পৃথিবীর ভূত্বক একটানা নয়, বরং এটি বিশাল বিশাল টুকরো প্লেট বা টেকটোনিক প্লেটে বিভক্ত। এসব প্লেট ধীরে ধীরে সরে যায়, আর তাদের সংঘর্ষ বা বিচ্ছেদের ফলেই তৈরি হয় ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরি এবং পাহাড়-পর্বত।
এরই একটি বড় উদাহরণ হলো পূর্ব আফ্রিকার রিফট, যেখানে দুটি বিশাল টেকটোনিক প্লেট ধীরে ধীরে একে অপরের থেকে আলাদা হয়ে যাচ্ছে।
পূর্ব আফ্রিকার এ অঞ্চলে মূলত বিভাজন ঘটছে নুবিয়ান প্লেট (আফ্রিকান প্লেট-এর বড় অংশ) এবং সোমালি প্লেটে। এ দুই প্লেট প্রতি বছর কয়েক মিলিমিটার করে দূরে সরে যাচ্ছে।
এটি আফ্রিকার পূর্ব অংশে বিস্তৃত একটি বিশাল ফাটল অঞ্চল হচ্ছে পূর্ব আফ্রিকার রিফট, যা ইথিওপিয়া থেকে শুরু করে কেনিয়া, তানজানিয়া হয়ে মোজাম্বিক পর্যন্ত বিস্তৃত। এ রিফটকে বলা হয় পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ‘ভূত্বকের বিচ্ছেদ অঞ্চল’।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ প্লেট বিচ্ছেদের ফলে ভবিষ্যতে আফ্রিকা মহাদেশ দুটি ভাগে বিভক্ত হতে পারে, নতুন সমুদ্রের সৃষ্টি হতে পারে, ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপ বাড়তে পারে। এ প্রক্রিয়া অত্যন্ত ধীর। বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, কয়েক মিলিয়ন বছর পর এ রিফট আরো প্রশস্ত হয়ে একটি নতুন সমুদ্র তৈরি করতে পারে।
যদি এ বিচ্ছেদ সম্পূর্ণ হয়, তাহলে পূর্ব আফ্রিকার অংশ আলাদা হয়ে একটি নতুন দ্বীপ বা ছোট মহাদেশের মতো রূপ নিতে পারে।
পূর্ব আফ্রিকার রিফট তাই শুধু একটি ভূতাত্ত্বিক ঘটনা নয়, বরং পৃথিবীর ভবিষ্যৎ পরিবর্তনের এক জীবন্ত উদাহরণ। সূত্র : দ্য ডেইলি ডাইজেস্ট।