শিরোনাম
◈ বাড়তি মার্কিন শুল্ক কার্যকর হলে রপ্তানিতে বড় ধাক্কার আশঙ্কা ◈ শেখ হাসিনার পক্ষের দাবি নাকচ, জুলাই অভ্যুত্থান প্রতিবেদনের পাশে জাতিসংঘ ◈ কারামুক্ত হলেন সাবেক মেয়র আইভী ◈ দিল্লির আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, নিহত ২১; আহতদের মধ্যে ৫ বাংলাদেশি ◈ ‘আসল’ তৃণমূলের নিয়ন্ত্রণ ঋতব্রতের হাতে, মমতাকে উপদেষ্টা হওয়ার প্রস্তাব ◈ অস্ট্রেলিয়ার বিরু‌দ্ধে বাংলা‌দে‌শের ওয়ান‌ডে দল ঘোষণা, মিরাজ অ‌ধিনায়ক ◈ বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারের মাসিক চার্জ তুলে নিল সরকার ◈ হাজিদের লাগেজ চুরি রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস ধর্মমন্ত্রীর ◈ ৩০০ দিনে ১৭ দেশ পেরিয়ে আর্জেন্টিনার ক্যাম্পে ৩ ভক্ত সাইক্লিস্ট  ◈ হাদি ইস্যুতে মমতার মন্তব্য; যা বললেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী (ভিডিও)

প্রকাশিত : ০৩ জুন, ২০২৬, ০৮:২৯ রাত
আপডেট : ০৪ জুন, ২০২৬, ০৪:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

মিয়ানমার-ভারত গ্যাস তুলছে, কিন্তু এক যুগেও সাগরের গ্যাস তুলতে পারল না বাংলাদেশ

সমুদ্রসীমা নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির পরও কেটে গেছে এক যুগ, সাগরে কয়েক দফা তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে নামলেও শেষ পর্যন্ত তা উৎপাদনে গড়ায়নি।

একই বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে মিয়ানমার বহু বছর ধরেই গ্যাস তুলছে, গভীর সমুদ্রে ভারতও তেল-গ্যাস উৎপাদন করছে। তাহলে বাংলাদেশ কেন পারছে না?

এই আপেক্ষ ঘোচাতে সাগরে আবার তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে বিদেশি কোম্পানিকে ফেরানোর লক্ষ্যে উৎপাদন বণ্টন চুক্তি বা পিএসসিতে পরিবর্তন এনে নতুন দরপত্র (বিডিং রাউন্ড) আহ্বান করেছে সরকার; যেখানে গ্যাস রপ্তানির পাশাপাশি কোম্পানির মুনাফার অর্থ বিদেশে নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের কারণে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার মধ্যে বিএনপির নতুন সরকারের এ আয়োজন সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধানে কতটা সাফল্য আনবে?

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও ভূতত্ত্ববিদরা বলছেন, পর্যাপ্ত তথ্য ও জরিপের ঘাটতি, দরপত্র মূল্যায়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রশাসনিক ভীতি, সামগ্রিক বিনিয়োগ পরিবেশ এবং নিজস্ব অনুসন্ধান সক্ষমতা না বাড়ানোও বাংলাদেশের পিছিয়ে থাকার বড় কারণ।

তাদের মতে, শুধু আর্থিক শর্ত সহজ করলেই হবে না, এসব বিষয়েও নজর দিতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. বদরুদ্দোজা মিয়া বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এটা তো বলতেই হবে। এটা ‘লেট’। কারণ আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমার ইতোমধ্যে গ্যাস উত্তোলন করতেছে। ‘ইন্ডিয়ান ফ্রন্টেও’ তারা কিন্তু...। সো আমরা অনেক ‘লেট’ করে ফেলছি।”

তার মতে, “‘বেটার লেট দ্যান নেভার’। এখন শুরু করতে হবে।”

বারবার ‘বিডিং’, সাঙ্গুর ‘করুণ’ পরিণতি

সমুদ্রসীমা জয়ের আগেও বিভিন্ন সময় সাগরবক্ষে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে নেমেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে সাফল্য কেবল সাঙ্গু গ্যাস ক্ষেত্রে। তবে মাত্র ১৫ বছরেই ফুরিয়ে যায় সাঙ্গুর গ্যাস, যা নিয়ে সমালোচনা হয়েছে তখন।

জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, পিএসসি ১৯৭৪ এর আওতায় অগভীর সমুদ্র এলাকার ছয়টি ব্লকের জন্য ছয়টি আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানির সঙ্গে ছয়টি পিএসসি স্বাক্ষরিত হয়। বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনযোগ্য তেল-গ্যাসের মজুদ সম্পর্কে তথ্য না থাকায় আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানিগুলো ব্লকগুলো ছেড়ে দেয়।

পিএসসি ১৯৯৪ এর আওতায় কেয়ার্ন এনার্জি পরে কেয়ার্ন এনার্জি ও শেল এর জয়েন ভেঞ্চার এবং পরবর্তীতে স্যান্টোস এর সঙ্গে ২টি ব্লকের (ব্লক ১৫ এবং ১৬) জন্য দুটি পিএসসি হয়। ব্লক ১৫-তে কোন গ্যাস পাওয়া যায়নি। ব্লক ১৬-তে সাঙ্গু গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয় এবং ১৯৯৮ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত গ্যাস উৎপাদিত হয়। গ্যাস ক্ষেত্রটির মজুদ ফুরিয়ে যাওয়ায় ২০১৩ সালে স্যান্তোস চুক্তির অবসান ঘটায়।

সে সময় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে সাঙ্গু গ্যাসক্ষেত্রে এক টিসিএফ গ্যাস আছে বলে ধারণা করা হলেও পরবর্তীতে তার অর্ধেক বা ৫৮০ বিলিয়ন ঘনফুট মজুদ নির্ধারণ করা হয়। দৈনিক প্রায় ৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মাত্রা শুরু হওয়া উৎপাদন কয়েক বছরের মধ্যে দৈনিক ১৪০ থেকে ১৬০ মিলিয়ন ঘনফুটে পৌঁছে যায়।

তখন সাঙ্গুর পরিণতিকে ‘অপমৃত্যু’ সঙ্গে তুলনা করেছিলেন দেশের বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ। তাদের মতে, কূপপ্রতি গ্যাস উত্তোলনের সীমা অতিক্রম করায় ভূ-অভ্যন্তরে গ্যাসস্তর ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা সাঙ্গু গ্যাসক্ষেত্রের এই করুণ পরিণতি ডেকে আসে।

মডেল পিএসসি ২০০৮ অনুসরণে ঘোষিত বিডিং রাউন্ডের মাধ্যমে গভীর সমুদ্রের ব্লক ডিএস-১০ ও ডিএস ১১ এর জন্য কনোকোফিলিপস এর সঙ্গে একটি পিএসসি স্বাক্ষরিত হয়। কিন্তু আর্থিক শর্তাবলী তাদের বিবেচনায় অনুকূল না হওয়ায় ২০১৫ সালে তারা ব্লক দুটি ছেড়ে দেয়।

মিয়ানমারের সঙ্গে ২০১২ সালে এবং ভারতের সঙ্গে ২০১৪ সালে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তির পর বঙ্গোপসাগরের এক লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটার এলাকায় বাংলাদেশের অধিকার নিশ্চিত হয়।

পরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য সমুদ্র এলাকাকে ২৬টি ব্লকে ভাগ করা হয়। এর মধ্যে ১১টি অগভীর এবং ১৫টি গভীর সমুদ্র ব্লক। কিন্তু ধারাবাহিকতা না থাকায় অনুসন্ধানে গতি আসেনি।

মডেল পিএসসি ২০১২ অনুসরণে ঘোষিত বিডিং রাউন্ডের মাধ্যমে অগভীর সমুদ্রের ব্লক এসএস-১১ এর জন্য স্যান্তোস এর সঙ্গে একটি পিএসসি স্বাক্ষরিত হয়। এশিয়া থেকে কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ায় তারা ২০২০ সালে ব্লকটি ছেড়ে দেয়।

