শিরোনাম
◈ এবার লেবাননে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালানোর বার্তা ট্রাম্পের ◈ বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফের বেড়া নির্মাণে মেঘালয়ের আপত্তি, গ্রামবাসীর প্রতিবাদ ◈ পুরোপুরি সুস্থ নন ইলিয়াস কাঞ্চন: কথা বলছেন, তবে জড়তা কাটেনি, স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন তথ্য ◈ এমপিদের সরাসরি তহবিল বরাদ্দ বাতিল, প্রকল্প অনুমোদন দেবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ◈ পুলিশের দ্রুততম তদন্ত, আদালতের ছুটি বাতিল এই দৃষ্টান্তমূলক রায় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে ◈ ঢাকাকে যানজটমুক্ত করতে ‘জিরো সিগন্যাল’ মহাপরিকল্পনা, ব্যয় আড়াই হাজার কোটি টাকা ◈ পরিচালক‌দের ‌ভো‌টে তা‌মিম ইকবাল বিসিবির সভাপতি  ◈ সংসদে প্রতিশ্রুতি দিলে স্ট্যাডি করেই দেবেন: জ্বালানিমন্ত্রীকে স্পিকার (ভিডিও) ◈ ব্রাজিলের জার্সির রঙ সাদা থেকে যেভাবে হলুদ হয়ে উঠলো  ◈ ৬ শিশুর প্রত্যেকের পরিবারকে ৮০ লাখ টাকা করে দেবে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল

প্রকাশিত : ০৭ মার্চ, ২০২৬, ১০:২৭ রাত
আপডেট : ২৭ মে, ২০২৬, ০৭:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

‘ব্লু স্প্যারো’: আকাশ থেকে নেমে আসা ভয়ঙ্কর ক্ষেপণাস্ত্র

মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু অস্ত্র আছে যেগুলো শুধু যুদ্ধের গতিপথই বদলায় না, গোটা অঞ্চলের কৌশলগত ভারসাম্যও পাল্টে দেয়। ইসরায়েলের তৈরি ‘ব্লু স্প্যারো’ ঠিক তেমনই একটি অস্ত্র। অনেক সামরিক বিশ্লেষক একে বর্ণনা করেন 'মহাশূন্য থেকে আসা মৃত্যু'। কারণ এটি 'আকাশ থেকে নেমে এসে' লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।   

সাম্প্রতিক সময়ে ইরানে হামলার ঘটনায় এই ক্ষেপণাস্ত্রের নাম নতুন করে আলোচনায় এসেছে। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের ওই গোপন অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে 'ব্লু স্প্যারো' ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে হত্যা করা হয়েছে।‌ যদিও এ ধরনের অভিযানের সব তথ্য প্রকাশ্যে আসে না, তবুও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও সামরিক বিশ্লেষকদের বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে 'ব্লু স্প্যারো' ক্ষেপণাস্ত্রের প্রযুক্তি, ক্ষমতা, ভয়াবহতা ও বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রে এর ব্যবহারের নানা দিক।

‘ব্লু স্প্যারো’ কী

‘ব্লু স্প্যারো’ মূলত  আকাশ থেকে নিক্ষেপযোগ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। এটি তৈরি করেছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান রাফায়েল অ্যাডভান্সড ডিফেন্স সিস্টেমস। প্রথম দিকে এটি ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পরীক্ষা চালানোর জন্য তৈরি করা হয়েছিল। বিশেষ করে ইসরায়েলের অ্যারো ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্ষমতা যাচাই করার সময় শত্রু দেশের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথ অনুকরণ ও লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হতো।

‘স্প্যারো’ সিরিজের তিন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র আছে। তার মধ্যে 'ব্ল্যাক স্প্যারো' হচ্ছে, এই সিরিজের প্রথম সংস্করণ। এটি মূলত স্বল্প‑পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের অনুকরণে তৈরি। এর পাল্লা ৩০০ থেকে ৬০০ কিলোমিটার। দৈর্ঘ্য ১৫.৭৫ ফুট থেকে ১৬.৪০ ফুট। ওজন সাধারণত ১,১০০ থেকে ১৩০০ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। স্কাড‑বি ক্ষেপণাস্ত্রের অনুকরণে এটি তৈরি।

