল দফায় দফায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো সঙ্গে ব্যয় বাড়ানো। আমরা সেই সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে চাই।

অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ফারজানা মমতাজ বলেন, সারাদেশে খ শ্রেণির তালিকাভুক্ত ৪৬ হাজার ৮৫৪টি প্রতিষ্ঠানের ছাদে ৩০৮ বর্গফুট জায়গা রয়েছে। এসব ছাদে ১৪৫১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। ইতোমধ্যে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে, ডিসেম্বরেই প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু হবে।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম বলেন, বিতরণ কোম্পানির মাধ্যমে স্থান নিশ্চিত করে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের এক কর্মকর্তা জানান, তাদের আওতাভুক্ত এলাকার প্রতিষ্ঠান সমুহের ছাদে ১০৬৪ মেগাওয়াট উৎপাদন করা সম্ভব।

অর্থায়ন সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ সচিব বলেন, আমরা দরপত্র আহ্বান করছি, দরদাতারা বিনিয়োগ করবে। যারা কম দরে বিদ্যুৎ দেওয়ার প্রস্তাব করবে তাদের প্রস্তাব গ্রহণ করা হবে। দরদাতাকে অর্থায়ন করবে বাণিজ্যিক ব্যাংক ও বিভিন্ন অর্থায়নকারি প্রতিষ্ঠান। গ্রিন ফাইন্যান্স তহবিলের আওতায় কম সুদে ঋণ পাওয়ার বিষয়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকের সঙ্গে আলাপ হয়েছে। তারা পজিটিভ রয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়