২০১২ সালের ‘বিডিং রাউন্ডে’ স্যান্টোস, ওএনজিসি ও আরও কয়েকটি কোম্পানি ব্লক পেলেও বাণিজ্যিক গ্যাস উৎপাদনে যেতে পারেনি কেউ।

দক্ষিণ কোরিয়ার পসকো দাইয়ুও গভীর সমুদ্রের ব্লক ছেড়ে যায় দাম নিয়ে মতবিরোধের মধ্যে।

ভারতের ওএনজিসি অগভীর সমুদ্রের এসএস ০৪ ও এসএস ০৯ ব্লকে দীর্ঘদিন কাজ করলেও বাণিজ্যিক সাফল্য আসেনি।

এরপর দীর্ঘ সময় জ্বালানি সংকটে ভুগলেও প্রায় ১১ বছরে নতুন কোনো দরপত্র ডাকা হয়নি। ২০১৯ সালে ‘মডেল পিএসসি’ তৈরি করা হলেও তা লাভজনক না হওয়ার শঙ্কা এবং কোভিডসহ নানা কারণ আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোকে বঙ্গোপসাগরে গ্যাস অনুসন্ধানের কাজে আগ্রহী করে তুলতে পারেনি।

২০২৩ সালের মাঝামাঝি আওয়ামী লীগ সরকার আবার সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধানের উদ্যোগ নিয়ে আবার ‘মডেল পিএসসি’ প্রস্তুত করে। জলভাগে নরওয়ে ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ ভেঞ্চার টিজিএস-স্লামবার্জার (এসএলবি) ‘মাল্টিকায়েন্ট টুডি সার্ভে’ করে, যা সাগরে গ্যাস থাকার সম্ভাবনার বাস্তবিক তথ্য হাতে পাওয়ার সুযো এনে দেয়।

গ্যাসের দাম ও ভাগাভাগির হিস্যা বাড়িয়ে করা সেই পিএসসিতে ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নতুন দরপত্র আহ্বান করা হয়। সাতটি আন্তর্জাতিক কোম্পানি দরপত্রের কাগজ কিনলেও শেষ পর্যন্ত কেউ প্রস্তাব জমা দেয়নি।

ওই সময় আগ্রহী কোম্পানিগুলোর মধ্যে ছিল এক্সন মবিল, শেভরন, ইনপেক্স, পিটিটিইপি, সিএনওওসি, ক্রিস এনার্জি ও ওএনজিসি।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার দরপত্র জমা দেওয়ার সময় তিন মাস বাড়ালেও কোনো কোম্পানি সাড়া দেয়নি।

এবার নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পিএসসি সংশোধন করে আবার ‘বিডিং রাউন্ড’ ঘোষণা করল।

আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত দরপত্রের জন্য প্রয়োজনীয় নথি কেনা ও দরপত্র জমা দেওয়া যাবে।

এক যুগে কেন পারেনি বাংলাদেশ

বঙ্গোসাগরের সীমানা নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির পর মিয়ানমার ২০১৪ সাল থেকে সাগরবক্ষের শোয়ে গ্যাসক্ষেত্রে উৎপাদন করছে। মিয়ানমারের সরকারের তথ্য অনুযায়ী, এই গ্যাসক্ষেত্রের গ্যাস চীনে রপ্তানি করে দেশটি।

অন্যদিকে বঙ্গোপসারের কৃষ্ণা-গোদাবরী অববাহিকার গভীর সমুদ্রে ভারতও তেল-গ্যাস উৎপাদন করছে ২০২৪ সাল থেকে। যদিও তারা অগভীর সমুদ্রে গ্যাস উত্তোলন শুরু করে দুই দশক আগে থেকেই।

কিন্তু মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমার বিরোধ নিষ্পত্তির হয়ে গেলেও গত ১২ বছরে বাংলাদেশ ২৬টি ব্লকের অধিকাংশ ব্লকেই অনুসন্ধান শুরু করতে পারেনি।

স্যান্টোস, ওএনজিসিসহ কয়েকটি কোম্পানি ব্লক পেলেও অনুসন্ধানে সাফল্য আসেনি। এ ব্যর্থতা কেন? আবার দরপত্র ডেকেও সাড়া না পাওয়ার পেছনে কী কারণ?

