শতাব্দী ধরে বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে ব্যবহৃত হয়ে আসছে কালোজিরা ও এর তেল। আধুনিক গবেষণাতেও দেখা গেছে, কালোজিরার তেলে রয়েছে এমন কিছু উপাদান যা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে কোলেস্টেরল হ্রাস—বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত উপকারে ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষজ্ঞরা সতর্কতার সঙ্গে পরিমিত ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন।
উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সহায়ক
একাধিক গবেষণার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, নিয়মিত অর্ধ চা-চামচ করে দিনে দু’বার কালোজিরার তেল সেবনে উচ্চ রক্তচাপে উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, তেলের প্রধান সক্রিয় উপাদান থাইমোকুইনোন প্রদাহ কমিয়ে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।
কোলেস্টেরল হ্রাস করে
পুষ্টিবিদদের মতে, কালোজিরার তেলে থাকা পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড শরীরে উপকারী এইচডিএল বাড়ায় এবং ক্ষতিকর এলডিএল কমাতে সাহায্য করে। একটি গবেষণায় স্থূল নারীরা প্রতিদিন ৩ গ্রাম করে ৮–১২ সপ্তাহ তেল সেবনে এলডিএল ও ট্রাইগ্লাইসেরাইডে উল্লেখযোগ্য হারে উন্নতি পেয়েছেন।
ওজন নিয়ন্ত্রণে সম্ভাব্য ভূমিকা
কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, কালোজিরার তেল স্থূলতা ও টাইপ–২ ডায়াবেটিস রোগীদের ওজন কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। একটি গবেষণায় ১২ সপ্তাহ সেবনে গড়ে ২ কেজির বেশি ওজন কমার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
ব্রণ ও ত্বকের প্রদাহ কমায়
গবেষণায় দেখা গেছে, ২০ শতাংশ কালোজিরার তেলযুক্ত ক্রিম ব্যবহারে ব্রণের প্রদাহ কমে এবং সমান কার্যকারিতা দেখিয়েছে প্রচলিত বেনজোয়েল পারঅক্সাইডের তুলনায়। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও তুলনামূলক কম।
ত্বক আর্দ্র রাখা ও একজিমা কমাতে সহায়ক
সীমিত গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন দু’বার করে ৪ সপ্তাহ কালোজিরার তেল ব্যবহারে হাতের একজিমায় উন্নতি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তেলের প্রাকৃতিক উপাদান ত্বককে আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে।
চুলের বৃদ্ধি বাড়াতে পারে
গবেষকেরা জানাচ্ছেন, তেলে থাকা প্রোটিন ও ফ্যাটি অ্যাসিড মাথার ত্বকে রক্তপ্রবাহ বাড়িয়ে চুলের ঘনত্ব বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। একটি পরীক্ষায় নারকেল তেল ও কালোজিরার তেলের মিশ্রণ প্রয়োগে অন্যান্য তেলের তুলনায় বেশি ঘন চুল গজাতে দেখা গেছে।
শুক্রাণুর সংখ্যা বৃদ্ধিতে সম্ভাবনা
এক গবেষণায় অনুর্বর পুরুষদের প্রতিদিন ২.৫ মিলি কালোজিরার তেল সেবনে আড়াই মাস পর শুক্রাণুর সংখ্যা ও গতিশীলতা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
ব্যবহারবিধি
কালোজিরার তেল ক্যাপসুল বা তরল আকারে সেবন করা যায়। বিশেষজ্ঞরা ১০০% কোল্ড-প্রেসড বিশুদ্ধ তেল ব্যবহারের পরামর্শ দেন। সাধারণত দিনে ১–২ চা-চামচ নিরাপদ ধরা হলেও শুরুর দিকে অর্ধ চা-চামচ নেওয়ার সুপারিশ রয়েছে।
• যাদের এ তেল ব্যবহার করা উচিত নয়
• বিটা–ব্লকারসসহ কিছু ওষুধের সঙ্গে এটি প্রতিক্রিয়া করতে পারে
• কিডনির সমস্যাযুক্ত রোগীদের চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন
• গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী নারীদের জন্য পর্যাপ্ত গবেষণা নেই
• ত্বকে প্রয়োগে মৃদু জ্বালা, চুলকানি দেখা দিতে পারে
• সেবনে কখনো কখনো বমি, পেটফাঁপা বা কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে
স্বল্পমেয়াদি ব্যবহারে গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া না থাকলেও যে কোনো নতুন সাপ্লিমেন্ট শুরুর আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র: দৈনিক জনকণ্ঠ