শিরোনাম
◈ মার্কিন অবরোধের প্রভাব: ভিসা-মাস্টারকার্ড লেনদেন স্থগিতের ঘোষণা কিউবার ◈ মেডিকেলের ছাত্রীরা বছরের পর বছর যৌন হয়রানির শিকার, কমপক্ষে ৩০ জনের অভিযোগ ◈ দ‌ক্ষিণ আ‌ফ্রিকার টি-টোয়েন্টিতে খেল‌বেন রিশাদ হো‌সেন! ◈ ১৩ বছর পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের মা‌টি‌তে ওয়ান‌ডে জ‌য়ের স্বাদ পে‌লো  শ্রীলঙ্কা ◈ নতুন-পুরনো সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা: এনআইডি ব্লকের প্রস্তুতি, নতুন তালিকা হচ্ছে, নজরদারিতে স্বজনরাও ◈ বিদ্যুৎ দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে আজ সারা দেশে জামায়াতের বিক্ষোভ ◈ বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ডিসেম্বরে নিউজিল্যান্ড সফ‌রে যাচ্ছে ◈ লিও‌নেল মে‌সি স্পেনের মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার জিতলেন, বা‌র্সেলোনার অভিনন্দন ◈ রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলা: যুক্তিতর্ক শুনানি আজ ◈ মমতার বিস্ফোরক মন্তব্যেও নীরব দিল্লি, বক্তব্য নেই বিজেপির

প্রকাশিত : ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ০৯:২৭ রাত
আপডেট : ০৩ জুন, ২০২৬, ০৮:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্যে নতুন সাগরপথে পরীক্ষা শুরু করছে চীন

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আর্কটিক অঞ্চলের বরফ গলে যাওয়ায় নতুন এক আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক পথের সন্ধান পাওয়া গেছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে চীন ও রাশিয়া এবার ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ককে নতুন বাঁকে নিতে চাইছে। 

রাশিয়া বরাবরই আর্কটিক অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চেয়ে এসেছে। এবার সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে চীন আর্কটিক সাগরপথ ব্যবহার করে ইউরোপে পণ্য পাঠানোর একটি পরীক্ষামূলক যাত্রা শুরু করতে চলেছে।

আগামী ২০ সেপ্টেম্বর চীনের ইস্তানবুল ব্রিজ নামের একটি কন্টেইনার জাহাজ নিংবো-ঝৌশান বন্দর থেকে যাত্রা করবে। ১৮ দিনের এই যাত্রায় জাহাজটি রাশিয়ার উত্তর উপকূল দিয়ে আর্কটিক সাগরপথ ধরে যুক্তরাজ্যের ফেলিক্সটো বন্দরে পৌঁছাবে। এই রুটে বরফ-ঢাকা পথ পাড়ি দিতে জাহাজটিকে সাহায্য করবে একটি বিশেষ ধরনের আইসব্রেকার।

আর্কটিক ইনস্টিটিউটের মাল্টে হ্যাম্পার্টের মতে, আর্কটিক অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তন সরাসরি ভূ-রাজনৈতিক মানচিত্র বদলে দিচ্ছে। কারণ, এই অঞ্চলটি খনিজ সম্পদ এবং নতুন বাণিজ্যিক পথের কারণে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণকে প্রভাবিত করছে। বর্তমানে বেশিরভাগ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সুয়েজ খাল, ভূমধ্যসাগর এবং সিঙ্গাপুরের মতো ঐতিহ্যবাহী পথ দিয়েই হয়ে থাকে। তবে, আর্কটিক সাগরপথ প্রচলিত পথের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ কম দূরত্বে পণ্য পরিবহন করতে সক্ষম। এর ফলে সময় এবং খরচ দুইই বাঁচবে।

ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্যিক পথগুলোতে সম্প্রতি নানা ধরনের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা গেছে। যেমন, হর্ন অফ আফ্রিকার কাছে জলদস্যুদের আক্রমণ এবং লোহিত সাগরে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকি অনেক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে আফ্রিকা ঘুরে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে বাধ্য করছে। এমন পরিস্থিতিতে, আর্কটিক সাগরপথ একটি নিরাপদ এবং কার্যকর বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বারবার আর্কটিক অঞ্চলের উন্নয়নের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি ২০৩০ সালের মধ্যে এই পথে বার্ষিক পণ্য পরিবহনের পরিমাণ ৭০ থেকে ১০০ মিলিয়ন টনে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। এছাড়াও, রাশিয়া তার নিজস্ব পারমাণবিক শক্তিচালিত আইসব্রেকার দিয়ে সারা বছর এই পথে জাহাজ চলাচলের ব্যবস্থা করতে চায়। রাশিয়ার মুরমানস্কের মতো পুরোনো বন্দরগুলোর সম্প্রসারণ এবং নতুন বন্দর নির্মাণেরও পরিকল্পনা চলছে।

পুতিন আরও বলেছেন, আর্কটিক অঞ্চলে তেল, গ্যাস, ধাতু এবং অন্যান্য দুর্লভ খনিজের বিশাল ভাণ্ডার রয়েছে। তিনি চীন, ভারত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলোকে যৌথ উদ্যোগে অংশগ্রহণের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। এই অঞ্চলকে অর্থনৈতিকভাবে আরও গতিশীল করতে তিনি আর্কটিক অঞ্চলের শহরগুলোর উন্নয়ন এবং পর্যটন প্রসারেরও ঘোষণা দিয়েছেন।

সূত্র: আরটিভি নিউজ

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়