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও বুয়েটের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ইজাজ হোসেন বলছেন, আগের দুই দফার ‘বিডিং’ ব্যর্থ হওয়ার পেছনে একাধিক কারণ কাজ করেছে।

তার মতে, আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোকে আকৃষ্ট করতে যতটা প্রণোদনা প্রয়োজন ছিল, বাংলাদেশ তা দিতে পারেনি।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে অধ্যাপক ইজাজ বলেন, “যারা এখানে এসে এই কাজগুলো করবে, ঝুঁকি নেবে, তাদেরকে যতখানি ‘ইনসেন্টিভ’ দেওয়া দরকার, সেটার থেকে আমরা কিছুটা কম ‘অফার’ করেছি।”

তার মতে, সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াতেও এক ধরনের ভয় কাজ করেছে। বিশেষ করে দরপত্র মূল্যায়ন ও ব্লক বরাদ্দের মতো বিষয়ে সরকারি কর্মকর্তারা ঝুঁকি নিতে চান না।

এই বিশেষজ্ঞ বলেন, “আমাদের যে এই প্রক্রিয়াটা ‘অ্যাওয়ার্ড’ করার, এটা এত রিস্কি যে একটু এদিক ওদিক হলে যারা এটা ‘অ্যাওয়ার্ড’ করছে সরকারি অফিসাররা, তারা ওই ব্যাপারটা করতে চায় না। কারণ তারা ভয় পায়, এটা যদি অন্য কোনো দিকে চলে যায় তাহলে তাদেরকে দোষারোপ করা হবে।”

ইজাজ হোসেন মনে করেন, দেশের গ্যাস সম্ভাবনা নিয়েও দীর্ঘদিন ভুল ধারণা কাজ করেছে।

“অনেকের বিশ্বাস যে আমাদের গ্যাস ফুরিয়ে গেছে। আমাদের আর তেমন কিছু পাওয়ার সম্ভাবনা নাই। এটা একটা ধারণা অনেকের মধ্যে।”

তার ভাষায়, সেই কারণেই অনুসন্ধানকে অবহেলা করে আমদানিনির্ভর জ্বালানির দিকে ঝুঁকে পড়েছে বাংলাদেশ।

“ধরে নেওয়া হয়েছে যে জ্বালানি আমদানি করাই ভালো।”

অধ্যাপক ইজাজ বলেন, বিদেশি কোম্পানিকে যুক্ত করার বিরোধিতাও অনুসন্ধান এগোনোর পথে বাধা হয়েছে।

“আমাদের একটা যে গ্রুপ আছে, তারা কিছু হলেই বলে আমাদের দেশকে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে, আমরাই পারব। এইসব নানাবিধ কারণ একত্র করলে যেটা দাঁড়ায়, সেটা হচ্ছে আমাদের এটা হয়ে ওঠে নাই।”

তবে বাংলাদেশ এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড-বাপেক্সের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমজাদ হোসেনের মতে, সমুদ্র অনুসন্ধানে বাংলাদেশের বড় ব্যর্থতার কারণ হল রাষ্ট্রায়ত্ত এই অনুসন্ধান কোম্পানিকে বাস্তব কাজে সম্পৃক্ত না করা।

তিনি বলেন, “সাগরে আমাদের নিজের কোনো সম্পৃক্ততা নাই। আমাদের খালি মালিকানা আছে। বাস্তবে আমি কীভাবে কাজ করব, সেই অংশগ্রহণ নেই।”

তার মতে, নিজস্ব অংশগ্রহণ না থাকলে বাংলাদেশকে বিদেশি কোম্পানির ওপর পুরোপুরি নির্ভর করতে হয়।

“বাস্তব যদি আপনার কোনো অংশগ্রহণ না থাকে, আপনি অন্যের উপর নির্ভরশীল হবেন। অন্যের উপর নির্ভরশীল হলে তারা যখন নিজেদের লাভজনক মনে করবে, তখনই আসবে।”

‘সাগরে পর্যাপ্ত অনুসন্ধান হয়নি’

