শিরোনাম
◈ মার্কিন অবরোধের প্রভাব: ভিসা-মাস্টারকার্ড লেনদেন স্থগিতের ঘোষণা কিউবার ◈ মেডিকেলের ছাত্রীরা বছরের পর বছর যৌন হয়রানির শিকার, কমপক্ষে ৩০ জনের অভিযোগ ◈ দ‌ক্ষিণ আ‌ফ্রিকার টি-টোয়েন্টিতে খেল‌বেন রিশাদ হো‌সেন! ◈ ১৩ বছর পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের মা‌টি‌তে ওয়ান‌ডে জ‌য়ের স্বাদ পে‌লো  শ্রীলঙ্কা ◈ নতুন-পুরনো সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা: এনআইডি ব্লকের প্রস্তুতি, নতুন তালিকা হচ্ছে, নজরদারিতে স্বজনরাও ◈ বিদ্যুৎ দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে আজ সারা দেশে জামায়াতের বিক্ষোভ ◈ বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ডিসেম্বরে নিউজিল্যান্ড সফ‌রে যাচ্ছে ◈ লিও‌নেল মে‌সি স্পেনের মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার জিতলেন, বা‌র্সেলোনার অভিনন্দন ◈ রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলা: যুক্তিতর্ক শুনানি আজ ◈ মমতার বিস্ফোরক মন্তব্যেও নীরব দিল্লি, বক্তব্য নেই বিজেপির

প্রকাশিত : ০৬ এপ্রিল, ২০২৬, ০১:০৯ দুপুর
আপডেট : ২৯ মে, ২০২৬, ০৭:০০ বিকাল

প্রতিবেদক : আর রিয়াজ

এশিয়ার উন্নয়ন মডেলের ‘শেষ ভরসা’ কেন হতে পারে বাংলাদেশ? এআই যুগে শিল্পায়ন নিয়েই বড় প্রশ্ন

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদন: বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক কর্মরত। তাদের পরিশ্রম কেবল একটি রপ্তানি খাত গড়ে তোলেনি — গড়ে তুলেছে একটি করভিত্তি। এই শিল্প দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশেরও বেশি এবং জিডিপির প্রায় ১১ শতাংশ জোগান দেয়। শ্রমিকদের দেওয়া কর এবং তাদের টিকিয়ে রাখা বৃহত্তর অর্থনীতি বাংলাদেশের সরকারি বিদ্যালয় ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার একটি উল্লেখযোগ্য অংশের অর্থায়ন করে।

কয়েক দশকের ব্যবধানে বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র দেশটি নিজেকে একটি নিম্নমধ্যম আয়ের অর্থনীতিতে পরিণত করেছে এবং এখন জাতিসংঘের "স্বল্পোন্নত দেশ" তালিকা থেকে বেরিয়ে আসার মানদণ্ড পূরণ করেছে। আধুনিক উন্নয়ন মডেল কাজ করেছে। প্রশ্ন হলো, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে অন্য কোনো দেশ এই পথ অনুসরণ করতে পারবে কি না।

এই মডেলটি একটি নির্দিষ্ট ধারাক্রমের উপর প্রতিষ্ঠিত। দেশগুলো সস্তা শ্রমশক্তির প্রস্তাব দিয়ে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে প্রবেশ করে। কর্মসংস্থান থেকে পরিবারের আয় আসে। আয় থেকে করভিত্তি তৈরি হয়। করভিত্তি স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অবকাঠামোতে সরকারি বিনিয়োগ সম্ভব করে, যা ক্রমশ মূল্যশৃঙ্খলের উঁচুতে ওঠার পথ খুলে দেয়।

দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও চীন সবাই এই পথের কোনো না কোনো সংস্করণ অনুসরণ করেছে। বাংলাদেশও করেছে। বিপুল জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্যতা থেকে মুক্তির এটাই সবচেয়ে ধারাবাহিকভাবে প্রমাণিত পথ এবং তুলনীয় মাত্রায় অন্য কোনো মডেল কাজ করেনি।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সেই পথটি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে — পোশাকশ্রমিকদের জায়গায় রোবট বসিয়ে নয়, বরং কারখানাগুলো কম মজুরির দেশে স্থানান্তরের কারণটিকেই সরিয়ে দিয়ে। এআই-চালিত কাটিং মেশিন ও রোবোটিক সেলাই ব্যবস্থার মতো প্রযুক্তি যত সস্তা হচ্ছে, ঢাকার একজন শ্রমিক ও গুয়াংডংয়ের একটি যন্ত্রের মধ্যে খরচের পার্থক্য তত কমে আসছে।

