শিরোনাম
◈ বাড়তি মার্কিন শুল্ক কার্যকর হলে রপ্তানিতে বড় ধাক্কার আশঙ্কা ◈ শেখ হাসিনার পক্ষের দাবি নাকচ, জুলাই অভ্যুত্থান প্রতিবেদনের পাশে জাতিসংঘ ◈ কারামুক্ত হলেন সাবেক মেয়র আইভী ◈ দিল্লির আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, নিহত ২১; আহতদের মধ্যে ৫ বাংলাদেশি ◈ ‘আসল’ তৃণমূলের নিয়ন্ত্রণ ঋতব্রতের হাতে, মমতাকে উপদেষ্টা হওয়ার প্রস্তাব ◈ অস্ট্রেলিয়ার বিরু‌দ্ধে বাংলা‌দে‌শের ওয়ান‌ডে দল ঘোষণা, মিরাজ অ‌ধিনায়ক ◈ বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারের মাসিক চার্জ তুলে নিল সরকার ◈ হাজিদের লাগেজ চুরি রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস ধর্মমন্ত্রীর ◈ ৩০০ দিনে ১৭ দেশ পেরিয়ে আর্জেন্টিনার ক্যাম্পে ৩ ভক্ত সাইক্লিস্ট  ◈ হাদি ইস্যুতে মমতার মন্তব্য; যা বললেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী (ভিডিও)

প্রকাশিত : ২৮ মে, ২০২৬, ১১:২৯ রাত
আপডেট : ০৪ জুন, ২০২৬, ১২:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল: ৪৯ বছরেও নেই এমআরআই-সিটি স্ক্যান, সংকটে শিশু চিকিৎসাসেবা

শাহীন খন্দকার: বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট (সাবেক ঢাকা শিশু হাসপাতাল) বাংলাদেশের ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।স্বাধীনতার পরপরই ১৯৭২ সালের মার্চ মাসে কিছু স্বেচ্ছাসেবক সংগঠনসহ মানবহিতৈষী ব্যক্তিবর্গের সহযোগিতায় ঢাকার সোবাহানবাগে একটি তাবুতে শুরু হয় বর্হিবিভাগের কার্যক্রম।

পরবর্তীতে একটি ভাড়া করা বাড়িতে খুবই স্বল্প পরিসরে ৫০ শয্যা নিয়ে হাসপাতালটির পথচলা। হাসপাতালটি করতে সেভ দ্যা চিলড্রেন এবং ওর্য়াল্ড ভিশন বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।  দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্যোগে বাংলাদেশের শিশুদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সেবায় ১৯৭৪ সালে ইকোনোমিক ফোরামের সভায় ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট শিশু হাসপাতাল প্রকল্প হিসাবে অনুমোদিত হয়।

১৯৭৫ সালের মার্চ মাসে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় শিশু হাসপাতালটি পঙ্গু হাসপাতালের প্রথম প্রকল্প পরিচালক উইলিয়াম গাস্তের সহযোগীতায় প্রয়াত অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদের প্রচেষ্টায় তৎকালীন পঙ্গু হাসপাতালের একাংশকে নিয়ে ঢাকা শিশু হাসপাতাল শের-ই-বাংলা নগরে স্থানান্তর হয়।

১৯৭৭ সালের জুন মাসে ঢাকা শিশু হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু হয়। হাসপাতাল ভবনের নির্মাণ ব্যয় সরকার এবং ঢাকা শিশু হাসপাতাল ট্রাস্ট বহন করে। ট্রাস্ট বিভিন্ন অনুদানসহ দুটি লটারী এবং কনসার্ট আয়োজনের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট (সাবেক ঢাকা শিশু হাসপাতাল) সরকারী অনুদান প্রাপ্ত একটি বেসরকারি হাসপাতাল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত এবং সরকার কর্তৃক ব্যবস্থাপনা বোর্ড দ্বারা যা পরিচালিত হয়ে আসছিল। যার অফিসিয়াল নাম সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত বেসরকারি হাসপাতাল। পরবর্তীতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ঢাকা শিশু হাসপাতাল ও বাংলাদেশ শিশু স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে করার লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে “বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট আইন (২০২১ সনের ১৯ নং আইন) পাস হয়। একটি সরকারি সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