বাংলাদেশের সমুদ্র এলাকায় পর্যাপ্ত অনুসন্ধানই হয়নি বলে মনে করেন অধ্যাপক বদরুদ্দোজা মিয়া।

তিনি বলেন, “আমার মনে হয় সাগরে আসলে অনুসন্ধানটা খুবই কম হইছে। মানে হয়নি বললে চলে।”

অধ্যাপক বদরুদ্দোজার তার মতে, গভীর সমুদ্রে বড় বিনিয়োগ আনার আগে আরও বেশি সাইসমিক জরিপ, ভূতাত্ত্বিক তথ্য সংগ্রহ ও ডেটা বিশ্লেষণ প্রয়োজন ছিল।

“এখানে আসলে প্রথমত কিছু ‘ইনডাইরেক্ট মেথডে’ তথ্য সংগ্রহ করা দরকার। কিছু সংগ্রহ করা হইছে বিদেশি কোম্পানির সাহায্যে। বিশেষ করে সার্ভে, এগুলো করা দরকার।”

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলো বড় বিনিয়োগের আগে নির্ভরযোগ্য ‘মাল্টিক্লায়েন্ট সাইসমিক ডেটা’ চায়। কিন্তু বাংলাদেশের সাগরক্ষের ব্লকগুলোর ক্ষেত্রে সেই তথ্যভাণ্ডার এখনও সীমিত।

নতুন পিএসসিতে কী বদল

সরকার বলছে, আগের পিএসসিতে আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর যেসব আপত্তি ছিল, এবার সেগুলো সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে।

নতুন ‘বাংলাদেশ অফশোর মডেল পিএসসি ২০২৬’ এ বিদেশি কোম্পানির জন্য বেশ কিছু আর্থিক সুবিধা বাড়ানো হয়েছে।

এবার কোম্পানির মুনাফা পুরোপুরি বিদেশে নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। তুলে দেওয়া হয়েছে ‘সিগনেচার বোনাস’ ও ‘রয়্যালটি’। গ্যাসের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে ‘ব্রেন্ট ক্রুডের’ দরের সঙ্গে সমন্বয় করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

অগভীর ও গভীর সমুদ্র উভয় ধরনের ব্লকের জন্য ১০০ শতাংশ ‘কস্ট রিকভারির’ সুযোগ রাখা হয়েছে, তবে বছরে তা ৭৫ শতাংশের বেশি হবে না।

এছাড়া কোম্পানির অংশের গ্যাস দেশের বাজারে তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রি বা দেশীয় চাহিদা মেটানো এবং বাংলাদেশ তেল, গ্যাস, ও খনিজসম্পদ করপোরেশন-পেট্রোবাংলার আগে কেনার অধিকার সাপেক্ষে রপ্তানির সুযোগ রাখা হয়েছে।

জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, আগের ‘বিডিংয়ে’ আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর আপত্তি ছিল মূলত গ্যাসের দাম, পাইপলাইন ট্যারিফ, মুনাফা প্রত্যাবাসন এবং পর্যাপ্ত ভূতাত্ত্বিক তথ্য না থাকা নিয়ে।

অধ্যাপক বদরুদ্দোজা বলেন, “আগের ‘বিডিংয়ে’ সমস্যা ছিল বা যে পয়েন্টগুলো আমাদের জন্য ‘স্ট্রং’, সেগুলো এবার অ্যাড্রেস করা হয়েছে।”

ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিস-আইইইএফএর লিড এনার্জি অ্যানালিস্ট শফিকুল আলমও মনে করেন, আগের পিএসসির শর্ত আন্তর্জাতিক তেল-গ্যাস কোম্পানিগুলোকে আকৃষ্ট করতে পারেনি।

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “শর্তগুলা খুব একটা আকর্ষণ করতে পারছিল না এই আন্তর্জাতিক অয়েল অ্যান্ড গ্যাস কোম্পানিগুলোকে। এখন, এবার তো মনে হচ্ছে যে আগের চেয়ে অনেক ভালো শর্ত সরকার দিয়েছে।”

নতুন পিএসসির শর্তে আন্তর্জাতিক কোম্পানির আগ্রহ তৈরির সম্ভাবনা আছে বলে মনে করেন শফিকুল আলম।

“মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে যেটা, ভিত্তিমূল্যের একটা ধাপ করে দেওয়া হয়েছে। আর যেটা আগে ১০ শতাংশ ছিল, সেটা ১১ শতাংশ করা হয়েছে। এগুলো আগের চেয়ে উন্নত এবং সেটা কোম্পানিগুলোকে আকর্ষণের করার যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে।”

তবে শুধু পিএসসির শর্ত উন্নত করলেই বিনিয়োগ নিশ্চিত হবে না বলে মনে করেন শফিকুল আলম।

তিনি বলেন, “বিনিয়োগ তো শুধুমাত্র এটার ওপর না, বিনিয়োগ পরিবেশের ওপরও নির্ভর করে। আমাদের সামগ্রিক বিনিয়োগই তো কম। সবকিছু নির্ভর করবে আসলে স্থিতিশীল একটা পরিবেশ এবং আরও অনেক কিছুর ওপর।”

অধ্যাপক বদরুদ্দোজাও মনে করেন, শুধু আর্থিক সুবিধা বাড়ালেই হবে না। অনুসন্ধানে বাস্তব অগ্রগতি আনতে হলে তথ্য, সক্ষমতা ও ধারাবাহিকতা দরকার।

সীমান্তঘেঁষা যৌথ কাঠামো নিয়ে শঙ্কা

বিশেষজ্ঞদের মতে, বঙ্গোপসাগরের ভূতাত্ত্বিক কাঠামো অনেক ক্ষেত্রেই আন্তঃসীমান্ত প্রকৃতির। বাংলাদেশের কিছু গ্যাস কাঠামো ভারত বা মিয়ানমারের সঙ্গেও সংযুক্ত থাকতে পারে।

অধ্যাপক বদরুদ্দোজা মতে, সীমান্তঘেঁষা যৌথ কাঠামোর ক্ষেত্রে প্রতিবেশী দেশ আগে উৎপাদন শুরু করলে সম্পদ ব্যবহারের প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।

“যৌথ যে কাঠামোগুলো, সেখানে যদি তেল-গ্যাস থাকে, ওরা যদি উত্তোলন শুরু করে থাকে, তাহলে তারা নিয়ে যাবে।”

দিকনিদের্শক খনন প্রযুক্তি বা ‘ডিরেকশনাল ড্রিলিং’ প্রযুক্তির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “মোটামুটি আট দশ কিলোমিটার একটা স্থানে খনন করে সেখান থেকে দশ কিলোমিটার দূরে কোনো অবস্থান থেকে কিন্তু তেল গ্যাস নিয়ে যাওয়া সম্ভব।”

আরেক বিশ্লেষক শফিকুল আলম বলেন, ভারত বা মিয়ানমারের উদাহরণের চেয়ে বাংলাদেশের জন্য নিজের গ্যাস সম্পদে আগেই গুরুত্ব দেওয়া জরুরি ছিল।

“আমাদের নিজস্ব গ্যাসের তো প্রয়োজন আছে। এটার জন্য আগে থেকেই আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া দরকার ছিল। স্থলভাগেও আমাদের নিজস্ব যে গ্যাসগুলো, বাপেক্স (বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাক্টশন কোম্পানি লিমিডেট) কাজ করছে, সেটার সঙ্গে সাগরে গ্যাস আহরণে আরও আগেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া দরকার ছিল।”

তার মতে, “তাহলে আমাদের এলএনজির উপর যে নির্ভরশীলতা তৈরি হয়েছে, সেটা হয়তো আমরা এড়াতে পারতাম।”

বাপেক্সের সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন

গভীর সমুদ্রে অনুসন্ধানের জন্য বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা এখনও সীমিত বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

আর জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, গভীর সমুদ্রে অনুসন্ধানের মতো প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা বাপেক্সের নেই।

তবে রাষ্ট্রায়ত্ত অনুসন্ধান কোম্পানি হিসেবে বাপেক্সকে প্রকল্পের পরিকল্পনা, তদারকি ও বাস্তব কাজে যুক্ত রাখার পক্ষে মত দিয়েছে কোম্পানি সাবেক এমডি আমজাদ হোসেন।

