শিরোনাম
◈ জাপানি কনসোর্টিয়ামের সাথে চুক্তি ১৯ জুলাইয়ের মধ্যে, ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে চালু হচ্ছে শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল ◈ ইন্টারপোল রেড নোটিশভুক্ত নজরুল ইসলাম লিবিয়ায় গ্রেফতার ◈ এই বিজয় বাংলাদেশ ও গণতন্ত্রের বিজয়: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ-হত্যা: যে কারণে স্বপ্না হঠাৎ স্বামী সোহেল রানাকে মারতে তেড়ে যান ◈ তোফায়েলের জানাজা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক, মুখ খুললেন হাছান মাহমুদ ◈ ন‌ভেম্ব‌রে ঢাকায় পুরুষ‌দের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ফুটবল, থাক‌বে‌ ভিআরএস প্রযু‌ক্তি  ◈ হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলা থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন ইসরায়েলি শীর্ষ কর্মকর্তা ◈ ৬ নবজাতকের মৃত্যুর দায় আদ্-দ্বীন হাসপাতালের : স্বাস্থ্যমন্ত্রী ◈ নতুন বিদ্যুৎ ট্যারিফে অসন্তোষ, বিইআরসিকে পুনর্বিবেচনার অনুরোধ মন্ত্রণালয়ের ◈ ‘আমরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত’, মায়ের মৃত্যু নিয়ে প্রথমবারের মতো মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বুয়েট অধ্যাপক

প্রকাশিত : ০৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৩৫ দুপুর
আপডেট : ০২ জুন, ২০২৬, ০৬:০০ সকাল

প্রতিবেদক : আর রিয়াজ

৪৫০ ক্ষেপণাস্ত্র ও ২ হাজার ড্রোন হামলার পরও ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামছে না কেন ইউএই?

এনডিটিভিতে বিশ্লেষণ: সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের ছোড়া ৪৫৭টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ১৯টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২,০৩৮টি ড্রোন মোকাবিলা করেছে। এর ফলে ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যৌথ যুদ্ধে ইরানের সবচেয়ে বড় লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে আমিরাত। এমনকি যুদ্ধের প্রথম দিনেই দুবাই বিমানবন্দর, শহরের বিখ্যাত বুর্জ আল আরব হোটেল, পাম জুমেইরাহ এবং জেবেল আলি বন্দর ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়। অনুবাদ: মানজমিন

এসব হামলায় বিরক্ত হয়ে আমিরাত যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে এবং কাজ শেষ করতে বলেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে। তবে সর্বশেষ অবস্থান অনুযায়ী, তারা ইরানে স্থলসেনা পাঠানো হবে না বলে জানিয়েছে, যদিও আন্তর্জাতিক নৌপরিবহনের জন্য হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে যে কোনো বহুজাতিক উদ্যোগে যোগ দেয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে আমিরাত।

এই পরিস্থিতি দুই প্রতিবেশী দেশের একটি জটিল সম্পর্ককে সামনে নিয়ে এসেছে। দুই দেশই একই জলপথ, জনগোষ্ঠী এবং বিস্তৃত বাণিজ্যিক সম্পর্ক ভাগাভাগি করে।

আমিরাত হলো ইরানের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার। দুই দেশের বার্ষিক দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২৫ থেকে ২৭ বিলিয়ন ডলার। ২০২৪ সালে আমিরাত থেকে ২০ বিলিয়ন ডলারের বেশি পণ্য আমদানি করেছে ইরান, যা তাকে ইরানের সবচেয়ে বড় একক আমদানির উৎসে পরিণত করেছে। একই সময়ে আমিরাতে ইরানের তেল ছাড়াও অন্যান্য রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি। প্রায় পাঁচ লাখ ইরানি আমিরাতে বসবাস ও কাজ করেন। এই সম্প্রদায়ের উপস্থিতি ১৯৭৯ সালের ইসলামিক প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠারও আগের।

