রোজার মাসে অনেক রোজাদারই দিনের শেষ ভাগে বা ইফতারের আগে মাথা ব্যথায় ভুগে থাকেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে ফাস্ট ইনডিউসড হেডেক (Fast-induced Headache) বলা হয়। এর পেছনে নির্দিষ্ট কিছু শারীরিক ও জীবনযাত্রার পরিবর্তন দায়ী।
১. ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা
মাথা ব্যথার সবচেয়ে বড় কারণ হলো শরীরে পানির অভাব। দীর্ঘ সময় পানি পান না করায় রক্তচাপ কিছুটা কমে যেতে পারে এবং মস্তিষ্কে অক্সিজেন সরবরাহে সামান্য বিচ্যুতি ঘটে, যা ব্যথার সৃষ্টি করে।
২. হাইপোগ্লাইসেমিয়া (রক্তে শর্করা কমে যাওয়া)
মস্তিষ্ক শক্তির জন্য গ্লুকোজের ওপর নির্ভরশীল। দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকলে রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যায় (Hypoglycemia)। যখন গ্লুকোজের মাত্রা কমে যায়, তখন মস্তিষ্ক সংকেত হিসেবে মাথা ব্যথা তৈরি করে।
৩. ক্যাফেইন উইথড্রয়াল (Caffeine Withdrawal)
যারা নিয়মিত চা বা কফিতে অভ্যস্ত, হঠাৎ তা বন্ধ করে দিলে মস্তিষ্কের রক্তনালীগুলো প্রসারিত হয়। এর ফলে তীব্র মাথা ব্যথা হতে পারে। সাধারণত রোজার প্রথম কয়েকদিন এটি বেশি অনুভূত হয়।
৪. ঘুমের অভাব ও অনিয়ম
সেহরি খাওয়ার জন্য শেষ রাতে জাগা এবং দিনের বেলা পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব মস্তিষ্কের ওপর চাপ সৃষ্টি করে, যা মাথা ব্যথার একটি অন্যতম প্রভাবক।
৫. চোখের ওপর চাপ ও মানসিক ধকল
খালি পেটে দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটারের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে কাজ করা (বিশেষ করে আপনার মতো সাংবাদিকতা পেশায় যারা আছেন) বা তীব্র রোদে চলাফেরা করলে এই সমস্যা বাড়তে পারে।
প্রতিরোধের কিছু উপায়
পর্যাপ্ত পানি: ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত অল্প অল্প করে প্রচুর পানি ও তরল খাবার গ্রহণ করা।
সেহরিতে জটিল শর্করা: সেহরিতে লাল চাল, ওটস বা আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া যা রক্তে শর্করার মাত্রা দীর্ঘক্ষণ স্বাভাবিক রাখে।
ধীরে ধীরে ক্যাফেইন কমানো: রমজান শুরুর আগেই চা-কফির অভ্যাস কিছুটা কমিয়ে আনা।
পর্যাপ্ত ঘুম: রাতে অন্তত ৬-৭ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ঘুমের চেষ্টা করা।
যদি মাথা ব্যথা তীব্র হয় এবং এর সাথে বমি ভাব বা দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে আসে, তবে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।