তিনি বলেন, “বাপেক্সকে যখন সম্পৃক্ত করবে, কাজ করার সুযোগ দেবে, বাপেক্স তখন এটা সম্বন্ধে জানতে পারবে।”

তার মতে, সমুদ্রে কূপ খনন জন্য প্রয়োজনীয় জাহাজা, রিগ, লগিং বা অন্যান্য সেবা ভাড়া করা যায়; কিন্তু পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্তের জায়গায় রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানির অংশগ্রহণ থাকতে হবে।

“বাপেক্স হল এই ভূখণ্ডের মালিকের মতো। যে কাজ নিজে করতে পারবে, সে নিজে করবে। আর যেটার জন্য সেবা নেওয়া লাগবে, সে সেবা নিয়োগ করবে।”

অধ্যাপক বদরুদ্দোজা বলেন, বাপেক্স, বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস্ কোম্পানি লিমিটেড-বিজিএফসিএল ও সিলেট গ্যাস ফিল্ডসকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।

“গভমেন্ট স্কেলে গভমেন্টের কোম্পানির মধ্যে যদি আমরা কোম্পানি রাখি, তাহলে এই কোম্পানি দাঁড়াবে না।”

তার মতে, আন্তর্জাতিক তেল গ্যাস কোম্পানির মতো বেতন কাঠামো, প্রণোদনা ও দক্ষ জনবল ছাড়া অনুসন্ধানে প্রতিযোগিতা করা সম্ভব নয়।

“আপনি তেল গ্যাস কোম্পানিতে যারা ‘এক্সপার্ট লেভেলের’ কাজ করে তাদের বেতন সরকারি কাঠামোতে দেবেন, আর তারা এখানে সার্ভিস দিয়ে যাবে, এটা আশা করা ঠিক হবে না।”

বিদেশে চলে যাওয়া অভিজ্ঞ বাংলাদেশি জ্বালানি বিশেষজ্ঞদেরও ফিরিয়ে আনার পরামর্শ দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষক।

অনুসন্ধানে কী গ্যাস মিলবে?

নতুন ‘বিডিং রাউন্ড’ নিয়ে আশাবাদী হলেও অনুসন্ধানে গ্যাস পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই বলে সতর্ক করেছেন অধ্যাপক ইজাজ হোসেন।

তিনি বলেন, “এটা যদি পুরোপুরি সফল হয়, যতগুলা কোম্পানি আমরা চাই, তাতেও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়ে যাবে না। কারণ কোনো ১০০ শতাংশ নিশ্চয়তা নাই যে এই অনুসন্ধান থেকে আমরা গ্যাস পাবো।”

তার মতে, অনুসন্ধানে ব্যর্থ হওয়ার ঝুঁকিও যথেষ্ট বেশি। তবে অনুসন্ধান না করলে বলা যাবে না গ্যাস মিলবে কি মিলবে না।

তবে এই বিশেষজ্ঞ মনে করেন, এবারের দরপত্র সফল হওয়ার সম্ভাবনা আগের চেয়ে বেশি। এর একটি কারণ নির্বাচিত সরকার, আরেকটি কারণ নতুন পিএসসির শর্ত।

“এই সরকারকে লোকজন চেনে। এটার একটা সুবিধা আছে।”

নতুন পিএসসির আর্থিক সুবিধার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “পিএসসিটা প্রস্তাব করা হয়েছে, এটা ‘এক্সট্রিমলি সুইটেন ফর ইনভেস্টরস’। যারা বিনিয়োগ করতে আসবে তাদেরকে নানাবিধ সুবিধা দেওয়া হয়েছে।”

বড় কোম্পানি না এলেও মাঝারি কোম্পানিগুলো আগ্রহ দেখাতে পারে বলে মনে করেন অধ্যাপক ইজাজ।

“কিন্তু ওদের আবার ঝুঁকিপূর্ণ খাতে বিনিয়োগ করার মতো পুঁজি কম।”