পরবর্তীতে এই প্রযুক্তিকে আরও উন্নত করে এমনভাবে তৈরি করা হয়, যাতে এটি বাস্তব সামরিক অভিযানে ব্যবহারযোগ্য হয়। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, 'ব্লু স্প্যারো' আসলে 'স্প্যারো সিরিজের' মাঝারি পাল্লার সংস্করণ। এর দৈর্ঘ্য ২১.৩৩ ফুট এবং ওজন ১,৯০০ কেজি। পাল্লা ১৫০০ থেকে ২০০০ কিলোমিটার। 

একই সিরিজে 'সিলভার স্প্যারো' নামে আরও একটি ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। এটি 'স্প্যারো' সিরিজের সবচেয়ে উন্নত সংস্করণ। এর দৈর্ঘ্য ২৪.৬ ফুট এবং ওজন ৩,০০০ কেজি। ইরানের শাহাব‑৩ দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রকে প্রতিহত করতে তৈরি করা হয়েছে এটি। এর পাল্লা ১,৫০০ থেকে ২,০০০ কিলোমিটার। 

উন্নয়ন ও আবির্ভাব

২০০০ সালের পর শুরু হয় 'ব্লু স্প্যারো' ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নয়ন। ইসরায়েল তখন মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকিতে পড়েছিল। ইরান ও সিরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সামনে আসার পর ইসরায়েল তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেয়। সেই প্রেক্ষাপটেই তৈরি হয় 'স্প্যারো সিরিজের' ক্ষেপণাস্ত্র।

২০১৩ সালে ভূমধ্যসাগরের আকাশে একটি পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের মাধ্যমে 'ব্লু স্প্যারো' প্রথমবার আন্তর্জাতিকভাবে আলোচনায় আসে। সেই পরীক্ষায় একটি যুদ্ধবিমান থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটি নিক্ষেপ করা হয় এবং এটি নির্ধারিত ব্যালিস্টিক গতিপথ অনুসরণ করে লক্ষ্যবস্তুর দিকে এগিয়ে যায়। ওই পরীক্ষার মাধ্যমে ইসরায়েল তাদের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির কার্যকারিতা যাচাই করে।

প্রযুক্তিগত গঠন

অন্যান্য দেশের ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় 'ব্লু স্প্যারো' আকার ও গঠনের দিক থেকে  বড় আকারের একটি ক্ষেপণাস্ত্র। ক্ষেপণাস্ত্রের ইন-ফ্লাইট নির্দেশনা ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে জাইরোস্কোপ, ইনর্শিয়াল ন্যাভিগেশন, জিপিএসসহ ইনফ্রারেড ও লেজার সেন্সর।

এর প্রপালশন সিস্টেমে একক-পর্বের সলিড ফুয়েল রকেট ইঞ্জিন ব্যবহৃত হয়েছে, যা উৎক্ষেপণের পর দ্রুত উপরের দিকে ঠেলে দেয় এবং নির্ভুলভাবে লক্ষ্য নির্ধারণ করতে পারে।

'ব্লু স্প্যারোর' বিশেষত্ব হলো আকাশে উচ্চতর সুনির্দিষ্টতা বজায় রাখা। আঘাতের সময় এর যুদ্ধমান (হাই এক্সপ্লোসিভ) শুধুমাত্র লক্ষ্যবস্তুতে প্রভাব ফেলে। আশপাশের ক্ষতি করে না। এছাড়া এর ফ্লাইট কন্ট্রোল কম্পিউটার ব্যালিস্টিক পথ ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে চলার কৌশল স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করে।

যুদ্ধে 'ব্লু স্প্যারো' ব্যবহার করে সীমান্তের বাইরে থেকে আঘাত করতে সক্ষম হয় ইসরায়েল। এটি যুদ্ধবিমান ও ক্রুদের জীবনের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়। ইরান–ইসরায়েল সংঘাতে এই ক্ষেপণাস্ত্র বিভিন্ন ওপেন সোর্স বিশ্লেষণ অনুযায়ী ব্যবহৃত হয়েছে। সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এটি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে কার্যকরভাবে প্রতিহত করার জন্য ইসরায়েলের জন্য একটি অত্যাধুনিক প্রযুক্তি।

