শিরোনাম
◈ বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া ওয়ানডে সিরিজের ম্যাচ দেখা যা‌বে সর্বনিম্ম ২০০ টাকায়  ◈ ঝুঁকিতে বিশ্বের ১৫ দেশ: আগামী ৫০ বছরে হারিয়ে যেতে পারে পৃথিবীর মানচিত্র থেকে ◈ আপা ডাকায় নয়, পুরোনো বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি: সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশা ◈ শার্শায় আইনজীবী মিন্টুকে গ্রেফতারচেষ্টা, গ্রামবাসীর বাধায় ব্যর্থ পুলিশ ◈ বিদেশি বিনিয়োগ আনা বাংলাদেশিদের পুরস্কৃত করবে সরকার ◈ জাপানি কনসোর্টিয়ামের সাথে চুক্তি ১৯ জুলাইয়ের মধ্যে, ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে চালু হচ্ছে শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল ◈ ইন্টারপোল রেড নোটিশভুক্ত নজরুল ইসলাম লিবিয়ায় গ্রেফতার ◈ এই বিজয় বাংলাদেশ ও গণতন্ত্রের বিজয়: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ-হত্যা: যে কারণে স্বপ্না হঠাৎ স্বামী সোহেল রানাকে মারতে তেড়ে যান ◈ তোফায়েলের জানাজা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক, মুখ খুললেন হাছান মাহমুদ

প্রকাশিত : ০৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৩৯ রাত
আপডেট : ৩০ মে, ২০২৬, ০৮:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ডলারের দর বাড়ছে, স্থিতিশীলতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের নজরদারি জোরদার

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের সাময়িক বিরতি হলেও ৪০ দিন ধরে চলা যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব পড়ে ধীরে ধীরে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারেও। গত পাঁচ সপ্তাহে মার্কিন ডলারের বিপরীতে বাংলাদেশি মুদ্রা টাকার মান সামান্য কমেছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাজারে নজরদারি জোরদার করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রয়োজন হলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে ডলার বিক্রি করেও বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখার প্রস্তুতি নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বাজারে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হলে প্রয়োজনে প্রায় ২০ কোটি ডলার বিক্রি করা হতে পারে। তবে কোনোভাবেই টাকার বড় ধরনের অবমূল্যায়নের দিকে যেতে চায় না কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

পাঁচ সপ্তাহে টাকার মান কমেছে ০ দশমিক ৪৪ শতাংশ

ব্যাংকিং খাতের তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ সপ্তাহে ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমেছে প্রায় ০ দশমিক ৪৪ শতাংশ। এ সময়ে প্রতি ডলারের বিপরীতে ব্যয় বেড়েছে প্রায় ৫৫ পয়সা।

বুধবার (৮ এপ্রিল) আন্তব্যাংক বাজারে ডলার কেনাবেচা হয়েছে সর্বোচ্চ ১২২ টাকা ৮৫ পয়সা দরে। অথচ গত ১ মার্চ একই ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা।

সে সময় ব্যাংকগুলোতে ডলারের সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় টাকা কিছুটা শক্তিশালী হতে শুরু করে। ফলে বিনিময় হার নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক উল্টো বাজার থেকে ডলার কিনে নেয়।

গভর্নর মোস্তাকুর রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর সবশেষ ২ মার্চ বাজার থেকে প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার কেনা হয়। তখন কাট-অফ রেট ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে মোট ৫৪৯ কোটি ৩৫ লাখ ডলার (৫ দশমিক ৪৯ বিলিয়ন ডলার) কিনেছে।

যা বলছে বাংলাদেশ ব্যাংক: বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজার বর্তমানে স্থিতিশীল ও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এ মুহূর্তে টাকার অবমূল্যায়নের ওপর কোনও তাৎক্ষণিক চাপ নেই বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এক পর্যালোচনামূলক প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ তথ্য জানায়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের ব্যাংকিং খাতে বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য ছিল প্রায় ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এক মাসের ব্যবধানে তা বেড়ে প্রায় ১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পেয়ে ৬ এপ্রিল দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারে।

এছাড়া একই সময়ে ব্যাংকগুলোর হাতে থাকা নগদ বৈদেশিক মুদ্রার পরিমাণও কিছুটা বেড়েছে। ২৬ ফেব্রুয়ারি যেখানে নগদ ডলারের স্থিতি ছিল ৪৭ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলার, তা বৃদ্ধি পেয়ে ৬ এপ্রিল দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৯ মিলিয়ন ডলারে।

এই প্রবণতা বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে স্বস্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে এবং ব্যাংকিং খাতে ডলার সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতির প্রতিফলন ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র মোহাম্মদ শাহরিয়ার সিদ্দিকী বলেন, “বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজার বর্তমানে স্থিতিশীল ও ভারসাম্যপূর্ণ রয়েছে। এই মুহূর্তে টাকার অবমূল্যায়নের কোনও তাৎক্ষণিক চাপ নেই।”

