ইসরায়েলি-মার্কিন হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার মাধ্যমে ‘বড় ভুল’ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। কারণ, ইরানের ইসলামি সরকারের নেতারা এখন আর নতি স্বীকার করবেন না। তাঁরা প্রতিশোধের বিষয়ে আর কোনো ছাড় দেবেন না। এমন সতর্কবার্তাই উচ্চারণ করেছেন ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংকট্যাংক আটলান্টিক কাউন্সিলের উপদেষ্টা হারলান উলম্যান। সূত্র: আজকের পত্রিকা
আটলান্টিক কাউন্সিলের উপদেষ্টা এবং কৌশলগত পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কিলোওয়েন গ্রুপের চেয়ারম্যান হারলান উলম্যান আল জাজিরাকে বলেছেন, তিনি মনে করেন খামেনিকে হত্যা করে যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘বড় ভুল’ করেছে। উলম্যান বলেন, ‘তিনি এখন একজন শহীদ এবং আলী লারিজানি যদি এখনো জীবিত থাকেন, তবে তিনি অত্যন্ত দক্ষ একজন ব্যক্তি। তিনি সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের চেয়ারম্যান এবং এটি (ইরান) একটি দুর্ধর্ষ শত্রু।’
উলম্যানের মতে, জানুয়ারির শুরুতে মার্কিন বাহিনীর হাতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো অপহৃত হওয়ার পর ভেনেজুয়েলা যেভাবে আলোচনায় বসেছিল, ইরানের নেতৃত্বের কাছ থেকে তেমনটি আশা করা ওয়াশিংটনের উচিত হবে না। উলম্যান বলেন, ‘আমি তেমনটি মনে করি না।’
উলম্যান আরও যোগ করেন, ‘আমি নিশ্চিত নই যে ইরানের পুরো নেতৃত্বকে হত্যা করলেই তারা আলোচনার জন্য আরও নমনীয় হবে। আমার মনে হয়, আমরা লারিজানিকে আরও শক্তিশালী করে তুলেছি এবং এটি ভবিষ্যতে আমাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়াতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘শীর্ষ নেতৃত্ব নির্মূল করার কৌশল (ডিক্যাপিটেশন) তখনই কার্যকর হয়, যখন আপনি সব নেতাকে কবজা করতে পারেন, কিন্তু আমার মনে হয় না যে আমরা সব নেতাকে ধরতে পেরেছি।’
বিশ্লেষণ
খামেনিকে হত্যা করে ‘বড় ভুল’ করল যুক্তরাষ্ট্র, পরিণতি কী
আজকের পত্রিকা ডেস্ক
প্রকাশ : ০১ মার্চ ২০২৬, ০৯: ৫৪
আপডেট : ০১ মার্চ ২০২৬, ১১: ৩০
খামেনিকে হত্যা করে ‘বড় ভুল’ করল যুক্তরাষ্ট্র, পরিণতি কী
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলি-মার্কিন হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার মাধ্যমে ‘বড় ভুল’ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। কারণ, ইরানের ইসলামি সরকারের নেতারা এখন আর নতি স্বীকার করবেন না। তাঁরা প্রতিশোধের বিষয়ে আর কোনো ছাড় দেবেন না। এমন সতর্কবার্তাই উচ্চারণ করেছেন ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংকট্যাংক আটলান্টিক কাউন্সিলের উপদেষ্টা হারলান উলম্যান।
আটলান্টিক কাউন্সিলের উপদেষ্টা এবং কৌশলগত পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কিলোওয়েন গ্রুপের চেয়ারম্যান হারলান উলম্যান আল জাজিরাকে বলেছেন, তিনি মনে করেন খামেনিকে হত্যা করে যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘বড় ভুল’ করেছে। উলম্যান বলেন, ‘তিনি এখন একজন শহীদ এবং আলী লারিজানি যদি এখনো জীবিত থাকেন, তবে তিনি অত্যন্ত দক্ষ একজন ব্যক্তি। তিনি সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের চেয়ারম্যান এবং এটি (ইরান) একটি দুর্ধর্ষ শত্রু।’
উলম্যানের মতে, জানুয়ারির শুরুতে মার্কিন বাহিনীর হাতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো অপহৃত হওয়ার পর ভেনেজুয়েলা যেভাবে আলোচনায় বসেছিল, ইরানের নেতৃত্বের কাছ থেকে তেমনটি আশা করা ওয়াশিংটনের উচিত হবে না। উলম্যান বলেন, ‘আমি তেমনটি মনে করি না।’
উলম্যান আরও যোগ করেন, ‘আমি নিশ্চিত নই যে ইরানের পুরো নেতৃত্বকে হত্যা করলেই তারা আলোচনার জন্য আরও নমনীয় হবে। আমার মনে হয়, আমরা লারিজানিকে আরও শক্তিশালী করে তুলেছি এবং এটি ভবিষ্যতে আমাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়াতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘শীর্ষ নেতৃত্ব নির্মূল করার কৌশল (ডিক্যাপিটেশন) তখনই কার্যকর হয়, যখন আপনি সব নেতাকে কবজা করতে পারেন, কিন্তু আমার মনে হয় না যে আমরা সব নেতাকে ধরতে পেরেছি।’