কীভাবে নিক্ষেপ 

'ব্লু স্প্যারো' সাধারণত যুদ্ধবিমান থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়। ইসরায়েলের বিমানবাহিনীর ভারী যুদ্ধবিমান, বিশেষ করে এফ-১৫ শ্রেণির বিমান এই ক্ষেপণাস্ত্র বহন করতে সক্ষম। যুদ্ধবিমানটি প্রথমে উচ্চ আকাশে উঠে নির্দিষ্ট দূরত্বে পৌঁছায়। এরপর নির্ধারিত মুহূর্তে পাইলট বিমান থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটি মুক্ত করে দেন।

ক্ষিপ্রগতিতে নিচে নামতে থাকা ক্ষেপণাস্ত্রটি বিমান থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরই তার রকেট মোটর চালু হয়। এরপর এটি দ্রুত উপরের দিকে উঠতে শুরু করে এবং কিছু সময়ের মধ্যেই বায়ুমণ্ডলের উচ্চস্তরে মহাশূন্যের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। সেখানে পৌঁছে এটি ব্যালিস্টিক গতিপথ অনুসরণ করে আবার খাড়া কোণে পৃথিবীর দিকে নেমে আসে। এই পুরো প্রক্রিয়ায় ক্ষেপণাস্ত্রের মাথার অংশে থাকা রি-এন্ট্রি ভেহিকল আলাদা হয়ে যায় এবং অত্যন্ত দ্রুতগতিতে লক্ষ্যবস্তুর দিকে ধেয়ে আসে।

এই ধরনের গতিপথের কারণে অনেক সময় প্রচলিত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এই ক্ষেপণাস্ত্রকে সহজে শনাক্ত করতে পারে না। অধিকাংশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সামনে থেকে আসা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার জন্য তৈরি। কিন্তু 'ব্লু স্প্যারো' প্রায় উল্লম্বভাবে নিচে নেমে আসতে থাকায় একে আটকানো কঠিন। 

লক্ষ্যভেদে নির্ভুলতা

আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নির্ভুলতা। 'ব্লু স্প্যারোতে' ব্যবহৃত উন্নত গাইডেন্স সিস্টেম লক্ষ্যবস্তুর খুব কাছাকাছি নির্ভুলতায় আঘাত হানতে সাহায্য করে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র কয়েক মিটারের মধ্যেই লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে পারে। ফলে নির্দিষ্ট ভবন, বাংকার বা সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো সম্ভব হয়। 'ব্লু স্প্যারোকে' ভয়ঙ্কর করে তুলেছে এর গতি ও আঘাতের ধরন। উপর থেকে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে নিচে নামার সময় ক্ষেপণাস্ত্রটির গতিশক্তি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। এই গতির সঙ্গে যুক্ত হয় বিস্ফোরক ওয়ারহেডের ধ্বংসক্ষমতা। এই কারণে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করার সময় এটি শুধু বিস্ফোরণই ঘটায় না, বরং প্রচণ্ড গতির কারণে অতিরিক্ত ধ্বংস সাধন করতে পারে। এই ক্ষেপণাস্ত্র যেকোনো আকৃতির ২০ তলা কিংবা আরও উচ্চতার ভবন, বিমানবন্দর, শপিং মল, হাসপাতাল কিংবা একই আকৃতির স্থাপনা নিমিষেই ধ্বংস করে দিতে পারে। 

পারমাণবিক অস্ত্র বহনের সক্ষমতা

'ব্লু স্প্যারোর' মূল নকশা তৈরি করা হয়েছিল পরীক্ষামূলক লক্ষ্যবস্তু ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবে। তাই এতে সাধারণত পরীক্ষামূলক পেলোড বা ডামি ওয়ারহেড ব্যবহার করা হতো। তবে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির ক্ষেত্রে তাত্ত্বিকভাবে বিভিন্ন ধরনের ওয়ারহেড যুক্ত করা সম্ভব। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রে উচ্চ ক্ষমতার বিস্ফোরক ওয়ারহেড ব্যবহার করা যেতে পারে। যদিও পারমাণবিক ওয়ারহেড বহনের বিষয়ে কোনো সরকারি তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির খরচ

'ব্লু স্প্যারোর' প্রকৃত মূল্য সরকারিভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তবে উন্নত গাইডেন্স ব্যবস্থা, শক্তিশালী রকেট মোটর এবং তাপ প্রতিরোধী প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়।

সামরিক প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের ধারণা অনুযায়ী, বিভিন্ন সিরিজের প্রতিটি উন্নত 'ব্লু স্প্যারো' ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে খরচ হয় ১১০ কোটি থেকে ২২০ কোটি টাকা। এ হিসেবে, তেহরানে নিক্ষেপ করা ৩০টি 'ব্লু স্প্যারো' ক্ষেপণাস্ত্রের দাম ৬,৬০০ কোটি টাকা। 

অন্য কারও আছে?

