শিরোনাম
◈ বাড়তি মার্কিন শুল্ক কার্যকর হলে রপ্তানিতে বড় ধাক্কার আশঙ্কা ◈ শেখ হাসিনার পক্ষের দাবি নাকচ, জুলাই অভ্যুত্থান প্রতিবেদনের পাশে জাতিসংঘ ◈ কারামুক্ত হলেন সাবেক মেয়র আইভী ◈ দিল্লির আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, নিহত ২১; আহতদের মধ্যে ৫ বাংলাদেশি ◈ ‘আসল’ তৃণমূলের নিয়ন্ত্রণ ঋতব্রতের হাতে, মমতাকে উপদেষ্টা হওয়ার প্রস্তাব ◈ অস্ট্রেলিয়ার বিরু‌দ্ধে বাংলা‌দে‌শের ওয়ান‌ডে দল ঘোষণা, মিরাজ অ‌ধিনায়ক ◈ বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারের মাসিক চার্জ তুলে নিল সরকার ◈ হাজিদের লাগেজ চুরি রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস ধর্মমন্ত্রীর ◈ ৩০০ দিনে ১৭ দেশ পেরিয়ে আর্জেন্টিনার ক্যাম্পে ৩ ভক্ত সাইক্লিস্ট  ◈ হাদি ইস্যুতে মমতার মন্তব্য; যা বললেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী (ভিডিও)

প্রকাশিত : ২০ মার্চ, ২০২৬, ১২:৪৮ দুপুর
আপডেট : ০৩ জুন, ২০২৬, ১১:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীকে বের করে দিলেন মুসল্লিরা: টেলিগ্রাফের রিপোর্ট (ভিডিও)

অনলাইন টেলিগ্রাফ: অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীকে দেশটির অন্যতম বড় মসজিদ থেকে ক্ষুব্ধ মুসল্লিরা বের করে দিয়েছেন। তারা তাকে ‘গণহত্যার সমর্থক’ এবং ‘পুট্রিড ডগ’ বলে গালি দেয়। শুক্রবার লাকেম্বা মসজিদে এ ঘটনা ঘটে। সিডনি শহরের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত এই মসজিদ। রমজানের শেষ উপলক্ষে ধর্মীয় অনুষ্ঠান চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। মুহূর্তেই অনুষ্ঠানটি রাজনৈতিক প্রতিবাদে রূপ নেয়। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তার সঙ্গে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তারা কিছুক্ষণ নীরবে বসে ছিলেন। এ খবর দিয়েছে লন্ডনের অনলাইন টেলিগ্রাফ।

ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একজন ব্যক্তি সরাসরি আলবানিজ ও বার্ককে উদ্দেশ করে চিৎকার করে বলছেন, ‘গণহত্যার সমর্থক!’ আরও কয়েকজন চিৎকার করে বলেন, ‘ও এখানে কেন? ওকে এখান থেকে বের করে দাও!’ তবে উপস্থিত কিছু মানুষ রাজনৈতিক নেতাদের স্বাগতও জানান। মুসল্লিরা প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে ফেলতে চাইলে মসজিদের সেক্রেটারি গামেল খেইর সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আপনারা যে জায়গায় আছেন, সেটির সম্মান রক্ষা করুন।

কিন্তু পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং মসজিদের ভেতরে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এক পর্যায়ে দেখা যায়, একজনের চিৎকার বন্ধ করতে অন্য একজন তার মুখ জোর করে চেপে ধরছে।

খেইর বলেন, আমাদের রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে খোলামেলা ও সরাসরি সংলাপ করতে হবে। নিজেদের গুটিয়ে নেয়া উচিত নয়। কিন্তু তার কথা চিৎকারের মধ্যে ডুবে যায়।

একজন চিৎকার করে বলেন, আপনি তাকে সম্মানিত বললেন? সে এক মিলিয়ন মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী, আমাদের এক মিলিয়ন ভাইবোনের মৃত্যু!

