শিরোনাম
◈ বাড়তি মার্কিন শুল্ক কার্যকর হলে রপ্তানিতে বড় ধাক্কার আশঙ্কা ◈ শেখ হাসিনার পক্ষের দাবি নাকচ, জুলাই অভ্যুত্থান প্রতিবেদনের পাশে জাতিসংঘ ◈ কারামুক্ত হলেন সাবেক মেয়র আইভী ◈ দিল্লির আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, নিহত ২১; আহতদের মধ্যে ৫ বাংলাদেশি ◈ ‘আসল’ তৃণমূলের নিয়ন্ত্রণ ঋতব্রতের হাতে, মমতাকে উপদেষ্টা হওয়ার প্রস্তাব ◈ অস্ট্রেলিয়ার বিরু‌দ্ধে বাংলা‌দে‌শের ওয়ান‌ডে দল ঘোষণা, মিরাজ অ‌ধিনায়ক ◈ বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারের মাসিক চার্জ তুলে নিল সরকার ◈ হাজিদের লাগেজ চুরি রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস ধর্মমন্ত্রীর ◈ ৩০০ দিনে ১৭ দেশ পেরিয়ে আর্জেন্টিনার ক্যাম্পে ৩ ভক্ত সাইক্লিস্ট  ◈ হাদি ইস্যুতে মমতার মন্তব্য; যা বললেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী (ভিডিও)

প্রকাশিত : ০৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:২৭ দুপুর
আপডেট : ০৩ জুন, ২০২৬, ১০:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

পাঁচ বছরের মধ্যে জলবায়ু ঝুঁকি আরও তীব্র হবে, সতর্ক করল বিশ্বব্যাংক

এম মাছুম বিল্লাহ: দেশের সামনে দ্রুত এগিয়ে আসা জলবায়ু সংকট নিয়ে নতুন করে সতর্কবার্তা দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যেই দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশের পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে উঠবে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, জনসংখ্যার উচ্চ ঘনত্ব, তীব্র উষ্ণায়ন এবং ভৌগোলিক উন্মুক্ততার কারণে দক্ষিণ এশিয়া ইতোমধ্যেই বিশ্বের অন্যতম জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল। এর মধ্যে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ চরম তাপপ্রবাহের মুখে পড়বে। একই সময়ে প্রায় এক-চতুর্থাংশ মানুষ তীব্র বন্যার ঝুঁকিতে থাকবে।

সোমবার ঢাকায় বিশ্বব্যাংকের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত ‘ঝুঁকি থেকে স্থিতিস্থাপকতা (রেজিলেন্স): দক্ষিণ এশিয়ায় মানুষ ও প্রতিষ্ঠানকে অভিযোজিত করতে সহায়তা’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। এতে বলা হয়, উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততার বিস্তার কৃষি, পানি এবং জনস্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে, যার ফলে লাখ লাখ মানুষের জীবিকা হুমকির মুখে পড়ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জলবায়ু অভিযোজনের প্রধান চাপ এখন পরিবার ও প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর পড়ছে। তিন-চতুর্থাংশেরও বেশি পরিবার ও প্রতিষ্ঠান আগামী এক দশকে আবহাওয়ার ধাক্কার আশঙ্কা করছে। ইতোমধ্যে ৬৩ শতাংশ প্রতিষ্ঠান ও ৮০ শতাংশ পরিবার কিছু না কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে এসব পদক্ষেপের বেশিরভাগই কম খরচের এবং মৌলিক, উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর নয়।

বাংলাদেশের ২৫০টি উপকূলীয় গ্রামে পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো এখন সবচেয়ে জরুরি অপূর্ণ চাহিদা। দরিদ্র ও কৃষিনির্ভর পরিবারগুলো এই সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তবে বাঁধ, ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র ও আগাম সতর্কতা ব্যবস্থায় সরকারি বিনিয়োগ প্রাণহানি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

প্রতিবেদন বলছে, বর্তমান সংকটের পরিধি এতটাই বড় যে শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। বাজেট সীমাবদ্ধতার কারণে দক্ষিণ এশিয়ার সরকারগুলোর পক্ষে এককভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা কঠিন। তাই বেসরকারি খাতকে আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ও ভুটানের জন্য বিশ্বব্যাংকের ডিভিশন ডিরেক্টর জ্যঁ পেম বলেন, পরিবেশগত চ্যালেঞ্জের কারণে বাংলাদেশের স্থিতিস্থাপকতা বারবার পরীক্ষার মুখে পড়ছে। তিনি জানান, নগর পরিকল্পনা, আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা, সামাজিক সুরক্ষা, জলবায়ু-স্মার্ট কৃষি এবং উদ্ভাবনী অর্থায়নের মাধ্যমে অভিযোজন জোরদার করা জরুরি।

বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ও প্রতিবেদনের সহলেখক সিদ্ধার্থ শর্মা বলেন, “বাংলাদেশ ইতোমধ্যে অভিযোজনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখিয়েছে। তবে জলবায়ু সংকটের জটিলতা মোকাবিলায় সরকার ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত ও দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন।”

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, প্রাথমিক সতর্কতা ব্যবস্থা ও ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রে বিনিয়োগ বড় দুর্যোগে প্রাণহানি কমাতে কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। ভবিষ্যতে লক্ষ্যভিত্তিক বিনিয়োগ ও শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে জলবায়ু-সহনশীল উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা সম্ভব।

এদিকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ বলেন, জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং বহুমুখী বিনিয়োগ প্রয়োজন। তিনি জানান, সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন নীতিমালা প্রণয়ন করেছে, তবে সেগুলোর বাস্তবায়নই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এ লক্ষ্যে কয়েকটি পাইলট প্রকল্পও চলমান রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমন্বিত উদ্যোগ, প্রযুক্তি ব্যবহার এবং পর্যাপ্ত অর্থায়ন নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশ জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় সক্ষমতা আরও বাড়াতে পারবে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়