শিরোনাম
◈ রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলা: যুক্তিতর্ক শুনানি আজ ◈ মমতার বিস্ফোরক মন্তব্যেও নীরব দিল্লি, বক্তব্য নেই বিজেপির ◈ মরুভূমির দেশ হয়েও কেন বালু আমদানি করে সৌদি আরব? ◈ মাত্র ১৭০ টাকায় অনলাইনে এনআইডি বিক্রি! ◈ বাড়তি মার্কিন শুল্ক কার্যকর হলে রপ্তানিতে বড় ধাক্কার আশঙ্কা ◈ শেখ হাসিনার পক্ষের দাবি নাকচ, জুলাই অভ্যুত্থান প্রতিবেদনের পাশে জাতিসংঘ ◈ কারামুক্ত হলেন সাবেক মেয়র আইভী ◈ দিল্লির আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, নিহত ২১; আহতদের মধ্যে ৫ বাংলাদেশি ◈ ‘আসল’ তৃণমূলের নিয়ন্ত্রণ ঋতব্রতের হাতে, মমতাকে উপদেষ্টা হওয়ার প্রস্তাব ◈ অস্ট্রেলিয়ার বিরু‌দ্ধে বাংলা‌দে‌শের ওয়ান‌ডে দল ঘোষণা, মিরাজ অ‌ধিনায়ক

প্রকাশিত : ০৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৫৮ রাত
আপডেট : ২৯ মে, ২০২৬, ০৫:০০ সকাল

প্রতিবেদক : মনজুর এ আজিজ

টার্নওভার কর বাড়ানো নিয়ে চাপে রয়েছে সরকার: এনবিআর

নিজস্ব প্রতিবেদক : আসন্ন বাজেটে টার্নওভার কর এক শতাংশ থেকে বাড়িয়ে দুই দশমিক পাঁচ শতাংশ করার জন্য সরকারের ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ রয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান। তবে, ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ বিবেচনায় নিয়ে এই হার বাড়ানো থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও তিনি জানিয়েছেন। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআর ভবনে আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। আলোচনায় বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমানে টার্নওভার করের হার এক শতাংশ। তবে, এটিকে বাড়িয়ে দুই দশমিক পাঁচ শতাংশ করার জন্য সরকারের ওপর প্রবল চাপ রয়েছে। এই বছর এটাকে আড়াই গুণ করার জন্য আমাদের ওপর প্রচণ্ড চাপ আছে। এক শতাংশকে দুই দশমিক পাঁচ শতাংশ করা এবং সবার জন্য একভাবে প্রয়োগ করার কথাও বলা হচ্ছে। তবে, আমরা চেষ্টা করছি এটি না করতে। কিন্তু, কর কমানো খুবই কঠিন।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে সাধারণত কোম্পানির মুনাফার ওপর কর আরোপ করা হয়। কোনও প্রতিষ্ঠান লাভ না করলেও যদি টার্নওভারের ওপর কর দিতে হয়, তাহলে সেটি কার্যত পরোক্ষ করের মতো হয়ে যায়। তবুও দেশের সামগ্রিক কর আদায়ের হার কম হওয়ায় রাজস্ব বাড়াতে সরকারকে কিছু ক্ষেত্রে বিকল্প পদ্ধতি নিতে হচ্ছে।

আবদুর রহমান খান বলেন, অনেক ক্ষেত্রে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের হিসাব-নিকাশ ও রিপোর্টিংয়ে ঘাটতি থাকার কারণে টার্নওভারভিত্তিক করকে একটি ‘শর্টকাট পদ্ধতি’ হিসেবে ব্যবহার করতে হচ্ছে।

করছাড় দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রকৃত সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে কি না তা নিয়েও গবেষণা খুব কম হয় জানিয়ে তিনি বলেন, অনেক সময় সরকার কর ও ভ্যাটে ছাড় দিলেও তার সুফল ভোক্তাদের কাছে পুরোপুরি পৌঁছায় না। মাঝপথে বিভিন্ন স্তরে সেই সুবিধা আটকে যায় বলে জনমনে একটি ধারণা রয়েছে।

ব্যবসায়ীদের কর ফেরত (রিফান্ড) সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, এই খাতে বড় ধরনের সংস্কার চলছে। এখন আয়কর রিটার্ন অনলাইনে জমা নেওয়া হচ্ছে এবং একইভাবে রিফান্ড ব্যবস্থাও পুরোপুরি অনলাইন করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ভ্যাটের রিফান্ড স্বয়ংক্রিয় অনলাইন পদ্ধতিতে দেওয়া শুরু হয়েছে। আয়করের ক্ষেত্রেও একই ব্যবস্থা প্রায় সম্পন্ন হয়েছে এবং শিগগিরই পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হবে। তখন করদাতাদের ব্যাংক হিসাবেই সরাসরি রিফান্ড চলে যাবে।

গ্রস প্রফিট নির্ধারণ সংক্রান্ত জটিলতার কথাও তুলে ধরেন এনবিআর চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ১৯৫৪ সালের একটি পুরোনো সার্কুলারের ভিত্তিতে এখনও অনেক ক্ষেত্রে গ্রস প্রফিট নির্ধারণ করা হয়, যার আইনি ভিত্তি স্পষ্ট নয়। বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজন হলে আইনের মধ্যে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। অনেক ক্ষেত্রে কর নির্ধারণ নিয়ে করদাতা ও কর কর্মকর্তাদের মধ্যে মতভেদ তৈরি হয়, যা শেষ পর্যন্ত আপিল ও ট্রাইব্যুনাল পর্যন্ত গড়ায়। এ ধরনের জটিলতা কমাতে একটি মানসম্মত কাঠামো নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়