শিরোনাম
◈ বিদ্যুৎ দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে আজ সারা দেশে জামায়াতের বিক্ষোভ ◈ বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ডিসেম্বরে নিউজিল্যান্ড সফ‌রে যাচ্ছে ◈ লিও‌নেল মে‌সি স্পেনের মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার জিতলেন, বা‌র্সেলোনার অভিনন্দন ◈ রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলা: যুক্তিতর্ক শুনানি আজ ◈ মমতার বিস্ফোরক মন্তব্যেও নীরব দিল্লি, বক্তব্য নেই বিজেপির ◈ মরুভূমির দেশ হয়েও কেন বালু আমদানি করে সৌদি আরব? ◈ মাত্র ১৭০ টাকায় অনলাইনে এনআইডি বিক্রি! ◈ বাড়তি মার্কিন শুল্ক কার্যকর হলে রপ্তানিতে বড় ধাক্কার আশঙ্কা ◈ শেখ হাসিনার পক্ষের দাবি নাকচ, জুলাই অভ্যুত্থান প্রতিবেদনের পাশে জাতিসংঘ ◈ কারামুক্ত হলেন সাবেক মেয়র আইভী

প্রকাশিত : ১০ মে, ২০২৬, ০৮:৩৭ রাত
আপডেট : ০২ জুন, ২০২৬, ০৯:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বাংলাদেশের প্রিমিয়াম পণ্যের বাজার যেভাবে তার জৌলুস হারিয়েছে

গত প্রায় চার বছর ধরে, বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশের নিচে নামতে নারাজ। টানা ৫০ মাস ধরে মজুরি বা বেতন বৃদ্ধির হার জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারছে না। এই সময়ে নিভিয়া ক্রিম থেকে শুরু করে শ্যাম্পু, নাইকি জুতো কিংবা চকোলেটের মতো আমদানিকৃত পণ্যের দাম—অনেক ক্ষেত্রে দ্বিগুণ বা তারও বেশি বেড়েছে। এর ফলে দেশের আমদানিনির্ভর ভোক্তা বাজারে এখন এক ধরনের 'নীরব মন্দা' বিরাজ করছে।

ঢাকার গুলশান থেকে উত্তরা, ধানমন্ডি অথবা চট্টগ্রাম—সবখানেই প্রিমিয়াম ও আমদানিকৃত পণ্য বিক্রেতাদের মুখে একই গল্প: ক্রেতা সমাগম কমছে, বিক্রি না হয়ে পণ্যের স্তূপ জমছে। একসময় যেসব গ্রাহক দামের দিকে না তাকিয়ে কিনে ফেলতেন, তারা এখন একটি নির্দিষ্ট পণ্য খুঁজতে চার-পাঁচটি দোকান ঘুরছেন অথবা না কিনেই ফিরে যাচ্ছেন।

বিপণীর যেসব তাকে একসময় জিলেট রেজোর, ফেরেরো চকোলেট, হেড অ্যান্ড শোল্ডার্স শ্যাম্পু আর ওরাল-বি টুথব্রাশের সারি দেখা যেত, সেগুলো এখন অর্ধেক খালি। অনেক জনপ্রিয় পণ্য গত কয়েক মাস ধরে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে না। ২০২৫ সালের শুরুর দিকে প্রক্টর অ্যান্ড গ্যাম্বল—যারা প্রায় তিন দশক ধরে বাংলাদেশে ব্যবসা করেছে—তাদের প্রধান ডিস্ট্রিবিউশন কার্যক্রম গুটিয়ে নিয়েছে। বাজারের জৌলুস হারানোর এটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ও দৃশ্যমান সংকেত।

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আমদানিনির্ভর প্রিমিয়াম পণ্যের বাজার— এর আগে কখনও এত দীর্ঘ ও গভীর সংকটের মুখোমুখি হয়নি। দেশের অন্যতম বৃহৎ এফএমসিজি পণ্য আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান- ইন্টারন্যাশনাল ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আশরাফ বিন তাজ জানান, লাইফস্টাইল ও ফ্যাশন পণ্যের বিক্রি ৫০% থেকে ৭০% পর্যন্ত কমেছে, যা মানুষের শৌখিন খরচ কমিয়ে দেওয়া এবং সতর্ক মনোভাবের প্রতিফলন।

আমদানিকৃত চকোলেট ও খাদ্যপণ্যের বিক্রিও ৩০% থেকে ৫০% হ্রাস পেয়েছে। একই সঙ্গে সরবরাহ সংকট ও উচ্চমূল্যের কারণে জিলেট, গার্নিয়ার এবং নিভিয়ার মতো বিশ্বখ্যাত পার্সোনাল কেয়ার ব্র্যান্ডগুলোর আনুষ্ঠানিক বিক্রি ব্যাপকভাবে কমেছে।

