শিরোনাম
◈ বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া ওয়ানডে সিরিজের ম্যাচ দেখা যা‌বে সর্বনিম্ম ২০০ টাকায়  ◈ ঝুঁকিতে বিশ্বের ১৫ দেশ: আগামী ৫০ বছরে হারিয়ে যেতে পারে পৃথিবীর মানচিত্র থেকে ◈ আপা ডাকায় নয়, পুরোনো বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি: সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশা ◈ শার্শায় আইনজীবী মিন্টুকে গ্রেফতারচেষ্টা, গ্রামবাসীর বাধায় ব্যর্থ পুলিশ ◈ বিদেশি বিনিয়োগ আনা বাংলাদেশিদের পুরস্কৃত করবে সরকার ◈ জাপানি কনসোর্টিয়ামের সাথে চুক্তি ১৯ জুলাইয়ের মধ্যে, ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে চালু হচ্ছে শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল ◈ ইন্টারপোল রেড নোটিশভুক্ত নজরুল ইসলাম লিবিয়ায় গ্রেফতার ◈ এই বিজয় বাংলাদেশ ও গণতন্ত্রের বিজয়: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ-হত্যা: যে কারণে স্বপ্না হঠাৎ স্বামী সোহেল রানাকে মারতে তেড়ে যান ◈ তোফায়েলের জানাজা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক, মুখ খুললেন হাছান মাহমুদ

প্রকাশিত : ২৩ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৭:২৮ বিকাল
আপডেট : ৩০ মে, ২০২৬, ০৭:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বিরল খনিজের বৈশ্বিক দৌড়ে নতুন খেলোয়াড় সৌদি আরব, সম্পদের মূল্য ২.৫ ট্রিলিয়ন ডলার

২.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বিরল খনিজ থাকার দাবি করল সৌদি আরব


বিরল ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ নিয়ে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা নতুন করে আবারও আলোচনায় এসেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের পাঁয়তারায় বিষয়টি আরও গুরুত্ব পেয়েছে। বিরল খনিজের অধিকার নিয়ে বৈশ্বিক এই টানাপোড়েনের মধ্যে সৌদি আরব দাবি করেছে—তাদের দেশে প্রায় ২.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের খনিজ সম্পদ রয়েছে, যা বিরল খনিজের বৈশ্বিক দৌড়ে তাদের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ে পরিণত করতে পারে।

এই খনিজগুলোর মধ্যে রয়েছে সোনা, দস্তা, তামা ও লিথিয়াম। পাশাপাশি রয়েছে ডিসপ্রোসিয়াম, টার্বিয়াম, নিওডিমিয়াম ও প্রাসিওডিমিয়ামের মতো বিরল ভূ-উপাদানও। এগুলো বৈদ্যুতিক গাড়ি, উইন্ড টারবাইন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উচ্চগতির কম্পিউটিং এবং আধুনিক সামরিক প্রযুক্তিতে অপরিহার্য।

বর্তমানে এই খাতে চীনের আধিপত্য সুস্পষ্ট। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) তথ্যমতে, বর্তমানে দেশটি পরিশোধিত বিরল খনিজ উৎপাদনের ৯০ শতাংশের বেশি এবং মোট উৎপাদনের ৬০ শতাংশেরও বেশি নিয়ন্ত্রণ করছে।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে সিএনএন জানিয়েছে, সৌদি আরব তেলনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে খনিজ খাতকে কৌশলগতভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে। ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে দেশটির অনুসন্ধানমূলক খনন বাজেট বেড়েছে প্রায় ৫৯৫ শতাংশ। নতুন নতুন খনির লাইসেন্স দেওয়া হচ্ছে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক কোম্পানিকে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খনন একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া—একটি পরিশোধনাগার গড়ে তুলতেই তিন থেকে পাঁচ বছর, কোনো কোনো দেশে প্রায় তিন দশক পর্যন্ত সময় লাগে।

এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সৌদি সরকার আমলাতান্ত্রিক জট কমাচ্ছে, কর ছাড় দিচ্ছে এবং বড় বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে। ‘ফিউচার মিনারেলস ফোরাম’-এ দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি মাদেন ঘোষণা দিয়েছে—আগামী এক দশকে তারা ধাতু ও খনিজ খাতে ১১০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে। আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব ও দক্ষ জনবল আকর্ষণও তাদের লক্ষ্য।

সৌদি আরবের ‘ভিশন ২০৩০’ পরিকল্পনায় খনিজ খাতকে অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যের অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে ধরা হয়েছে। শুধু খনন নয়, বরং দেশীয় শিল্পের জন্য সম্পূর্ণ সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তোলাই দেশটির লক্ষ্য—যার মধ্যে বৈদ্যুতিক যানবাহন উৎপাদনের মতো পরিকল্পনাও রয়েছে। পাশাপাশি, শক্তিশালী অবকাঠামো ও সস্তা জ্বালানির কারণে সৌদি আরব অন্য দেশ থেকে খনন করা খনিজ পরিশোধনের আঞ্চলিক কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

যুক্তরাষ্ট্রও এই উদ্যোগে আগ্রহ দেখাচ্ছে। গত বছর চীন ভারী বিরল খনিজ রপ্তানিতে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করার পর বিকল্প উৎস ও পরিশোধন কেন্দ্রের প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে। সৌদি আরবে একটি নতুন পরিশোধনাগার গড়তে মার্কিন কোম্পানি এমপি ম্যাটেরিয়ালস, সৌদি মাদেন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের মধ্যে অংশীদারত্ব রয়েছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন, এই রূপান্তর সহজ হবে না। কারণ মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক অস্থিরতা, কূটনৈতিক জটিলতা ও পরিবেশগত দিক নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। তারপরও সৌদি আরবের লক্ষ্য স্পষ্ট। এই খাতের মধ্য দিয়ে তারা তাৎক্ষণিক লাভ নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ও ভূরাজনৈতিক ক্ষমতা অর্জন করতে চায়। এই কৌশল সফল হলে বিরল খনিজের বৈশ্বিক মানচিত্রে নতুন কেন্দ্র হিসেবে উঠে আসতে পারে দেশটি।

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়