একটা সময়ে এসে যুক্তিটা উল্টে যায়। তখন ভোক্তা বাজারের কাছাকাছি উৎপাদন স্বয়ংক্রিয় করাটা বেশি যুক্তিসংগত হয়ে ওঠে — কাঁচামাল কম মজুরির দেশে পাঠিয়ে তৈরি পণ্য ফিরিয়ে আনার চেয়ে। যখন এটা ঘটে, কারখানা কেবল শ্রমিক ছাঁটাই করে না। সেগুলো আসাই বন্ধ করে দেয়। আর যে কারখানা কখনো সেই দেশের মাটিতে স্থাপিতই হলো না, সরকার তার উপর কর আরোপ করতে পারে না।

এটাই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে আগের স্বয়ংক্রিয়তার ঢেউগুলো থেকে আলাদা করে। হুমকিটা মূলত বিদ্যমান কারখানার কর্মসংস্থানের বিরুদ্ধে নয়, যদিও সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। গভীরতর হুমকিটা উন্নয়ন মডেলের বিরুদ্ধেই। বিংশ শতাব্দীতে যে ধারাক্রম কাজ করেছিল তা কেবল কররাজস্ব নয়, অনেক বেশি কিছু দিয়েছিল। গণকর্মসংস্থান থেকে পারিবারিক আয়, দেশীয় ভোগ, দক্ষতা সঞ্চয় এবং সময়ের সাথে সাথে একটি মধ্যবিত্ত শ্রেণি তৈরি হয়েছিল।

তাত্ত্বিকভাবে, একটি দেশ বেশি মানুষকে কর্মসংস্থান না দিয়েও পণ্যের উপর কর সংগ্রহ করতে পারে, কিন্তু সেটা উন্নয়ন নয়। সেটা একটি সম্পদনির্ভর অর্থনীতি এবং সম্পদনির্ভর অর্থনীতির রাজনৈতিক অস্থিরতা ভালোভাবেই নথিবদ্ধ। কর্মসংস্থান-থেকে-পুনর্বণ্টন শৃঙ্খলটি কেবল একটি রাজস্ব কাঠামো নয়; এটি সেই সামাজিক ভিত্তি যার উপর স্থিতিশীল রাষ্ট্র গড়ে ওঠে।

এআই ও কর্মসংস্থান নিয়ে বৈশ্বিক আলোচনায় প্রধান চরিত্র নির্বাচনে একটি সমস্যা আছে। এর মূল চরিত্ররা হলেন সফটওয়্যার প্রকৌশলী, আইনজীবীর সহকারী ও আর্থিক বিশ্লেষক। এই মানুষদের বক্তব্য রাখার প্ল্যাটফর্ম আছে এবং নীতিনির্ধারকদের কাছে তাদের প্রবেশাধিকার আছে। তারা বাস্তুচ্যুতির মুখে পড়লে সেটা নীতি-সংকটে পরিণত হয়। একই কাঠামোগত শক্তি যখন উন্নয়নশীল বিশ্বের কারখানার মেঝেতে কাজ করে, তখন সেটা এআই-এর গল্প হিসেবে নথিভুক্তই হয় না।

অনেক উন্নয়নশীল দেশের অন্তর্নিহিত যুক্তি এই অন্ধ দৃষ্টিভঙ্গিকে আরও শক্তিশালী করে। ভাবনাটা এরকম: এআই শ্বেতকলার জ্ঞানভিত্তিক কাজকে বিঘ্নিত করে, আর যেহেতু তারা এখনো উৎপাদনে আছে, তাই তাদের হাতে সময় আছে। এই যুক্তি অবমূল্যায়ন করে যে, কর্মসংস্থান পুরোপুরি নষ্ট করার আগেই স্বয়ংক্রিয়তা কত দ্রুত একটি দেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানকে ক্ষয় করতে পারে।