হাসপাতালের উপ-পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো: আজহারুল ইসলাম এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন, বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে ৫টি মেডিকেল ডিভিশনের মধ্যে শিশু মেডিসিন ডিভিশনের ১৪টি সাব স্পেশালিটি বিভাগ রয়েছে। বিভাগগুলোর মধ্যে পেডিয়েট্রিক কার্ডিওলজি, পেডিয়েট্রিক নেফ্রলজি এন্ড কিডনী ডিজিজেস, পেডিয়েট্রিক নিউরো-সায়েন্স, নিওনেটাল মেডিসিন(নিওনেটলজি), পেডিয়েট্রিক গ্যাস্ট্রো-এন্টারোলজি, হেপাটোলজি এন্ড নিউট্রিশন, পেডিয়েট্রিক রেসপাইরেটরী মেডিসিন (পালমনোলজি),পেডিয়েট্রিক হেমাটো-অনকোলজী, পেডিয়েট্রিক এন্ডোক্রাইনোলজি এন্ড মেটাবলিক ডিসঅর্ডার, পেডিয়েট্রিক ইনফেকশাস ডিজিজ এন্ড কমিউনিটি পেডিয়েট্রিকস, জেনারেল পেডিয়েট্রিকস, পেডিয়েট্রিক রিউম্যাটোলজী, ইমারজেন্সী অবজারভেশন এন্ড রেফারেল, এডোলেসেন্ট পেডিয়েট্রিকস ছেলে এন্ড মেয়ে, হাই ডিপেনডেন্সি এন্ড আইসোলেশন, শিশু ক্রিটিক্যাল  কেয়ার।
তিনি আরও বলেন,শিশু সার্জারী ডিভিশনের ৬টি সাব স্পেশালিটি বিভাগের মধ্যে পেডিয়েট্রিক কার্ডিয়াক সার্জারী, পেডিয়েট্রিক বার্ণ এন্ড রিকন্সট্রাক্টিভ সার্জারী, নিওনেটাল সার্জারী, পেডিয়েট্রিক ইউরোলজী, পেডিয়েট্রিক নিউরোসার্জারী পেডিয়েট্রিক মিনিমাল ইনভেসিভ (ল্যাপারস্কপি) সার্জারী।

এছাড়া এ্যাডভান্সড শিশু সার্জারী এন্ড স্টেম সেল থেরাপি ইউনিট এর মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রথম শিশু সার্জিক্যাল আইসিইউ এবং শিশু সার্জিক্যাল এইচডিইউ স্থাপনসহ একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ মডিউলার অপারেশন থিয়েটার ও অত্যাধুনিক সার্জিক্যাল ও এনেসথেসিয়ার যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়। অপারেশনের পর শিশুদের অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি দ্বারা নিবিড়ভাবে তদারকি এবং চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

বিশেষায়িত চিকিৎসা সেবাগুলো, শিশুর নিবিড় পরিচর্যা বিভাগ (পিআইসিইউ), নব-জাতক শিশুর  নিবিড় পরিচর্যা বিভাগ (এনআইসিইউ), পেডিয়েট্রিক কর্ডিয়াক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (পিসিআইসিইউ), রিকভারি ইউনিট, হাই ডিপেনডেন্সি (এইচডিইউ) এবং আইসোলেশন ইউনিট, নিওনেটাল ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (এনআইসিইউ), স্পেশাল কেয়ার বেবি ইউনিট (ঝঈঅইট), কার্ডিয়াক ক্যাথল্যাব সার্ভিস, কার্ডিয়াক এইচডিইউ, ক্রিটিক্যাল কেয়ার নেফ্রলজী (কিডনী) এবং ডায়ালাইসিস (সিসিএন এন্ড ডি), ডিএনএ ল্যাবরেটরী, শিশু ফিজিওথেরাপি সেন্টার, ইন্টারভেনশনাল এন্ডোস্কপি সেন্টার, শিশু থ্যালাসেমিয়া  সেন্টার, চাইল্ড ডেভেলেপমেন্ট সেন্টার (সিডিসি)শিশু এ্যাজমা  সেন্টার এবং সম্প্রতি চালুকৃত আবুল হোসেন রেসপাইরেটরী নিউমোনিয়া সেন্টার ও নিউমোনিয়া রিসার্চ সেন্টার এবং রেসপাইরেটরী আইসিইউ এর মাধ্যমে দেশের সর্বস্তরের শিশুদের চিকিৎসা সেবা সফলভাবে চালু রয়েছে। 