খামেনির মৃত্যুতে আইআরজিসির শোক, ‘সবচেয়ে বিধ্বংসী আক্রমণাত্মক অভিযান’ শুরুর ঘোষণাখামেনির মৃত্যুতে আইআরজিসির শোক, ‘সবচেয়ে বিধ্বংসী আক্রমণাত্মক অভিযান’ শুরুর ঘোষণা
মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে ইরানের ফার্স সংবাদ সংস্থা। এই মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী-আইআরজিসি। তারা ঘোষণা দিয়েছে, দখলদার ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানগুলোতে ‘ইরানের ইতিহাসে সবচেয়ে বিধ্বংসী আক্রমণাত্মক অভিযান’ শুরু করা হবে শিগগির।
ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে ইরানি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) খামেনির মৃত্যুতে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছে, ‘আমরা একজন মহান নেতাকে হারিয়েছি এবং আমরা তাঁর জন্য শোক প্রকাশ করছি।’ বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘মানবতার সবচেয়ে জঘন্য সন্ত্রাসী ও জল্লাদদের হাতে খামেনির শাহাদাত এই মহান নেতার বৈধতা এবং তাঁর একনিষ্ঠ সেবার স্বীকৃতিরই একটি চিহ্ন।’
এতে আরও যোগ করা হয়, ‘ইরানি জাতির প্রতিশোধের হাত...তাদের রেহাই দেবে না।’ বিবৃতি অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ এবং বৈদেশিক ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় আইআরজিসি ‘দৃঢ় অবস্থানে’ থাকবে। বিবৃতিতে আইআরজিসি ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ইতিহাসে সবচেয়ে বিধ্বংসী আক্রমণাত্মক অভিযান’ শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, এই অভিযান ‘মাত্র কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই’ শুরু হবে এবং এর লক্ষ্যবস্তু হবে অঞ্চলের ‘দখলকৃত এলাকা এবং আমেরিকান সন্ত্রাসী ঘাঁটিগুলো।’
খামেনির মৃত্যুতে ইরানে ৪০ দিনের শোক ঘোষণা করা হয়। ইরানি কর্তৃপক্ষ জানায়, তিনি তাঁর ‘নির্দিষ্ট দায়িত্ব পালনকালে মারা গেছেন।’ প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আজ রোববার ভোরের দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুতে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণার কথাও জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।
এর আগে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন বলে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এই দাবি করেন। তিনি খামেনিকে ইতিহাসের অন্যতম ‘নিকৃষ্ট ব্যক্তি’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, এটি কেবল ইরানি জনগণের জন্য নয়, বরং সারা বিশ্বের জন্য ন্যায়বিচার।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর পোস্টে লেখেন, ‘ইতিহাসের অন্যতম নিকৃষ্ট ব্যক্তি খামেনি মারা গেছেন। খামেনি ও তাঁর রক্তপিপাসু বাহিনীর হাতে নিহত বা পঙ্গু হওয়া অসংখ্য আমেরিকান এবং বিশ্ববাসীর জন্য আজ সুবিচার প্রতিষ্ঠিত হলো।’
ট্রাম্প আরও বলেন, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এবং অত্যাধুনিক ট্র্যাকিং সিস্টেমের নজর এড়াতে পারেননি খামেনি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমন্বয়ে পরিচালিত এই অভিযানে খামেনি এবং তাঁর সঙ্গে থাকা অন্যান্য শীর্ষ নেতারা পালানোর কোনো সুযোগ পাননি। ইরানি জনগণের জন্য এখন তাদের দেশ ফিরে পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
ট্রাম্প তাঁর পোস্টে দাবি করেন, ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস, সেনাবাহিনী এবং পুলিশ বাহিনীর অনেক সদস্যই আর যুদ্ধ করতে চাচ্ছেন না এবং তাঁরা আমেরিকার কাছে দায়মুক্তি (ইমিউনিটি) প্রার্থনা করছেন। তিনি বলেন, ‘আমি গত রাতেই বলেছিলাম—এখন চাইলে তারা দায়মুক্তি পাবে, কিন্তু দেরি করলে কপালে মৃত্যু আছে!’
ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন, খামেনির মৃত্যুর পাশাপাশি মাত্র এক দিনের অভিযানেই ইরান রাষ্ট্রটি অনেকটা ধ্বংস বা ‘বিলীন’ হয়ে গেছে। তবে এখানেই থামছে না অভিযান। তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্য এবং পুরো বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত সপ্তাহজুড়ে এই বোমা হামলা অব্যাহত থাকবে।