এল আর বাদল: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতি ও সামগ্রিক প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে সে দেশে বাড়ছে জন-অসন্তোষ। যুক্তরাষ্ট্রের ৬০ শতাংশ মানুষ প্রেসিডেন্ট পদ থেকে ট্রাম্পের পদত্যাগ চান। সম্প্রতি প্রকাশিত এক জরিপে উঠে এসেছে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজ, দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট এবং সমীক্ষক সংস্থা ইপসোসের নলেজ প্যানেল যৌথভাবে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে এই জরিপ পরিচালনা করে। জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, ট্রাম্প যে নীতিতে দেশ পরিচালনা করছেন, তাতে সন্তুষ্ট নন অধিকাংশ নাগরিক। বিশেষ করে আমদানিকৃত পণ্যে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত ঘিরে ক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করেছে।
জরিপে অংশ নেওয়া ৬৪ শতাংশ মানুষ আমদানি শুল্ক বৃদ্ধির বিরোধিতা করেছেন। তাদের মতে, এই নীতির জেরেই দেশে মুদ্রাস্ফীতি লাগামছাড়া হয়েছে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয়সহ বহু পণ্যের দাম প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে সরকারের পদক্ষেপ নিয়েও অসন্তোষ প্রবল। প্রায় ৬৫ শতাংশ মানুষ মনে করেন, মুদ্রাস্ফীতি রোধে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি কার্যকর নয়। ----- বাংলা নিউইয়র্ক
শুধু অর্থনীতি নয়, বৈদেশিক সম্পর্ক ও অভিবাসন নীতিতেও সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জমেছে। ৬২ শতাংশ উত্তরদাতা ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতিকে ভুল বলে অভিহিত করেছেন। ৫৮ শতাংশ মানুষ অভিবাসন নীতির বিরোধিতা করেছেন। আর ৫৭ শতাংশের মতে, সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বর্তমান প্রশাসনের সিদ্ধান্তে।
এই প্রেক্ষাপটে ৬০ শতাংশ মানুষ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তারা চান না ট্রাম্প আর প্রেসিডেন্ট পদে বহাল থাকুন। জরিপের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২১ সালে ট্রাম্প যখন ক্ষমতা হারান, তখনো জনমনে একই ধরনের অসন্তোষ লক্ষ করা গিয়েছিল। সেই সময়ের জরিপের সঙ্গে বর্তমান ফলাফলের বিস্ময়কর সাদৃশ্য রয়েছে।
জরিপের মাধ্যমে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এসেছে। ট্রাম্পের প্রতি অসন্তোষ থাকলেও বিরোধী শিবিরের প্রতিও পূর্ণ আস্থা নেই যুক্তরাষ্ট্রের ভোটারদের। কাকে বেশি বিশ্বাস করেন–এই প্রশ্নে ৩৩ শতাংশ মানুষ ট্রাম্পের পক্ষে মত দিয়েছেন। ডেমোক্র্যাটদের প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছেন ৩১ শতাংশ। আবার সমান ৩১ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, তারা কোনো পক্ষের ওপরই আস্থা রাখতে পারছেন না।
মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ স্লোগান তুলে শুরুতে যে জনসমর্থন ট্রাম্প পেয়েছিলেন, সময়ের সঙ্গে তা ক্ষয় হয়েছে বলেই ইঙ্গিত দিচ্ছে জরিপের ফল। অতিরিক্ত আমদানি শুল্ক, মূল্যবৃদ্ধি, বৈদেশিক নীতির অনিশ্চয়তা এবং অভিবাসন ইস্যু–সব মিলিয়ে প্রশাসনের ওপর আস্থার ভাটা স্পষ্ট। ফলে শুল্কনীতি ঘিরে যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, তা এখন সরাসরি রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে ট্রাম্পের জন্য।