তার মতে, “আমি আশাবাদী যে আমাদের এখানে ‘বিড’ হবে এবং ‘এক্সপ্লোরেশন’ হবে। পাব কি পাব না, সে ব্যাপারে আমি মন্তব্য করতে চাই না। কারণ এগুলা অনেকটা ভাগ্যের মতো, মাটির নিচে আছে কি নাই।”

বাপেক্সের সাবেক এমডি আমজাদ বলেন, সমুদ্রে আগের জরিপ ও কূপ খননের তথ্য বাংলাদেশ নিজেরা যথাযথভাবে বিশ্লেষণ করেনি।

তার ভাষ্য, ১৯৭৫ সালে সমুদ্রে যে সাইসমিক জরিপ ও কূপ খনন হয়েছিল, সেগুলোর ‘ড্রিলিং ডেটা, লগ ডেটা’ ও ফলাফল দেশীয় বিশেষজ্ঞদের দিয়ে নতুন করে বিশ্লেষণ করা দরকার ছিল।

আমজাদ হোসেন বলেন, “আমাদের ৩২ হাজার ‘লাইন কিলোমিটার সার্ভে’ হয়েছে। ১০ থেকে ১২টা কূপ খনন করা হয়েছিল। সেগুলার ‘ড্রিলিং ডাটা, লগ ডাটা’ আমরা নিজেরা দেখি নাই।”

তার মতে, আগের কূপগুলো সত্যিই ‘ড্রাই’ (তেল-গ্যাস না থাকা) ছিল কি না, নাকি তথ্য বিশ্লেষণে ঘাটতি ছিল, সেটিও মূল্যায়নের প্রয়োজন ছিল।

নতুন পিএসসিতে বড় সাড়া মেলার বিষয়েও সন্দিহান এই বিশেষজ্ঞ।

তিনি বলেন, “আমি ১০০ শতাংশ নিশ্চয়তা দিতে পারব না। আমার মনে হয়, (বিদেশি কোম্পানি) আগ্রহী হওয়ার সম্ভাবনা কম।”

আমজাদ হোসেনের মতে, ভারত ও মিয়ানমারসহ আশেপাশের এলাকায় বিদেশি কোম্পানিগুলো ইতোমধ্যে কাজ করেছে, ফলে বঙ্গোপসাগরের সম্ভাবনা নিয়ে তাদের একটি ধারণা তৈরি হয়েছে। তারা আসবে অনেক যাচাই-বাছাই করে।

এলএনজি নির্ভরতার চাপ

দেশে গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়ায় বাংলাদেশ এখন প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ এলএনজি আমদানি করছে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ৩৬০ থেকে ৩৮০ কোটি ঘনফুট। জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে ২৮০ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে ৭০০ থেকে ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট আসে আমদানি করা এলএনজি থেকে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে এলএনজির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা অর্থনীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ বাড়াবে।

শফিকুল আলম বলেন, বাংলাদেশের প্রাথমিক জ্বালানির বড় অংশই এখন আমদানিনির্ভর। এ পরিস্থিতি থেকে বের হতে দেশে গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানোর পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে ধারাবাহিকভাবে কাজ করতে হবে।

“আমাদের প্রাথমিক জ্বালানির ৬২ শতাংশের মতো আমরা আমদানির উপর নির্ভরশীল। এখন দুইটাই বিকল্প- নিজস্ব গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানো, সেই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানি বাড়ানো এবং ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাওয়া।”

অধ্যাপক বদরুদ্দোজা বলেন, “অনুসন্ধানে কার্পণ্য করলে চলবে না। অনুসন্ধান করতে হবে। আমাদের জ্বালানির সম্ভাবনা আছে অফশোরে।”

তার মতে, বাংলাদেশ এতদিন মূলত অগভীর স্তর থেকে গ্যাস তুলেছে। এখন গভীর স্তরে যেতে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

“এখন যেহেতু প্রযুক্তি আস্তে আস্তে উন্নত হচ্ছে, উচ্চ চাপের গ্যাস স্তরে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হইছে।”

অধ্যাপক বদরুদ্দোজা বলছে, “আমাদের পরিকল্পনাগুলো আরও আগে থেকে করা উচিত ছিল।”

সূত্র : বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়