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে নিরাপত্তাকর্মীরা আলবানিজকে দ্রুত মসজিদের প্রশাসনিক অফিসে নিয়ে যান। পরে তাকে পেছনের দরজা দিয়ে বের করে দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর চলে যাওয়ার সময় মুসল্লিদের মধ্য থেকে শোনা যায়- ‘লজ্জা! লজ্জা!’ স্লোগান।

কেউ কেউ ‘আলবা-তিজি’ বলে অপমানজনক স্লোগান দেন। যা তার পদবির সঙ্গে আরবি ভাষায় নিতম্বকে ইঙ্গিত করে এমন একটি অবমাননাকর শব্দের সংমিশ্রণ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাধারণত এই অনুষ্ঠানে রাজনীতিবিদরা বক্তৃতা দেন। কিন্তু এ বছর মসজিদ কর্তৃপক্ষ আলবানিজকে শুধু উপস্থিত থাকতে ও কথা শুনতে অনুরোধ করেছিল বলে জানায় সিডনি মর্নিং হেরাল্ড।

এই ক্ষোভের পেছনে রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার মধ্যপ্রাচ্যের সম্প্রদায়ের সঙ্গে সরকারের সম্পর্কের অবনতি। সিডনির লাকেম্বা এলাকা দীর্ঘদিন ধরে লেবার পার্টির শক্ত ঘাঁটি। তবে গাজা ও লেবানন যুদ্ধ নিয়ে সরকারের অবস্থানের কারণে সেখানে রাজনৈতিক উত্তেজনা বেড়েছে। প্রধানমন্ত্রীকে মুখোমুখি প্রশ্ন করা ২৯ বছর বয়সী সেকলাউই বলেন, তিনি এখানে আসতে চান, অথচ তিনি ইসরাইলের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে করমর্দন করেছেন, যার হাতে রক্ত লেগে আছে। তিনি আরও বলেন, এখানে এসে এমন ভান করছেন যেন কিছুই ঘটেনি, এটা লজ্জাজনক।

এখানে ফেব্রুয়ারি থেকে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। কারণ, ওই সময় অস্ট্রেলিয়ান পুলিশ সিডনির টাউন হলে একটি বিক্ষোভ চলাকালে নামাজরত মুসলমানদের জোর করে সরিয়ে দেয়। ওই বিক্ষোভটি ছিল ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগের সফরের বিরুদ্ধে। এর পাশাপাশি গত ডিসেম্বর বন্ডি বিচে একটি সন্ত্রাসী হামলার পর দেশে ইসলামবিদ্বেষী ঘটনার সংখ্যা বেড়ে যায়। অনেক মুসলমান মনে করেন সরকার তাদের সুরক্ষা দিতে ধীরগতিতে কাজ করছে।

২০২৬ সালের জানুয়ারিতে পাস হওয়া কম্ব্যাটিং এন্টি-সেমিটিজম, হেট অ্যান্ট এক্সট্রিমিজম আইনও এই ক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। দুই সপ্তাহ আগে এই আইনের অধীনে ইসলামপন্থী সংগঠন হিজবুত তাহরিরকে ‘নিষিদ্ধ ঘৃণামূলক সংগঠন’ ঘোষণা করা হয়। সমালোচকদের মতে, এই পদক্ষেপ মুসলিম ভিন্নমতকে লক্ষ্য করে নেয়া হয়েছে। কিন্তু ক্রমবর্ধমান ইসলামবিদ্বেষ থেকে মুসলিম সম্প্রদায়কে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া একই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় এখন এই সংগঠনের সদস্য হওয়া ১৪ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডযোগ্য অপরাধ।

অপমানজনকভাবে মসজিদ ছাড়লেও পরে আলবানিজ এক্সে কিছু ছবি পোস্ট করেন। সেখানে তাকে হাসিমুখে উপস্থিত লোকদের সঙ্গে করমর্দন করতে দেখা যায়। তিনি ঘটনাটিকে গুরুত্বহীন করে বলেন, সামগ্রিকভাবে অভ্যর্থনা অত্যন্ত ইতিবাচক ছিল। আমি ভিড়ের মধ্য দিয়ে মসজিদে ঢুকেছি কেউ আমাকে বাধা দেয়নি। ভেতরে দু’একজন আপত্তি জানিয়েছিল, সেটি সামাল দেয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, যেমনটা বলা হয়েছে, কেউ আমাকে তাড়িয়ে দেয়নি। আমরা সেখানে বসেছিলাম। সম্প্রদায়ের মানুষরাই বিষয়টি সামলেছেন। কারণ অধিকাংশ মানুষ এমন ঘটনা ঘটুক তা চাননি। অনুবাদ: মানবজমিন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়