'ব্লু স্প্যারো' প্রযুক্তি মূলত ইসরায়েলের নিজস্ব সামরিক প্রকল্প। এই ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি অন্য কোনো দেশের কাছে সরবরাহ করা হয়েছে—এমন কোনো তথ্য প্রকাশ্যে নেই।

তবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ একই ধরনের আকাশ থেকে নিক্ষেপযোগ্য ব্যালিস্টিক অস্ত্র উন্নয়নের চেষ্টা করছে। যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনের কাছেও উন্নত ব্যালিস্টিক প্রযুক্তি রয়েছে, যদিও 'ব্লু স্প্যারোর' নকশা ও ব্যবহারের ধরন তাদের থেকে আলাদা।

কীভাবে হত্যা করা হয় খামেনিকে

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যায় পরিচালিত উচ্চপ্রযুক্তির সামরিক অভিযানে ব্যবহার করা হয় দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও আধুনিক যুদ্ধবিমান। অভিযানটি অত্যন্ত পরিকল্পিত, গোপন এবং লক্ষ্যভিত্তিক বড় হামলা। 

দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমন্বয়ে প্রায় ২০০টি যুদ্ধবিমান অংশ নেয় ওই হামলায়। সামরিক অভিযানে অংশ নিয়েছিল এফ‑৩৫আই 'আদির' স্টিলথ, এফ‑১৫আই 'রাম' এবং এফ‑১৬আই 'সুফা' যুদ্ধবিমান। এই বিমানগুলো শত্রুপক্ষের রাডার এড়িয়ে লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুলভাবে আঘাত হানে।

অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল খামেনির তেহরানের পাস্তুর স্ট্রিটের কমপাউন্ড। গোয়েন্দা নজরদারি ও নিরাপত্তা বিশ্লেষণের মাধ্যমে হামলার সময় নির্ধারণ করা হয়। যুদ্ধবিমানগুলো সরাসরি কমপাউন্ডের উপর না গিয়ে ১০০ থেকে ১৫০ কিলোমিটার দূর থেকে নিক্ষেপ করে ক্ষেপণাস্ত্র।

পত্রিকাটির রিপোর্ট অনুযায়ী, লক্ষ্যবস্তুতে ছোড়া হয় ৩০টি 'ব্লু স্প্যারো' ক্ষেপণাস্ত্র। ক্ষেপণাস্ত্রগুলো নির্ধারিত স্থানে আঘাত হানে এবং বিস্ফোরণে ধ্বংস হয় কম্পাউন্ড।‌ গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, হামলায় খামেনিসহ ৪০ জনের বেশি শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতা নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর এবং ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আবদুর রহিম মুসাভিও ছিলেন। আরও নিহত হন খামেনির স্ত্রী, কন্যা, জামাতা, এবং নাতনিসহ তার পরিবারের ছয় জন।

ভবিষ্যৎ যুদ্ধে 'ব্লু স্প্যারো'

আধুনিক যুদ্ধে দূরপাল্লার নির্ভুল অস্ত্রের গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। একটি ক্ষেপণাস্ত্র যদি দূর থেকে শত্রু দেশের গভীর অভ্যন্তরে থাকা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে, তাহলে সেটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

'ব্লু স্প্যারো' ঠিক সেই ধরনের প্রযুক্তির প্রতিনিধিত্ব করে। আকাশ থেকে নিক্ষেপযোগ্য এই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দেখিয়ে দিয়েছে, ভবিষ্যতের যুদ্ধে আকাশ, মহাশূন্য এবং সাইবার প্রযুক্তির সমন্বয় কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ ভূরাজনীতির প্রেক্ষাপটে এই ধরনের অস্ত্র শুধু একটি সামরিক প্রযুক্তি নয়—এটি ক্ষমতার প্রতীকও। এবং সেই কারণেই 'ব্লু স্প্যারোর' মতো অস্ত্র নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা ও উদ্বেগ দুই-ই বাড়ছে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়