মাত্র চার বছর আগেও সুপারস্টোরগুলোর তাক কিটক্যাট, স্নিকার্স, ডেইরি মিল্ক, পার্ক, আমুল এবং ফেরেরো রোশারের মতো আমদানিকৃত চকোলেটে ঠাসা থাকত। বর্তমানে সেই চিত্র আমূল বদলে গেছে। তাকগুলোতে পণ্য থাকলেও— এখন দেশি চকোলেটের আধিপত্য। আমদানিকৃত ব্র্যান্ডগুলো খুব সীমিত পরিমাণে দেখা যাচ্ছে।

স্বপ্ন সুপারশপের একজন সিনিয়র মার্কেটিং অফিসার জানান, ২০২২ সালে একটি কিটক্যাট চকোলেট মাত্র ২৫ টাকায় বিক্রি হতো, যার বর্তমান দাম ৫০ টাকা। ২০০ গ্রামের ফেরেরো রোশার বক্স চার বছর আগে ৭০০ টাকা ছিল, যা এখন প্রায় ১,৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তিনি আরও যোগ করেন, আগে ক্যান্ডি বা লজেন্সের প্রায় ৯০% ছিল আমদানিকৃত, যা মূলত যুক্তরাজ্য, ভারত, থাইল্যান্ড, মিয়ানমার এবং মালয়েশিয়া থেকে আসত। এখন সেই অংশটি প্রায় ৫০% কমে গেছে। আশরাফ বিন তাজ জানান, বাংলাদেশের প্রায় ২,০০০ কোটি টাকার চকোলেটের বাজারে আগে বিদেশি ব্র্যান্ডগুলোর আধিপত্য ছিল, কিন্তু এখন আমদানি ৩০% থেকে ৫০% কমেছে।

এর কারণ হিসেবে তিনি কঠোর আমদানি নিয়ন্ত্রণ, এলসি খোলার বিধিনিষেধ, উচ্চ শুল্ক, কাস্টমস মূল্যায়নে কড়াকড়ি এবং টাকার অবমূল্যায়নকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, "অপরিহার্য নয় এমন পণ্যের আমদানিকে নিরুৎসাহিত করায় পুরো ভোক্তা বাজারে এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে।" বড় রিটেইল চেইনগুলোতে জরিপ চালিয়ে দেখা গেছে—স্কিনকেয়ার, প্রসাধনী, শিশুখাদ্য, চকোলেট, সিরিয়াল এবং প্রিমিয়াম হেয়ার কেয়ার পণ্যের তীব্র সংকট রয়েছে।

ক্রেতারা বলছেন, তাদের কেনাকাটার অভ্যাসে নাটকীয় পরিবর্তন এসেছে। গুলশানের বাসিন্দা রেশমা আরা জানান, এখন একটি নির্দিষ্ট লোশন খুঁজতে তাকে চার-পাঁচটি সুপারমার্কেট ঘুরতে হয়। আরেক ক্রেতা শারমিন হক বলেন, কিছু পণ্য অনলাইনে দেখা গেলেও সেগুলোর দাম অনেক বেশি অথবা কয়েক সপ্তাহ ধরে 'আউট অব স্টক' বা স্টকে নেই দেখায়।

এনআরবিসি ব্যাংকের ইন্টারন্যাশনাল ডিভিশনের প্রধান হাসনাত রেজা মহিবুল আলম জানান, ২০২২ সালের তুলনায় বিলাসজাত ও প্রিমিয়াম পণ্যের এলসি খোলা এবং নিষ্পত্তি ৩০% থেকে ৪০% কমেছে। তিনি বলেন, ২০২২ সালে ডলার সংকট শুরু হলে সরকার বিলাসপণ্য আমদানির এলসি নিয়ন্ত্রণে কড়াকড়ি আরোপ করে এবং ব্যাংকগুলো খাদ্য ও জরুরি পণ্য আমদানিকে অগ্রাধিকার দেয়। ফলে চকলেট, কসমেটিকস ও গাড়ির মতো পণ্যের আমদানি ব্যাপক হারে হ্রাস পায়। তবে এখন কড়াকড়ি শিথিল হওয়ার পরও— চাহিদা ও আমদানি আগের অবস্থায় ফিরে আসেনি।

বড় ব্র্যান্ড, কঠিন বাস্তবতা

নাইকি, পুমা, অ্যাডিডাস, লেভিস এবং জিওর্ডানোর মতো বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ডগুলোকে বাংলাদেশে নিয়ে আসা ডিবিএল গ্রুপ এই পরিবর্তনের এক স্পষ্ট উদাহরণ। ডিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. এম. জব্বার বলেন, ধারাবাহিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং প্রিমিয়াম ক্রেতা বাড়ার আশায় তারা এসব বড় বিনিয়োগ করেছিলেন।

