শিরোনাম
◈ গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন সীমান্তে বিএসএফের ১০টি পুশইন অপচেষ্টা রুখে দিয়েছে বিজিবি ◈ অবশেষে পদত্যাগ করেছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান ◈ তাপপ্রবাহে পুড়ছে দেশ, দিনাজপুরে সর্বোচ্চ ৩৮.৫° সেলসিয়াস, আজও ঝড়-বৃষ্টির আভাস ◈ মার্কিন অবরোধের প্রভাব: ভিসা-মাস্টারকার্ড লেনদেন স্থগিতের ঘোষণা কিউবার ◈ মেডিকেলের ছাত্রীরা বছরের পর বছর যৌন হয়রানির শিকার, কমপক্ষে ৩০ জনের অভিযোগ ◈ দ‌ক্ষিণ আ‌ফ্রিকার টি-টোয়েন্টিতে খেল‌বেন রিশাদ হো‌সেন! ◈ ১৩ বছর পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের মা‌টি‌তে ওয়ান‌ডে জ‌য়ের স্বাদ পে‌লো  শ্রীলঙ্কা ◈ নতুন-পুরনো সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা: এনআইডি ব্লকের প্রস্তুতি, নতুন তালিকা হচ্ছে, নজরদারিতে স্বজনরাও ◈ বিদ্যুৎ দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে আজ সারা দেশে জামায়াতের বিক্ষোভ ◈ বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ডিসেম্বরে নিউজিল্যান্ড সফ‌রে যাচ্ছে

প্রকাশিত : ২৯ মার্চ, ২০২৬, ০৮:৪৫ রাত
আপডেট : ৩১ মে, ২০২৬, ০৪:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

শিশুকে হাম থেকে সুরক্ষিত রাখবেন যেভাবে 

দেশের বিভিন্ন স্থানে হঠাৎ শিশুদের মধ্যে হাম সংক্রমণ বেড়েছে। আক্রান্ত শিশুদের অনেকে মৃত্যুবরণও করেছে। ফলে একসময় নিয়ন্ত্রণে চলে আসা এই রোগ নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে অভিভাবকদের মধ্যে। চিকিৎসকদের মতে, সময়মতো টিকা না নেওয়া, সচেতনতার ঘাটতি এবং সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ তৈরি হওয়াই হাম প্রার্দুভাবের কারণ। তবে কিছু সহজ সতর্কতা মেনে চললে হাম থেকে শিশুদের অনেকটাই নিরাপদ রাখা সম্ভব। 

হাম কী এবং কেন এটি ঝুঁকিপূর্ণ :: হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত একটি রোগ। আক্রান্ত শিশুর হাঁচি-কাশির মাধ্যমে এটি খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণত জ্বর, সর্দি, চোখ লাল হওয়া এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি— এই লক্ষণগুলো দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া বা মস্তিষ্কে সংক্রমণের মতো জটিলতাও তৈরি হতে পারে, যা শিশুর জন্য প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। 

টিকাই সবচেয়ে কার্যকর সুরক্ষা : হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর উপায় হলো টিকাদান। জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়সূচি মেনে শিশুকে হাম (এমআর/এমএমআর) টিকা দিতে হবে। দুই ডোজ টিকা নেওয়া হলে এই রোগের ঝুঁকি অনেক কমে যায়। 

অনেক অভিভাবক নানা কারণে টিকা পিছিয়ে দেন বা বাদ দেন— এটি শিশুর জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করে। তাই সময়মতো টিকা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। যদি আপনার শিশু টিকা না পেয়ে থাকে, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করুন। 

শিশুর পরিচ্ছন্নতা ও সুরক্ষা 

হাম প্রতিরোধে দৈনন্দিন কিছু অভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে—

শিশুকে নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস করানো 
বাইরে থেকে এসে হাত-মুখ পরিষ্কার করা 
আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে শিশুকে দূরে রাখা 
শিশুর ব্যবহার্য জিনিস পরিষ্কার রাখা 
আক্রান্ত হলে কী করবেন 

শিশুর মধ্যে হামের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। শিশুর হাম ধরা পড়লে তাকে যত্নে রাখুন, অন্য শিশুদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মেলামেশা সাময়িকভাবে সীমিত রাখলে সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি কমে। 

চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী পর্যাপ্ত বিশ্রাম, পুষ্টিকর খাবার ও তরল গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। নিজে থেকে ওষুধ না দিয়ে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা উচিত। 

পুষ্টি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা : শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী রাখতে সুষম খাদ্য গুরুত্বপূর্ণ। ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ খাবার, ফলমূল ও শাকসবজি শিশুর শরীরকে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে। 

সচেতনতা বাড়ানোই এখন জরুরি : হাম প্রতিরোধে শুধু পরিবারের নয়, পুরো সমাজের সচেতনতা প্রয়োজন। একটি শিশুর টিকা না নেওয়া অন্য শিশুদের জন্যও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই অভিভাবকদের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর্মী ও সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি। 

সর্বোপরি, হামকে হালকা রোগ ভাবার সুযোগ নেই। সময়মতো টিকা, সচেতনতা এবং কিছু সাধারণ সতর্কতা মেনে চললে এই রোগ থেকে শিশুকে নিরাপদ রাখা সম্ভব। এখনই সতর্ক হওয়া— এটাই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। 

তথ্যসূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন, স্বাস্থ্য অধিদফতর, ইপিআই কর্মসূচি 

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়