টানাপোড়েনের ইতিহাস

তবু উত্তেজনা থেকেই গেছে ভৌগোলিক প্রশ্নে ১৯৭১ সালে আমিরাত প্রতিষ্ঠার পর থেকেই আর আদর্শিক প্রশ্নে ১৯৭৯ সালের ইরানি ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে। পরে তা আরও বিস্তৃত ভূ-কৌশলগত বিবেচনায় ছড়িয়ে পড়ে। ভূখণ্ডগতভাবে ইরান ও আমিরাত তিনটি ছোট দ্বীপ নিয়ে বিরোধে জড়িয়ে আছে। তাহলো আবু মুসা, গ্রেটার তুনব এবং লেসার তুনব। সবচেয়ে বড় দ্বীপ আবু মুসার জনসংখ্যা মাত্র প্রায় ২০০০। কিন্তু এদের অবস্থান অত্যন্ত কৌশলগত। কারণ এগুলো হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে অবস্থিত। প্রণালিটির গুরুত্ব এখন নতুন করে ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন নেই। এই দ্বীপগুলো প্রণালির সামুদ্রিক চলাচল নজরদারির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে কাজ করে এবং ইরানের নৌ প্রতিরক্ষার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বৃটেন ১৯০৮ সালে এই দ্বীপগুলো দখল করেছিল। ১৯৭১ সালে আমিরাত বৃটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভ করলে বৃটিশরা দ্বীপগুলো থেকে সরে যায়। এরপর শাহ রেজা পাহলভির আমলে ইরান পুরোনো মানচিত্র, এমনকি বৃটিশ মানচিত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে দ্বীপগুলো দখল করে। তবে আমিরাত দাবি করে, এগুলোর প্রকৃত মালিক তারাই। ইরানের বিশাল আকার ও সামরিক শক্তির কারণে আমিরাত অনেকটাই সংযত থেকেছে এবং মূলত কূটনৈতিক উপায়ে উত্তেজনা সামলানোর চেষ্টা করেছে। আমিরাতের আকার মোট ৮৩,৬০০ বর্গকিলোমিটার এবং জনসংখ্যাগত বাস্তবতা মোট ১ কোটি ১৫ লাখ ৭০ হাজার মানুষের মধ্যে স্থানীয় আমিরাতি মাত্র ১৩ লাখ ৩০ হাজার। এটা ইরান এবং পুরো অঞ্চলের প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রভাবিত করেছে।

বিপ্লব ও আমেরিকামুখী ঝোঁক

১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লব, যা শাহকে উৎখাত করে একটি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে, আঞ্চলিক রাজনীতিকে আরও জটিল করে তোলে। উপসাগরীয় পাঁচটি শেখশাসিত রাষ্ট্র এবং সৌদি আরব- সবই উত্তরাধিকার সূত্রের রাজতন্ত্র। কিছু রাষ্ট্র, যেমন আমিরাত, একটি ফেডারেল কাঠামো ও সংবিধান থাকায় কিছুটা গণতান্ত্রিক রূপের আভাস দিলেও বাস্তবে তারা পরম রাজতন্ত্রই রয়ে গেছে। এছাড়া ইরান যখন তার বিপ্লবী আদর্শ রপ্তানি শুরু করে, তখন ছোট ছোট শেখশাসিত রাষ্ট্রগুলো নিজেদের এবং তাদের বিপুল তেলসম্পদ সুরক্ষিত রাখতে গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল গঠন করে এবং মার্কিন নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর বিনিয়োগ বাড়ায়।

আজ সব জিসিসি দেশেই মার্কিন বিমানঘাঁটি রয়েছে। এর মধ্যে আমিরাতে আছে আল ধাফরা বিমানঘাঁটি। সেখানে মার্কিন, ফরাসি ও আমিরাতি বিমানবাহিনী অবস্থান করে। দুবাইয়ের জেবেল আলি বন্দর মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি। যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি বৃটেন ও ফ্রান্সের সামরিক ঘাঁটিও সেখানে রয়েছে, যা ইরান-আমিরাত সম্পর্কের টানাপোড়েনের একটি কারণ। আমিরাত দীর্ঘদিন সৌদি আরবের খুব ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিল, যদিও সাম্প্রতিক সময়ে সেই সম্পর্কেও চাপ দেখা গেছে।