তিনি বলেন, "দেশের প্রবৃদ্ধির ওপর আস্থা রেখেই আমরা বাংলাদেশে নাইকি বা পুমার মতো ব্র্যান্ড চালু করেছিলাম। কিন্তু রাজনৈতিক পরিবর্তন, ইরান যুদ্ধ, ডলারের দর এবং শুল্ক হার বেড়ে যাওয়ায় ভিন্ন এক বাস্তবতার সৃষ্টি হয়েছে। আমরা বিশাল ছাড় (ডিসকাউন্ট) দিচ্ছি, তবুও পণ্য বিক্রি হচ্ছে না। পুরনো স্টক বিক্রি না হলে, আমরা নতুন কালেকশন আনতে পারি না। প্রিমিয়াম পণ্য নিয়ে আমরা সত্যিই খুব কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি।" 

রিটেইলাররা বলছেন, ফ্যাশন পণ্য এবং জুতোর ক্ষেত্রে নতুন কালেকশনই মূলত ক্রেতাদের দোকানে টানে। কিন্তু সময়মতো নতুন পণ্য আমদানি করতে না পারায় ক্রেতা সমাগম কমে যাচ্ছে।

সুপারশপগুলো আর 'প্রিমিয়াম' নেই

আমদানিকৃত পণ্যের অভাব এবং আকাশচুম্বী দামের কারণে, সুপারশপগুলোর সেই প্রিমিয়াম লুক বা জৌলুস ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে। নিভিয়া, জিলেট, ফেরেরো বা প্রিংগেলসের সারিগুলো এখন হয় ফাঁকা পড়ে আছে, নয়তো সেখানে দেশি বিকল্প পণ্য রাখা হয়েছে।

আগোরা জানিয়েছে, গত তিন বছরে তাদের আউটলেটগুলোতে আমদানিকৃত পণ্যের পরিমাণ ৪৫% থেকে ৩০%-এ নেমে এসেছে। সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে প্রসাধনী, স্কিনকেয়ার ও রূপচর্চা সামগ্রীর ওপর।

আগোরার সিইও খন্দকার নূর-এ-বোরহান বলেন, অনেক ক্রেতা শুরুতে বিশ্বাসই করতে পারেননি যে বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ডগুলো বাজার থেকে উধাও হতে পারে। তবে কয়েক দোকান ঘোরার পর তারা বাস্তবতা মেনে নিচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, অতিরিক্ত দামের কারণেও অনেক ক্রেতা বিমুখ হচ্ছেন; কিছু পণ্যের দাম আগের তুলনায় দ্বিগুণ হয়েছে।

স্বপ্ন-এর কর্মকর্তারা জানান, ক্রেতারা এখন বিলাসজাত আমদানিকৃত পণ্যের বদলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সাশ্রয়ী দেশি পণ্যের দিকে ঝুঁকছেন। প্রতিষ্ঠানটির একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, আগে যে পণ্যের দাম ১,২০০ টাকা ছিল, তার দাম এখন ২,৫০০ থেকে ৩,৫০০ টাকা। ৫৫০ টাকার সিরিয়াল এখন ১,০০০ থেকে ১,২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তিনি বলেন, "অনেক ক্রেতা এখন স্রেফ আমদানি করা পণ্য কেনাই বন্ধ করে দিয়েছেন।"

বিলাসজাত পণ্যের এই মন্দা এখন দেশের সংগঠিত লাইফস্টাইল এবং ফ্যাশন চেইনগুলোর ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। প্রিমিয়াম বিউটি ও লাইফস্টাইল পণ্যের চাহিদা কমে যাওয়ায়— বিক্রি সচল রাখতে সুন্দরা বাংলাদেশ-কে বর্তমানে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বিশাল ছাড়ের ওপর নির্ভর করছে।

বিলাসবহুল ঘড়ি বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান টাইমজোন-ও বর্তমানে— শপিং মলগুলোতে ক্রেতা সমাগম কমে যাওয়ার সংকটে ভুগছে; কারণ সাধারণ পরিবারগুলো এখন তাদের শৌখিন খরচ কমিয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে, সানা সাফিনাজ, মারিয়া বি, স্যাফায়ার এবং ভাসভির মতো ব্র্যান্ড পরিচালনাকারী মাসকো গ্রুপের রিটেইল বিভাগেও পোশাক বিক্রির গতি মন্থর হয়ে পড়েছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং সংকুচিত বাজেটের কারণে, ক্রেতারা এখন উৎসবকেন্দ্রিক কেনাকাটা কিংবা প্রিমিয়াম ফ্যাশন পণ্য কেনা থেকে বিরত থাকছেন।