উপ-পরিচালক বলেন, এ হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে শিশু চিকিৎসার উপর উচ্চতর প্রশিক্ষণ  দেওয়া হয় এবং বাংলাদেশ সরকারের শিশু স্বাস্থ্য বিষয়ে প্রায় সকল ধরণের প্রশিক্ষণ এই হাসপাতালে হয়ে থাকে। লাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস এন্ড সার্জনস্ এর অধিভুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর এবং ডিপ্লোমা কোর্সসমূহের মাধ্যমে এফসিপিএস (জেনারেল পেডিয়েট্রিক), এফসিপিএস নিউনেটোলজী, পেডিয়েট্রিক নেফ্রলজী, পেডিয়েট্রিকহেমাটো-অনকোলজী, পেডিয়েট্রিক পালমনোলজি এবং এমডি রেসিডেন্সী প্রোগ্রাম (জেনারেল পেডিয়েট্রিক, নিওনেটাল এবং পেডিয়েট্রিক (নেফ্রলজী), এমএস পেডিয়েট্রিক (সার্জারী), ডিসিএইচ, বিএসসি-ইন হেলথ টেকনোলজী, ডিপ্লোমা-ইন-নার্সিং সায়েন্স এন্ড মিডওয়াইফারি এবং ডিপ্লোমা ইন পেডিয়েট্রিক নার্সিং কোর্সে উত্তীর্ণ হয়ে এ যাবত প্রায় ৭৫০ জন চিকিৎসা পেশায় দেশে ও বিদেশে দক্ষতা ও সুনামের সাথে কাজ করছেন।  

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট দক্ষ ও অভিজ্ঞ শিশু বিশেষজ্ঞ, পেডিয়েট্রিক নার্স ও সহযোগী জনবল তৈরীর মাধ্যমে শিশু স্বাস্থ্য সেবায় দেশে ও বিদেশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে।  সেই সঙ্গে রয়েছে নার্সিং ইনিষ্টিটিউট । হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ১০০০-১৫০০ জন শিশু রোগী চিকিৎসা সেবা পেয়ে থাকে। সরকারী সার্কুলার অনুযায়ী নবজাতক হতে ১৮ বৎসর বয়স পর্যন্ত শিশুদের রোগের চিকিৎসা ব্যবস্থা এখানে সূচারুরূপে চালু রয়েছে।

বিস্থ্যস্ত সুত্রে জানা গেছে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট পরিচালনার জন্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ১৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি পরিচালনা বোর্ড গঠন করেছেন। বিগত ৪৯ বছরের পুরানো এই হাসপাতালে এখন পর্যন্ত একটি সিটি স্ক্যান ও এম আর আই  মেশিন নাই, ২০১৫ সালে আমাদের ঢাকা শিশু হাসপাতাল এক্সটেনশন প্রজেক্ট নামে একটি প্রজেক্টের মাধ্যমে ১০ তলা ভবন এর তিনতলা পর্যন্ত সম্পূর্ণ করা হয়েছিল।

নীচতলায় এম.আর.আই ও সিটি স্ক্যানের জন্য দু’টি পৃথক রুম বরাদ্দ রাখা হয় এবং দীর্ঘ ৭ বছর সেই রুম দু’টি খালিই পড়ে আছে। ক্রিটিক্যাল শিশু রোগীর এম আর আই/সিটিস্ক্যান এর প্রয়োজন হয়ে পড়ে বাহির থেকে করতে হয়। এতে শিশুর আত্বিয়-স্বজনকে বড় বিড়ম্বনায় পড়তে হয় ভাষায় প্রকাশ করা যায়না। 

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের নবনির্মিত “আবুল হোসেন রেসপাইরেটরী সেন্টার ও নিউমোনিয়া রিসার্চ সেন্টার” স্থাপিত হয়েছে। শিশুদের অভিবাকদের অভিযোগ বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে রয়েছে শয্যা সংকট। অপর একটি সুত্র জানিয়েছেন, চিকিৎসক, নার্স এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক সমস্যা, শিশুদের বিনোদন ও খেলাধুলার জন্য কোন জায়গা নেই। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টা এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সুত্রটি বলেন, বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের মালিকানাধীন ৫ দশমিক ৫ একর জমি রয়েছে, যার খাজনা নিয়মিত শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট পরিশোধ করে আসছে।

উল্লেখ্য মাল্টি কমপ্লেক্স ভবন নির্মান হলে ২০০০ বেডের সম্প্রসারিত বিশেষায়িত হাসপাতাল এবং একাডেমিক ভবনসহ নার্সিং ইনস্টিটিউট স্থাপনের মাধ্যমে দেশে শিশু চিকিৎসায় উন্নয়ন এবং গবেষণায় দেশের সর্ববৃহৎ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট সম্ভব বলে তিনি জানান।

একাধিক সুত্রের দাবি শিশুদের খেলাধুলার জন্য পাশ্ববর্তী শিশুমেলা পার্কটি হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের নামে বরাদ্দ প্রদান করা হলে শিশুদের মেডিসিনের পাশাপাশি খেলাধুলার মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা প্রদান করলে শিশুরা দ্রুত সুস্থ্য হয়ে উঠবে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়