শিরোনাম
◈ বিদ্যুৎ দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে আজ সারা দেশে জামায়াতের বিক্ষোভ ◈ বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ডিসেম্বরে নিউজিল্যান্ড সফ‌রে যাচ্ছে ◈ লিও‌নেল মে‌সি স্পেনের মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার জিতলেন, বা‌র্সেলোনার অভিনন্দন ◈ রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলা: যুক্তিতর্ক শুনানি আজ ◈ মমতার বিস্ফোরক মন্তব্যেও নীরব দিল্লি, বক্তব্য নেই বিজেপির ◈ মরুভূমির দেশ হয়েও কেন বালু আমদানি করে সৌদি আরব? ◈ মাত্র ১৭০ টাকায় অনলাইনে এনআইডি বিক্রি! ◈ বাড়তি মার্কিন শুল্ক কার্যকর হলে রপ্তানিতে বড় ধাক্কার আশঙ্কা ◈ শেখ হাসিনার পক্ষের দাবি নাকচ, জুলাই অভ্যুত্থান প্রতিবেদনের পাশে জাতিসংঘ ◈ কারামুক্ত হলেন সাবেক মেয়র আইভী

প্রকাশিত : ২৯ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৭:৫৭ বিকাল
আপডেট : ০৪ জুন, ২০২৬, ১২:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ওজন কমানোর ইনজেকশন: যেভাবে বদলে যাচ্ছে ভোক্তাদের খাদ্যাভ্যাস

হালের অনেকের কাছেই ওজন কমানোর ইনজেকশন ক্রমেই গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে। এই ইনজেকশনের ব্যবহার কেবল মানুষের শরীরই বদলাচ্ছে না, বরং খাদ্য থেকে ফ্যাশন—বিভিন্ন শিল্পে ভোক্তাদের খরচের ধরণেও বড় পরিবর্তন আনছে। 

যুক্তরাজ্যে বর্তমানে প্রায় ২৫ লক্ষ মানুষ এই ধরনের ইনজেকশন ব্যবহার করছেন, যার প্রভাব ইতোমধ্যেই খাদ্য, রেস্টুরেন্ট, ফিটনেস ও পোশাক শিল্পে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। এই ওষুধগুলো শরীরের একটি প্রাকৃতিক হরমোনের অনুকরণ করে ক্ষুধা ও রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে ব্যবহারকারীরা আগের তুলনায় কম খাবার খান এবং অল্প খেয়েই তৃপ্ত হন। 

খাদ্য ও রেস্টুরেন্ট খাতে প্রভাব 

খুচরা বিক্রেতারা এখন ছোট কিন্তু পুষ্টিকর অংশের দিকে ঝুঁকছেন। অনলাইন সুপারমার্কেটগুলো চালু করেছে ‘GLP-1 বন্ধুত্বপূর্ণ’ পণ্যের তালিকা। 

রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ও পরিবর্তন স্পষ্ট। মর্গান স্ট্যানলির জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে ৬৩ শতাংশ ব্যবহারকারী বাইরে খাওয়ার খরচ কমিয়েছেন- ক্ষুধা কমে যাওয়ার কারণে। লন্ডনের অনেক রেস্টুরেন্টে তিন-কোর্স খাবারের বদলে এখন অতিথিরা এক-দুটি খাবার ভাগ করে খান বা শুধু পানীয় অর্ডার করেন।

এ কারণে কিছু অভিজাত রেস্টুরেন্ট চালু করেছে ছোট পরিবেশনভিত্তিক ‘মৌঞ্জারো মেনু’, যেখানে পরিমাণের চেয়ে গুণমানকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। 

অ্যালকোহল শিল্পে চাপ 

ইনজেকশন ব্যবহারকারীদের মধ্যে অ্যালকোহল পানের আগ্রহও কমছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতে রেস্টুরেন্ট ও বারের আয় দু’দিক থেকেই কমার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। 

ফ্যাশন ও ফিটনেসে উল্টো চিত্র

অন্যদিকে, ফ্যাশন শিল্প এই পরিবর্তন থেকে লাভবান হচ্ছে। দ্রুত ওজন কমায় অনেকের নতুন পোশাকের প্রয়োজন হচ্ছে, আবার পুরোনো পোশাক পুনঃবিক্রিও বাড়ছে। সেখানকার দর্জিরাও জানিয়েছেন, পোশাকের বড় ধরনের পরিবর্তনের চাহিদা বেড়েছে।  

ফিটনেস সেক্টরেও চাহিদা বাড়ছে। গবেষকরা বলছেন, ওষুধ ব্যবহারের পাশাপাশি নিয়মিত ব্যায়াম জরুরি—না হলে পেশী ক্ষয়ের ঝুঁকি থাকে। জিম মালিকরা এটিকে ব্যবসার জন্য ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখছেন। 

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও সৌন্দর্য খাত 

চিকিৎসকেরা ‘ওজেম্পিক ফেস’ নামের একটি সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়েও সতর্ক করছেন, যেখানে মুখে বার্ধক্য দ্রুত চোখে পড়ে। এর সমাধানে ব্যয়বহুল সৌন্দর্য চিকিৎসার চাহিদা বাড়ছে।  

তাই ওজন কমানোর ইনজেকশনের প্রভাব এখন আর শুধু স্বাস্থ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি মানুষের জীবনধারা, খরচের অভ্যাস এবং পুরো বাজার ব্যবস্থাকেই নতুন বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে বাধ্য করছে। 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়