শিরোনাম
◈ জাপানি কনসোর্টিয়ামের সাথে চুক্তি ১৯ জুলাইয়ের মধ্যে, ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে চালু হচ্ছে শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল ◈ ইন্টারপোল রেড নোটিশভুক্ত নজরুল ইসলাম লিবিয়ায় গ্রেফতার ◈ এই বিজয় বাংলাদেশ ও গণতন্ত্রের বিজয়: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ-হত্যা: যে কারণে স্বপ্না হঠাৎ স্বামী সোহেল রানাকে মারতে তেড়ে যান ◈ তোফায়েলের জানাজা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক, মুখ খুললেন হাছান মাহমুদ ◈ ন‌ভেম্ব‌রে ঢাকায় পুরুষ‌দের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ফুটবল, থাক‌বে‌ ভিআরএস প্রযু‌ক্তি  ◈ হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলা থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন ইসরায়েলি শীর্ষ কর্মকর্তা ◈ ৬ নবজাতকের মৃত্যুর দায় আদ্-দ্বীন হাসপাতালের : স্বাস্থ্যমন্ত্রী ◈ নতুন বিদ্যুৎ ট্যারিফে অসন্তোষ, বিইআরসিকে পুনর্বিবেচনার অনুরোধ মন্ত্রণালয়ের ◈ ‘আমরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত’, মায়ের মৃত্যু নিয়ে প্রথমবারের মতো মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বুয়েট অধ্যাপক

প্রকাশিত : ৩১ মার্চ, ২০২৬, ০৮:৫৬ সকাল
আপডেট : ২১ মে, ২০২৬, ০৯:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকা সত্ত্বেও যুদ্ধ বন্ধের পথে ট্রাম্প: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের জানিয়েছেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি উন্মুক্ত না হওয়া সত্ত্বেও তিনি ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান শেষ করতে আগ্রহী। 

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। 

ট্রাম্পের এই সম্ভাব্য পদক্ষেপের ফলে জলপথটির ওপর তেহরানের শক্ত নিয়ন্ত্রণ আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে এবং এটি পুনরায় চালু করার অত্যন্ত জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ প্রক্রিয়াটি ভবিষ্যতের কোনো সময়ের জন্য ঝুলে থাকার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প মনে করছেন যে এই মুহূর্তে জলপথটি জোরপূর্বক উন্মুক্ত করার চেষ্টা করলে যুদ্ধ তাঁর নির্ধারিত চার থেকে ছয় সপ্তাহের সময়সীমার বাইরে চলে যেতে পারে।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ট্রাম্প এবং তাঁর উপদেষ্টারা বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন, মার্কিন সামরিক অভিযানের মূল লক্ষ্যগুলো ইতিমধ্যে অর্জিত হয়েছে। ওয়াশিংটনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ইরানের নৌবাহিনীর সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ ধ্বংস করা। 

ট্রাম্প প্রশাসন মনে করছে, এই লক্ষ্যগুলো সফলভাবে পূরণ হওয়ার পর এখন বৈরী পরিস্থিতি কমিয়ে আনার সময় এসেছে। তবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবাধ বাণিজ্য নিশ্চিত করার বিষয়টি সরাসরি যুদ্ধের পরিবর্তে কূটনৈতিক চাপের মাধ্যমে সমাধানের পরিকল্পনা করছেন ট্রাম্প। অর্থাৎ, সামরিক শক্তি প্রয়োগের চেয়ে তেহরানের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টিকেই এখন অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

যদি কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়, তবে ওয়াশিংটন এই জলপথটি পুনরায় উন্মুক্ত করার দায়িত্ব ইউরোপীয় এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্র দেশগুলোর ওপর ছেড়ে দিতে পারে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ট্রাম্প চাচ্ছেন যে মিত্ররাই এই অভিযানের নেতৃত্ব দিক এবং যুক্তরাষ্ট্রকে যেন দীর্ঘমেয়াদী কোনো যুদ্ধে জড়িয়ে থাকতে না হয়। 

যদিও হোয়াইট হাউসের হাতে এখনো বেশ কিছু সামরিক বিকল্প জমা রয়েছে যা প্রেসিডেন্ট যেকোনো সময় বেছে নিতে পারেন, তবে বর্তমানে যুদ্ধ বন্ধ করা এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা কমিয়ে আনাই তাঁর তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার। ট্রাম্পের এই নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নির্দেশ করে, তিনি দ্রুত এই সংঘাতের ইতি টেনে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে চাচ্ছেন।

সার্বিকভাবে ট্রাম্পের এই নমনীয় অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের একটি বিশাল অংশ সরবরাহ করা হয়, তাই এটি বন্ধ থাকা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য একটি বড় উদ্বেগের কারণ। তবে ট্রাম্পের এই ‘দ্রুত যুদ্ধ শেষ করার’ কৌশলের ফলে মিত্রদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে, বিশেষ করে যারা এই জলপথের নিরাপত্তার ওপর সরাসরি নির্ভরশীল। আপাতত তেহরানের সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক সমঝোতা ছাড়াই মার্কিন বাহিনী তাদের অভিযানের গতি কমিয়ে আনবে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে গভীর পর্যবেক্ষণ চলছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়