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী—বর্তমানে ব্যাংকিং খাতে বিদেশি মুদ্রার তারল্য প্রায় ৩.৯ বিলিয়ন ডলার। এক মাস আগে যা ছিল প্রায় ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার।

অন্যদিকে ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক দায় বাদ দিলে নেট ওপেন পজিশন দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার। সাধারণত এই অবস্থায় বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ডলার কিনে থাকে। কিন্তু এবার তা করা হচ্ছে না, কারণ ব্যাংকগুলো নিজেরাই ডলার বিক্রিতে অনাগ্রহী।

বাজার পরিস্থিতি ভিন্ন: তবে বাজারের চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। ব্যাংকগুলো সূত্রে জানা গেছে, গত এক মাসে আমদানিকারকদের কাছে ডলার বিক্রির দাম প্রায় ১ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

এক মাস আগে যেখানে আমদানির ডলার বিক্রি হতো ১২২ টাকা ৩০ পয়সা, সেখানে তা উঠে যায় প্রায় ১২৩ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত।

ব্যাংকিং খাতের অনেকের মতে, ভবিষ্যতে দাম বাড়ার আশঙ্কা থেকে কিছু ব্যাংক ডলার মজুত করছে। এতে বাজারে সাময়িক চাপ তৈরি হয়েছে।

এখন উল্টো ডলার বিক্রির প্রস্তুতি: তবে বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার কারণে ব্যাংকগুলো ডলার ধরে রাখার প্রবণতা দেখাচ্ছে। ফলে বাজারে বিনিময় হারে চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ব্যাংক বাজার স্থিতিশীল রাখতে প্রয়োজনে ডলার বিক্রির পরিকল্পনা করছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বলেন,“অর্থনীতির যেকোনও সংকটকে কাজে লাগিয়ে কিছু গোষ্ঠী মুনাফা করার চেষ্টা করে। এবার মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গুজব ছড়িয়ে বাজারে আতঙ্ক তৈরির চেষ্টা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে বৈদেশিক মুদ্রার সব ধরনের লেনদেন পর্যবেক্ষণ করছে।”

রেমিট্যান্সের শক্তিশালী প্রবাহ: ডলার সরবরাহ বাড়াতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী—গত মার্চে দেশে এসেছে ৩ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স, যা একক মাসে সর্বোচ্চ।

চলতি এপ্রিলের ১ থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ৮২৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২৯ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি।

গত বছর ২০২৫ সালের ১ থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৬৩৬ মিলিয়ন ডলার।

এদিকে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরু থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২৭ দশমিক ০৩ বিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ২২ দশমিক ৪২ বিলিয়ন ডলার। সে হিসাবে চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত প্রবাসী আয় ২০ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই শক্তিশালী প্রবাহ বাজারে ডলারের সরবরাহ বাড়িয়ে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারকে স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করছে।

রিজার্ভও সন্তোষজনক অবস্থায়: বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে বর্তমানে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রয়েছে প্রায়—৩৪ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলার (গ্রস রিজার্ভ)। ২৯ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলার (বিপিএম৬ পদ্ধতিতে)।

গত মাসেই সরকার ১ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন ডলারের আকু বিল এবং প্রায় ১৮ কোটি ডলার বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করেছে। এসব দায় পরিশোধের পরও রিজার্ভ সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

কেন ডলার ধরে রাখছে ব্যাংকগুলো: বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে বিনিময় হার বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই অনেক ব্যাংক ডলার ধরে রাখছে।

বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন,“যখন বাজারে ধারণা তৈরি হয় যে বিনিময় হার বাড়তে পারে, তখন যারা ডলার ধরে রেখেছেন তারা তা বিক্রি করতে চান না। ব্যাংকগুলো ভবিষ্যৎ দায় ও বৈশ্বিক ঝুঁকি বিবেচনায় ডলার ধরে রাখছে।”

ব্যাংকিং খাতের তথ্য অনুযায়ী, বিশেষ করে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো তাদের নেট ওপেন পজিশন বাড়াচ্ছে।

তেলের দামও প্রভাব ফেলছে: ব্যাংকারদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ডলারের চাহিদা বাড়িয়ে দিচ্ছে।

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, “আমদানি না বাড়লেও আমদানি ব্যয় বেড়েছে। তেলের দাম বেশি হওয়ায় ডলারের চাহিদা বাড়ছে। আবার দাম বাড়বে এই আশায় অনেক রেমিট্যান্স হাউসও ডলার ধরে রাখছে।” উৎস: বাংলা ট্রিবিউন

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়