শিরোনাম
◈ তাপপ্রবাহে পুড়ছে দেশ, দিনাজপুরে সর্বোচ্চ ৩৮.৫° সেলসিয়াস, আজও ঝড়-বৃষ্টির আভাস ◈ মার্কিন অবরোধের প্রভাব: ভিসা-মাস্টারকার্ড লেনদেন স্থগিতের ঘোষণা কিউবার ◈ মেডিকেলের ছাত্রীরা বছরের পর বছর যৌন হয়রানির শিকার, কমপক্ষে ৩০ জনের অভিযোগ ◈ দ‌ক্ষিণ আ‌ফ্রিকার টি-টোয়েন্টিতে খেল‌বেন রিশাদ হো‌সেন! ◈ ১৩ বছর পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের মা‌টি‌তে ওয়ান‌ডে জ‌য়ের স্বাদ পে‌লো  শ্রীলঙ্কা ◈ নতুন-পুরনো সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা: এনআইডি ব্লকের প্রস্তুতি, নতুন তালিকা হচ্ছে, নজরদারিতে স্বজনরাও ◈ বিদ্যুৎ দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে আজ সারা দেশে জামায়াতের বিক্ষোভ ◈ বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ডিসেম্বরে নিউজিল্যান্ড সফ‌রে যাচ্ছে ◈ লিও‌নেল মে‌সি স্পেনের মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার জিতলেন, বা‌র্সেলোনার অভিনন্দন ◈ রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলা: যুক্তিতর্ক শুনানি আজ

প্রকাশিত : ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ০৭:৪৭ বিকাল
আপডেট : ২৬ মে, ২০২৬, ০৬:০০ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

১২ অক্টোবর থেকে দেশব্যাপী টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন

বাংলাদেশে টাইফয়েড জ্বরের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব রোধে আগামী ১২ অক্টোবর থেকে দেশব্যাপী টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু করছে সরকার। ইপিআই কর্মসূচির আওতায় পরিচালিত এ উদ্যোগে শিশুদের বিনামূল্যে টাইফয়েড টিকা দেওয়া হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ টিকা সাধারণ টাইফয়েড প্রতিরোধের পাশাপাশি দিন দিন বেড়ে চলা ওষুধ প্রতিরোধী টাইফয়েডের বিস্তার রোধেও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্য মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফর সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

স্বাস্থ্য মহাপরিচালক বলেন, টাইফয়েড জ্বর একটি প্রতিরোধযোগ্য সংক্রামক রোগ। শিশুদের সুরক্ষায় সরকার বিনামূল্যে টাইফয়েড টিকা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। আগামী ১২ অক্টোবর থেকে সারা দেশে এ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হবে।

তিনি আরও জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদিত এই টিকা নিরাপদ ও কার্যকর। সরকারের এই ক্যাম্পেইন শুধু শিশুদের জীবন রক্ষা নয়, দীর্ঘমেয়াদে টাইফয়েডজনিত অসুস্থতা ও মৃত্যুহার কমাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০১৯ সালের তথ্য অনুযায়ী প্রতিবছর বিশ্বে প্রায় ৯০ লাখ মানুষ টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়। এর মধ্যে মৃত্যু ঘটে প্রায় এক লাখ দশ হাজার মানুষের। আক্রান্ত ও মারা যাওয়াদের বেশিরভাগই দক্ষিণ এশিয়া এবং সাব-সাহারান আফ্রিকার মানুষ। উন্নত দেশগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা উন্নত হওয়ায় টাইফয়েডের প্রাদুর্ভাব অনেকাংশেই কমেছে। তবে বাংলাদেশসহ অনেক উন্নয়নশীল দেশে এই সংক্রামক রোগ এখনো অন্যতম জনস্বাস্থ্য সমস্যা।

দ্য গ্লোবাল বারডেন অব ডিজিজের বরাত দিয়ে বাংলাদেশে টাইফয়েডের পরিস্থিতি সম্পর্কে জানানো হয়, ২০২১ সালে বাংলাদেশে প্রায় ৪ লাখ ৭৮ হাজার মানুষ টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়। এর মধ্যে প্রায় আট হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটে। ভয়াবহ বিষয় হলো, মৃতদের ৬৮ শতাংশই শিশু। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ বাস্তবতা বাংলাদেশে শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষায় টাইফয়েড টিকার গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দেয়।

বক্তারা জানান, টাইফয়েড জীবাণু স্যালমোনেলা টাইফি দ্বারা সৃষ্ট। এটি মূলত দূষিত পানি ও খাবারের মাধ্যমে ছড়ায়। ঝুঁকি বেশি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা, বস্তি, নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠী এবং যেখানে নিরাপদ পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশনের অভাব রয়েছে। আক্রান্ত হলে শুধু শারীরিক জটিলতাই নয়, অর্থনৈতিক ক্ষতিও হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

এর পাশাপাশি আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, টাইফয়েড চিকিৎসায় ব্যবহৃত বহু অ্যান্টিবায়োটিক আর কার্যকর থাকছে না। জীবাণু অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলছে, ফলে ওষুধ প্রতিরোধী টাইফয়েড ক্রমশ বাড়ছে। এই অবস্থায় টিকা গ্রহণই সবচেয়ে নিরাপদ সমাধান বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের মতে, টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে আগামী কয়েক বছরে টাইফয়েড রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে। একদিকে ওষুধ প্রতিরোধী টাইফয়েডের ঝুঁকি হ্রাস পাবে, অন্যদিকে পরিবার ও সমাজের ওপর অর্থনৈতিক চাপও কমবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একবার টাইফয়েডে আক্রান্ত হলে শুধু চিকিৎসা খরচই নয়, দীর্ঘ সময় কর্মক্ষমতা হারাতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হয়ে জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ে। তাই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে টিকা গ্রহণের বিকল্প নেই।

সরকার আশা করছে, দেশব্যাপী এই টিকাদান কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশে টাইফয়েডজনিত মৃত্যু অনেকাংশে কমে আসবে। একইসঙ্গে শিশুদের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন জীবনধারা গড়ে তুলতে জনসচেতনতা কার্যক্রমও চালানো হবে।

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়