শিরোনাম
◈ বাড়তি মার্কিন শুল্ক কার্যকর হলে রপ্তানিতে বড় ধাক্কার আশঙ্কা ◈ শেখ হাসিনার পক্ষের দাবি নাকচ, জুলাই অভ্যুত্থান প্রতিবেদনের পাশে জাতিসংঘ ◈ কারামুক্ত হলেন সাবেক মেয়র আইভী ◈ দিল্লির আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, নিহত ২১; আহতদের মধ্যে ৫ বাংলাদেশি ◈ ‘আসল’ তৃণমূলের নিয়ন্ত্রণ ঋতব্রতের হাতে, মমতাকে উপদেষ্টা হওয়ার প্রস্তাব ◈ অস্ট্রেলিয়ার বিরু‌দ্ধে বাংলা‌দে‌শের ওয়ান‌ডে দল ঘোষণা, মিরাজ অ‌ধিনায়ক ◈ বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারের মাসিক চার্জ তুলে নিল সরকার ◈ হাজিদের লাগেজ চুরি রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস ধর্মমন্ত্রীর ◈ ৩০০ দিনে ১৭ দেশ পেরিয়ে আর্জেন্টিনার ক্যাম্পে ৩ ভক্ত সাইক্লিস্ট  ◈ হাদি ইস্যুতে মমতার মন্তব্য; যা বললেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী (ভিডিও)

প্রকাশিত : ০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ০৭:২৩ বিকাল
আপডেট : ২৬ মে, ২০২৬, ০৭:০০ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ভয়ংকর ক্ষুদ্র জীবাণু মস্তিষ্কখেকো অ্যামিবার প্রাদুর্ভাব কেরালায়: এক মাসে ৩ মৃত্যু, আক্রান্ত শিশু ও নারী

ভারতের কেরালা রাজ্যে হঠাৎ করেই নায়েগ্লেরিয়া ফউলারি নামের মারাত্মক এক ক্ষুদ্র জীবাণুর সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে। একে সাধারণভাবে বলা হয় ‘ব্রেইন-ইটিং অ্যামিবা’ বা মস্তিষ্কখেকো অ্যামিবা। ২০২৫ সালে এ পর্যন্ত কেরালায় ৪২টি নিশ্চিত এমন সংক্রমণ ধরা পড়েছে।  এ খবর দিয়ে অনলাইন এনডিটিভি বলছে, আগস্টে এ সংক্রমণে মাত্র এক মাসে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে আছে ৩ মাস বয়সী এক শিশু এবং ৫২ বছরের এক নারী।

এর আগে একই মাসে ৯ বছর বয়সী একটি মেয়েও মারা যায়। আরও কয়েকজন শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। কেরালা সরকার দ্রুত ‘ওয়াটার ইজ লাইফ’ নামে একটি ক্লোরিনেশন অভিযান শুরু করেছে। এর অধীনে কূপ, পানির ট্যাংক ও জনসাধারণের গোসলখানা জীবাণুমুক্ত করা হচ্ছে। জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা হচ্ছে। 

মস্তিষ্কখেকো অ্যামিবা হলো উষ্ণ পানিতে জন্মানো একধরনের প্রোটোজোয়া। কূপ, পুকুর, নদী, হ্রদ এবং অপর্যাপ্তভাবে ক্লোরিন দেয়া সুইমিং পুলে এটি বেশি থাকে। সাঁতার, গোসল বা নাক পরিষ্কারের সময় এটি নাক দিয়ে শরীরে প্রবেশ করে এবং দ্রুত মস্তিষ্কে পৌঁছে প্রাইমারি অ্যামিবিক মেনিনগোএনসেফালাইটিস (পিএএম) নামের রোগ ঘটায়। সংক্রমণ অত্যন্ত বিরল হলেও মৃত্যুহার ৯৫-৯৮ ভাগ।  ভারতে আগে প্রায় ২০টি কেস নথিভুক্ত হলেও, প্রায় সবাই মারা গেছেন। ২০২৪ সালে কেরালায় ৩৬টি এমন ঘটনা ধরা পড়ে। এর মধ্যে  ৯ জন মারা যান।

উষ্ণ তাপমাত্রা ও অতিবৃষ্টি অ্যামিবার বংশবৃদ্ধি বাড়ায়। কূপ, পুকুর ও স্থানীয় পানির উৎসে নোংরা পানি ও জৈব বর্জ্য মেশার মাধ্যমে এর বিস্তার ঘটে। কাঁচা/অপরিশোধিত পানি দিয়ে নাক ধোয়ার ফলে সংক্রমণ ঘটতে পারে। সংক্রমণের ১-১২ দিনের মধ্যে দেখা দেয় উচ্চ জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব ও বমি, ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া, আলোতে সংবেদনশীলতা ইত্যাতি। এরপর বিভ্রান্তি, হ্যালুসিনেশন, খিঁচুনি, ভারসাম্য হারানো ও কোমা দেখা দিতে পারে। অনেক সময় ২৪ ঘণ্টার মধ্যেও মৃত্যু হতে পারে, যেমন সম্প্রতি কেরালায় ৯ বছরের এক মেয়ের ক্ষেত্রে হয়েছে। 

প্রতিরোধের উপায়: বাড়িতে পানি ব্যবহার করা। অপরিশোধিত কূপ, পুকুর বা নদীতে গোসল এড়িয়ে চলা। নাক ধোয়া বা আচার-অনুষ্ঠানে অবশ্যই ফুটানো/ফিল্টার করা পানি ব্যবহার করা। প্রাকৃতিক জলে মাথা ডুবিয়ে সাঁতার কাটা এড়িয়ে চলা। নাকের ক্লিপ ব্যবহার করলে ঝুঁকি কমে। 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়