নতুন বছরের প্রথম দিনে ইউরোজোনের নতুন সদস্য হলো বুলগেরিয়া। প্রায় দেড় শতাব্দী পর নিজস্ব মুদ্রা ‘লেভ’কে বিদায় জানিয়ে ইউরো চালু করেছে দেশটি। ২০০৭ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দেওয়ার প্রায় দুই দশক পর এবার পূর্ণাঙ্গভাবে ইউরোজোনে প্রবেশ করল বুলগেরিয়া।
১৮৮১ সালে লেভ প্রবর্তনের পর ১৪৫ বছর ধরে এই মুদ্রাই ছিল বুলগেরিয়ার অর্থনীতির চালিকাশক্তি। নতুন এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ইউরোজোনের ২১তম সদস্য রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে দেশটি।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আজ ২০২৬ সালের প্রথম দিন থেকে বুলগেরিয়ায় লেভের পরিবর্তে ইউরো কার্যকর হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে বুলগেরিয়া শুধু একটি মুদ্রা বদল নয়, বরং অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক দিক থেকে এক বড় রূপান্তরের পথে হাঁটল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদ অর্জন এবং শেনজেন অঞ্চলে যোগদানের পর সবশেষে ইউরো গ্রহণ করল দেশটি। বুলগেরিয়ার শহরকেন্দ্রিক, তরুণ ও উদ্যোক্তা শ্রেণির কাছে এটি নতুন আশা ও সম্ভাবনার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
ইউরো গ্রহণের পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ তুলে ধরছেন দেশটির নীতিনির্ধারক ও সমর্থকরা। তাদের মতে, ইউরো চালুর ফলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে এবং অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা আসবে।
তবে গ্রামীণ, বয়স্ক ও রক্ষণশীল জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশের কাছে জাতীয় মুদ্রা লেভ হারানোর বিষয়টি আতঙ্ক ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, প্রায় ৬৭ লাখ জনসংখ্যার দেশটিতে ইউরো গ্রহণের পক্ষে ও বিপক্ষে মতামত প্রায় সমান।
পশ্চিম ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংযোগ আরও জোরদার করার কৌশল হিসেবেও ইউরো গ্রহণকে দেখা হচ্ছে। সূ্ত্র: বিবিসি