শিরোনাম
◈ বাড়তি মার্কিন শুল্ক কার্যকর হলে রপ্তানিতে বড় ধাক্কার আশঙ্কা ◈ শেখ হাসিনার পক্ষের দাবি নাকচ, জুলাই অভ্যুত্থান প্রতিবেদনের পাশে জাতিসংঘ ◈ কারামুক্ত হলেন সাবেক মেয়র আইভী ◈ দিল্লির আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, নিহত ২১; আহতদের মধ্যে ৫ বাংলাদেশি ◈ ‘আসল’ তৃণমূলের নিয়ন্ত্রণ ঋতব্রতের হাতে, মমতাকে উপদেষ্টা হওয়ার প্রস্তাব ◈ অস্ট্রেলিয়ার বিরু‌দ্ধে বাংলা‌দে‌শের ওয়ান‌ডে দল ঘোষণা, মিরাজ অ‌ধিনায়ক ◈ বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারের মাসিক চার্জ তুলে নিল সরকার ◈ হাজিদের লাগেজ চুরি রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস ধর্মমন্ত্রীর ◈ ৩০০ দিনে ১৭ দেশ পেরিয়ে আর্জেন্টিনার ক্যাম্পে ৩ ভক্ত সাইক্লিস্ট  ◈ হাদি ইস্যুতে মমতার মন্তব্য; যা বললেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী (ভিডিও)

প্রকাশিত : ০৬ মার্চ, ২০২৬, ০৩:০৩ দুপুর
আপডেট : ৩১ মে, ২০২৬, ০৪:০০ সকাল

প্রতিবেদক : মনজুর এ আজিজ

বেশি দামে এলপি গ্যাস বিক্রির দায় কার!

মনজুর এ আজিজ : এলপি গ্যাসের বাজারে যখন চরম অরাজকতা চলছে, ঠিক সেই সময়ে আমদানিকারকদের সংগঠন লোয়াবের সঙ্গে বৈঠক নিয়ে গণমাধ্যম কর্মীদের আগ্রহ ছিল চোঁখে পড়ার মতো। রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে কেউ আনুষ্ঠানিক কোন কথা বলতে রাজি হন নি। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বেলা ২ টায় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের কনফারেন্স রুমে জ¦ালানি মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের খবর পেয়ে জড়ো হন গণমাধ্যম কর্মীরা। বৈঠক শেষে একে বের হয়ে যান।

এ সময় লোয়াবের ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, আমরা কিছু বলতে চাই না, মন্ত্রী বলবে। আর মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বললেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর তাদের সঙ্গে প্রথম বৈঠক করলাম। এ বিষয়ে মিডিয়াকে বলার মতো কিছু নেই। এলপি গ্যাস অস্বাভাবিক দামে বিক্রির বিষয়ে মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, আমরা বিষয়টি দেখছি, কিভাবে নিরসন করা যায়। বৈশ্বিক পরিস্থিতির বিষয়টিও মাথায় রাখতে হচ্ছে।

বৈঠকে অংশ নেওয়া জেএমআই গ্রুপের ফাউন্ডার ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বেশি দামে বিক্রি হলেও আমাদের করার কিছু নেই। কারণ আমরা বেশি দামে বিক্রি করছি না। বেশি দাম আদায় করছে খুচরা বিক্রেতারা, তাদের উপর আমাদের কোন নিয়ন্ত্রণ নেই।

ডিলারদের পক্ষ থেকে অভিযোগ রয়েছে, আপনারাই বেশি দামে বিক্রি করছেন! এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, এই অভিযোগ সত্য নয়, কারণ আমাদের বেশি দামে বিক্রি করার কোন সুযোগ নেই। বেশি দামে বিক্রি করলে আমার লাইসেন্স বাতিল হয়ে যাবে। খুচরা বিক্রেতা ও ডিলারদের উপরও আমাদের কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। তাদের দিক থেকেই সংকট তৈরি হচ্ছে।

ইস্টকোস্ট গ্রুপ, ইউনাইটেড গ্রুপসহ কয়েকটি গ্রুপের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে দেশের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ব্যবহারকারিরা। নানা সুবিধা দিয়েও ব্যবসায়ীদের বাগে আনতে ব্যর্থ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নিজস্ব আমদানি ভাবনাও খুব একটা অগ্রগতি নেই।

দেশে ব্যবহৃত এলপিজির মধ্যে মাত্র ১ শতাংশ যোগান দেয় বাংলাদেশ এলপি গ্যাস লিমিটেড। আর ৯৯ শতাংশ এলপিজির বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে কয়েকজন আমদানিকারক। ৫ আগস্ট ক্ষমতার পালাবদলের পরে এলপিজি আমদানির চালকের আসন থেকে সরে যায় বেক্সিমো, বসুন্ধরাসহ কয়েকটি কোম্পানি। সেই জায়গা দখল করে নেয় আজম জে চৌধুরীর ইস্টকোস্ট গ্রুপ, হাসান মাহমুদ রাজার কোম্পানি ইউনাইটেড গ্রুপ, এনার্জি প্যাক, যমুনা স্পেসটেক এলপিজি, ডেল্টা এলপিজিসহ হাতে গোনা কয়েকটি কোম্পানি।

বরাবরই বেশি দাম আদায়ের অভিযোগ থাকলেও গত বছরের ডিসেম্বর থেকে অরাজকতায় রূপ নেয়। ১৩০০ টাকার এলপিজির দাম আড়াই হাজার টাকায় ওঠে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রথম দিকে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করে বাজার নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নিলেও পর হাল ছেড়ে দেয়। আমদানিকারকদের চাওয়া অনুযায়ী আমদানিসীমা বাড়িয়ে দেওয়া, ভ্যাট কমানো এবং এলসিতে ঋণ সুবিধার ধারাবাহিকতায় ফ্রেইট চার্জও (জাহাজ ভাড়া) টন প্রতি ১০৮ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১২১ ডলার করা হয়।

বৈঠক সুত্র জানিয়েছে, আমদানিকারকরা জাহাজ ভাড়া আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। আমদানিকারকরা বলেছেন, এখন টন প্রতি ১৬০ ডলারেও জাহাজ মিলছে না। অনেক ক্ষেত্রে ২০০ ডলার হাকানো হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যে দামেই হোক সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। জাহাজ ভাড়ার বিষয়টি দেখা হবে।

শুধু এসব সুবিধা নয়, আমদানিকারকদের দাবীর প্রেক্ষিতে ঋণে এলসি খোলার অনুমতি প্রদান করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে গত ১২ জানুয়ারি জারি করা আদেশে ২৭০ দিন পর্যন্ত বাকীতে এলপিজি আমদানির সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। তারপরও বাজারে অরাজকতা বিরাজ করছে। চলছে দোষারোপের খেলা, আমদানিকারক দায় চাপাচ্ছে খুচরা বিক্রেতার উপর, আর খুচরা বিক্রেতা অভিযোগ করছে ডিলারদের বিরুদ্ধে।

এক পর্যায়ে ভোক্তা অধিদপ্তর অভিযানে নামলেও ব্যবসায়ীদের চাপের মুখে সরে দাঁড়ায়। এভাবে কয়েক মাসে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এলপিজি সিন্ডিকেট। কাগজে কলমে সঠিক দাম দেখানো হলেও বাজারে সিলিন্ডার প্রতি ৬০০ থেকে ১০০০ টাকা বাড়তি দামে বিক্রির খবর পাওয়া যাচ্ছে। প্রতি মাসেই ভোক্তাদের পকেট থেকে হাতানো হচ্ছে শত শত কোটি টাকা।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়