ইউরোপে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখেন অনেক শিক্ষার্থী। সেই স্বপ্ন পূরণের পথে বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে ইতালিতে। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য দেশটির একাধিক সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য তাদের আবেদনপোর্টাল খুলে দিয়েছে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো আবেদন করা যাচ্ছে কোনো ফি ছাড়াই।
বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা এখন সরাসরি অনলাইনে আবেদন করতে পারছেন ইতালির নামকরা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। ফলে কম খরচে ইউরোপে পড়াশোনার সুযোগ আরও সহজ হয়ে উঠছে।
এখনই আবেদন করা যাচ্ছে
বর্তমানে ইতালির অন্তত ২৮টি বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ভর্তি আবেদন গ্রহণ করছে। এর মধ্যে রয়েছে দেশটির শীর্ষস্থানীয় ও ঐতিহ্যবাহী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও।
তালিকায় আছে বোলোনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রোমের সাপিয়েঞ্জা বিশ্ববিদ্যালয়, পিসা বিশ্ববিদ্যালয়, মিলান বিশ্ববিদ্যালয়, পাদোয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও তুরিন পলিটেকনিক বিশ্ববিদ্যালয়সহ আরও অনেক প্রতিষ্ঠান।
এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিভিন্ন বিষয়ে ব্যাচেলর ও মাস্টার্স প্রোগ্রামে আবেদন করা যাচ্ছে সরাসরি অনলাইনের মাধ্যমে।
শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো, কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ধরনের আবেদন ফি লাগছে না। অর্থাৎ শিক্ষার্থীরা শুধু প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট দিয়ে অনলাইনে আবেদন করলেই হচ্ছে।
তবে সব বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে বিষয়টি এক নয়। কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্দিষ্ট আবেদন ফি দিতে হয়। তাই আবেদন করার আগে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শর্ত ভালোভাবে দেখে নেওয়া জরুরি।
কীভাবে আবেদন করতে হবে?
ইতালির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আবেদন প্রক্রিয়া পুরোপুরি অনলাইনভিত্তিক। সাধারণত শিক্ষার্থীদের একটি নির্দিষ্ট পোর্টালে গিয়ে আবেদন করতে হয়।
আবেদনের সময় যেসব ডকুমেন্ট প্রয়োজন হয়, সেগুলো হলো পাসপোর্টের কপি, শিক্ষাগত সনদ (সার্টিফিকেট ও ট্রান্সক্রিপ্ট), সিভি (ইউরোপাস ফরম্যাটে হলে ভালো) এবং প্রোগ্রাম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় অন্যান্য কাগজপত্র। সব ডকুমেন্ট অবশ্যই পরিষ্কার স্ক্যান কপি হতে হবে।
ইতালির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রতিটি কোর্সের আবেদন সময়সীমা আলাদা। কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে আগে আবেদন শেষ হয়ে যেতে পারে। তাই শিক্ষার্থীদের দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে আবেদন করা গুরুত্বপূর্ণ। দেরি করলে পছন্দের কোর্সে সুযোগ হাতছাড়া হতে পারে।
পোর্টাল কেন গুরুত্বপূর্ণ?
আবেদন প্রক্রিয়ায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো বিশ্ববিদ্যালয় পোর্টাল। কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অফার লেটার পাওয়ার পর শিক্ষার্থীদের এই পোর্টালে গিয়ে প্রি-এনরোলমেন্ট করতে হয়।
এটি ভিসা প্রক্রিয়ার জন্য বাধ্যতামূলক ধাপ হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেই শেষ নয়, এই ধাপটিও সম্পন্ন করতে হয়।
বড় সুযোগ স্কলারশিপ
ইতালিতে পড়াশোনার অন্যতম বড় সুবিধা হলো আঞ্চলিক স্কলারশিপ বা রিজিওনাল স্কলারশিপ। এই স্কলারশিপ পেলে অনেক সময় টিউশন ফি ছাড়াও থাকা-খাওয়ার খরচও কভার হয়ে যায়। ফলে অনেক শিক্ষার্থী তুলনামূলক কম খরচে ইউরোপে পড়াশোনা করতে পারেন।
যেসব বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি
আবেদন করার আগে কয়েকটি বিষয় অবশ্যই যাচাই করা উচিত। প্রথমত আপনার আগের পড়াশোনার বিষয় এবং আপনি যে কোর্সে আবেদন করছেন তার মধ্যে মিল আছে কি না। দ্বিতীয়ত সব ডকুমেন্ট সঠিকভাবে প্রস্তুত আছে কি না। তৃতীয়ত প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেডলাইন আলাদা হওয়ায় সময়মতো আবেদন করা জরুরি।
ইতালিতে উচ্চশিক্ষার সুযোগ এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি উন্মুক্ত। ২৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ে একসঙ্গে আবেদনপোর্টাল খোলা থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বড় সুযোগ।
যারা ইউরোপে কম খরচে ভালো মানের শিক্ষা নিতে চান। তাদের জন্য এটি হতে পারে সময়ের সেরা সুযোগ। তবে সময়মতো সিদ্ধান্ত নেওয়াই এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
স্বপ্ন যদি ইউরোপে পড়াশোনা হয়, তাহলে এখনই প্রস্তুতি নেওয়ার সময়।