দামের ধাক্কা ও এমএভি চাপ

আমদানিকারকরা বলছেন, ২০২৩ সালের শেষ এবং ২০২৪ সালের শুরুর দিকে— বেশকিছু পণ্যের 'মিনিমাম অ্যাসেসেবল ভ্যালু' বাড়িয়ে দেওয়ায় আমদানিতে বড় ধাক্কা লেগেছে। একজন আমদানিকারক জানান, আগে যে স্কিনকেয়ার পণ্যের কাস্টমস মূল্যায়ন কেজিপ্রতি ৮ ডলার ছিল, তা এখন ২০ ডলার ধরা হচ্ছে। ফলে মোট শুল্কের হার ১৩০% থেকে ১৪০% পর্যন্ত হয়ে যাচ্ছে।

ইন্টারন্যাশনাল ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি ইতিমধ্যে নিভিয়ার বেশকিছু ঋতুভিত্তিক পণ্যের আমদানি বন্ধ করে দিয়েছে। আশরাফ বিন তাজ বলেন, "দাম যদি অনেক বেড়ে যায়, তাহলে তো কাস্টমার কিনবে না। ফলে শেলফে পণ্য নষ্ট হবে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার অপচয় এবং গুদামের জায়গারও অপব্যবহার হয়।" নতুন ট্যাক্স ও শুল্ক মূল্যায়নের কাঠামোর কারণে অনেক ছোট আমদানিকারক ইতিমধ্যে ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছেন।

তবে সবচেয়ে বড় মানসিক ধাক্কাটি হচ্ছে তিন দশক পরে প্রক্টর অ্যান্ড গ্যাম্বল-এর প্রস্থান। ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশে প্রবেশ করা এই প্রতিষ্ঠানটি ২০২৫ সালের শুরুতে তাদের সরবরাহ ব্যবস্থা বন্ধ করে দেয়। ফলে জিলেট রেজর, প্যাম্পার্স, ওলে এবং ওরাল-বি-এর মতো পণ্যগুলো বাজারে দুষ্প্রাপ্য হয়ে ওঠে।

মন্থর গতির এক বছর

টানা মূল্যস্ফীতি, ভোক্তাদের আস্থাহীনতা, ডলার সংকট, এলসি বিধিনিষেধ এবং টাকার দ্রুত অবমূল্যায়ন—সব মিলিয়ে এই মন্দা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। মার্চে ৮.৭১ থাকলেও— এপ্রিলে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে, যা মানুষের ক্রয়ক্ষমতা আরও কমিয়ে দিচ্ছে। এমনকি উচ্চ আয়ের পরিবারগুলো—তুলনামূলক কম আয়ের শ্রেণিপেশার চেয়ে সামান্য প্রভাবিত হলেও– এখন শৌখিন বা আমদানিকৃত পণ্য কেনার ক্ষেত্রে অনেক বেশি সতর্ক থাকছেন।

কর্ণফুলী রিটেইল-এর বিজনেস হেড মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, যখন ভোক্তারা আশঙ্কা করেন যে ভবিষ্যতে দাম আরও বাড়বে বা অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হবে, তখন তারা অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা স্থগিত করেন। এটি লাক্সারি বা বিলাসজাত পণ্যের বাজারের জন্য বড় ক্ষতি। কারণ এখানে ভোক্তার আয়ের পাশাপাশি তাদের মনোভাব, আস্থা ও কেনাকাটার সময়ও সমান গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

ব্যবসায়িক খাতের মনস্তত্ত্বেও এই মন্দার ছাপ স্পষ্ট। সাধারণত বেতনভুক্ত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, উদ্যোক্তা এবং উচ্চ-মধ্যবিত্ত পেশাজীবীদের হাত ধরেই প্রিমিয়াম পণ্যের বাজারের একটি বড় অংশ নিয়ন্ত্রিত হয়। কিন্তু বর্তমানে বেতনের ধীরগতি, বোনাস কমে যাওয়া এবং ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তার কারণে এই শ্রেণির অনেকেই সবার আগে প্রিমিয়াম পণ্যের কেনাকাটায় রাশ টেনেছেন।

খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, বিত্তবান ক্রেতারা এখনো কেনাকাটা করছেন ঠিকই, তবে তা আগের চেয়ে অনেক কম। তারা এখন অনেক বেশি বাছ-বিচার করছেন এবং যখন বিশেষ কোনো ছাড় বা অফার থাকছে, কেবল তখনই পণ্য কিনছেন।

সূত্র: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়