এআই পরিচালনার আলোচনা মূলত সেইসব দেশের দ্বারা আকার পেয়েছে যারা সবচেয়ে উন্নত মডেল তৈরি ও মোতায়েন করে, এবং প্রধানত অ্যালগরিদমিক পক্ষপাত, ভুল তথ্য ও নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকি নিয়ে কেন্দ্রীভূত। এগুলো বাস্তব ঝুঁকি, কিন্তু এগুলো সেইসব সমাজের ঝুঁকি যাদের ইতিমধ্যে পরিপক্ব সামাজিক সুরক্ষাজাল ও বৈচিত্র্যময় করভিত্তি আছে। আলোচনা বিস্তৃত হচ্ছে। এ বছর ভারতের এআই সম্মেলনে "প্রভাব" বিষয়টি এজেন্ডায় স্থান পেয়েছে, যা একটি স্বাগত পরিবর্তন।

কিন্তু সবচেয়ে বিস্তৃত আলোচনায়ও কেন্দ্রে থাকে প্রযুক্তি গ্রহণ ও প্রবেশাধিকার — কর্মসংস্থান-থেকে-পুনর্বণ্টন শৃঙ্খলের কাঠামোগত হুমকি নয়। এআই পরিচালনাকে মার্কিন-চীন প্রযুক্তি প্রতিযোগিতা হিসেবে উপস্থাপন করাটা চিত্রটিকে আরও বিকৃত করে।

কোটি কোটি উৎপাদনশ্রমিক এবং এখনো নির্মাণাধীন সামাজিক সুরক্ষাজাল নিয়ে চীন নিজেও অনেক উন্নয়নশীল অর্থনীতির মতো একই কাঠামোগত পুনর্বণ্টন ঝুঁকির মুখে। আসল বিভাজনটি প্রযুক্তি-নেতৃত্বকারী ও প্রযুক্তি-অনুসরণকারী দেশগুলোর মধ্যে নয় — বরং এমন দেশগুলোর মধ্যে যাদের পুনর্বণ্টন ব্যবস্থা আসন্ন ধাক্কা শোষণ করতে পারবে এবং যাদের পারবে না।

রাজস্ব মাত্রাটি এটিকে আরও জোরালো করে। উন্নয়নশীল দেশগুলো হারানো শ্রমকর সহজেই প্রযুক্তি কোম্পানির উপর কর্পোরেট করের মাধ্যমে পূরণ করতে পারবে না। সেই কোম্পানিগুলো সাধারণত বিদেশি এবং তাদের মুনাফা অন্যত্র নথিভুক্ত। ওইসিডির বৈশ্বিক ন্যূনতম কর সংস্কার মুনাফা স্থানান্তর রোধে প্রণীত হয়েছিল, কিন্তু এর কাছে এমন একটি কোম্পানির কোনো জবাব নেই যে মাত্র কয়েক ডজন কর্মচারী নিয়ে কোটি কোটি টাকা আয় করে, যখন তার পণ্যগুলো এমন দেশগুলোতে হাজার হাজার কর্মসংস্থান বিলোপ করছে যারা তার মুনাফার ভাগ কখনো পায় না।

কী করা যেতে পারে? উন্নয়নশীল দেশগুলোর উচিত বৈশ্বিক আলোচনায় এআই-চালিত শ্রম বাস্তুচ্যুতির রাজস্ব প্রভাব তুলে ধরার জন্য চাপ দেওয়া। তাদের জি-২০-তে একটি নিবেদিত কার্যকরী দল গঠনের দাবি জানানো উচিত — যা এআই-এর সুযোগ নয়, বরং শ্রমনির্ভর অর্থনীতিতে করভিত্তির উপর এর কাঠামোগত প্রভাব নিয়ে কাজ করবে।

আন্তর্জাতিক কর কাঠামো আপডেট করা দরকার। এবং পরবর্তী বড় এআই সম্মেলনে গ্লোবাল সাউথের উচিত দাবি করা যে আলোচনায় সামাজিক স্থিতিশীলতা নির্ভর পুনর্বণ্টন কাঠামোর উপর পদ্ধতিগত ঝুঁকির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হোক।

বাংলাদেশ পেরেছে। যে দেশগুলো এখনো অপেক্ষায় আছে, তাদের জন্য প্রশ্নটি এই নয় যে এআই তাদের কারখানায় পৌঁছাবে কি না — প্রশ্ন হলো, সেই কারখানাগুলো আদৌ কেউ তৈরি করবে কি না। 

(ভাষান্তর: মানবজমিন)

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়