বছরের পর বছর ধরে ইরাকের প্রয়াত প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের কুয়েত আক্রমণ, আরব বসন্ত এবং তুরস্কে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও আফগানিস্তানে তালেবানের প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে কট্টর সুন্নি শক্তির উত্থান, পাশাপাশি ইরাক ও সিরিয়ায় আইএসআইএসের মতো বিরাষ্ট্রীয় শক্তির আবির্ভাব- সব মিলিয়ে এ অঞ্চলে নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়।

আমিরাতের বিশেষ দুর্বলতা

ভূখণ্ড ও জনসংখ্যাগত কারণে আমিরাত বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ ছিল এবং তারা শিয়া ও সুন্নি- উভয় ধরনের কট্টরপন্থার মোকাবিলা করতে চেয়েছে। ২০১৫ সালে সৌদি আরবের সঙ্গে মিলে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ করার যে নজিরবিহীন পদক্ষেপ তারা নেয়, তার লক্ষ্য শুধু প্রেসিডেন্ট আবদুল হাদি মানসুরের সরকারকে টিকিয়ে রাখা ছিল না। একই সঙ্গে ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদেরও ঠেকানো ছিল উদ্দেশ্য।

একই যুক্তিতে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধেও আমিরাত আসাদবিরোধী গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দেয় ওই অঞ্চলে ইরানি প্রভাব ঠেকানোর জন্য। কিন্তু ইয়েমেনে হস্তক্ষেপ অচলাবস্থাই তৈরি করে, আর হুতিরা সৌদি আরব ও আমিরাত দুই দেশকেই লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে। পরে আমিরাত ইয়েমেন থেকে সরে আসে, তবে সুন্নি ও শিয়া দুই ধরনের কট্টরপন্থার মোকাবিলায় অন্য পথ অনুসরণ করে।

এর একটি ছিল আমিরাতি সমাজে সহনশীলতা ও বহুত্ববাদ বাড়ানোর নীতি যেমন মন্দির নির্মাণ, যুদ্ধোত্তর ইরাকে গির্জা পুনর্নির্মাণ, আন্তধর্মীয় সংলাপ শুরু এবং প্রবাসীদের জন্য সামাজিক নিয়মকানুন কিছুটা শিথিল করা। বাস্তব কারণেই এটি জরুরি ছিল। কারণ আমিরাতের প্রায় ৮০ শতাংশ জনগণই প্রবাসী। তাদের অধিকাংশই ভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির।

যে চুক্তি সবকিছু বদলে দেয়

আরেকটি পথ ছিল রাশিয়া, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও ভারতের মতো দেশের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্ব বৈচিত্র্যময় করা। তবে সবচেয়ে যুগান্তকারী পদক্ষেপ ছিল ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা, যা আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের মাধ্যমে হয়। আমিরাত ছিল তৃতীয় আরব দেশ এবং প্রথম জিসিসি সদস্য, যারা ইসরাইলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে। গোয়েন্দা সক্ষমতা ও সামরিক শক্তির জন্য পরিচিত ইসরাইলের সঙ্গে এই সম্পর্ক তেহরানে বিপদের ঘণ্টা বাজিয়ে দেয়। কারণ তখন বহু দশক ধরে ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের ছায়াযুদ্ধ চলছিল। এমনকি তুলনামূলক মধ্যপন্থী হিসেবে পরিচিত তৎকালীন ইরানি প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানিও এই পদক্ষেপকে ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা বলে কড়া ভাষায় নিন্দা করেন।

ফিলিস্তিন প্রশ্নটি উপসাগরীয় রাজতন্ত্রগুলোর জন্য এক অস্বস্তিকর অবস্থান তৈরি করেছে। একদিকে তারা ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য সহায়তা ও অঙ্গীকার অব্যাহত রেখেছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র হয়েও কোনো অর্থবহ সমাধান বের করতে পারেনি। ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের সম্ভাবনা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে দূরবর্তী মনে হচ্ছে।

অন্যদিকে, ইরান গাজায় হামাসকে অস্ত্র দিচ্ছিল- যদিও হামাস একটি সুন্নি গোষ্ঠী। ইসরাইলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে লড়াই এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলের পদক্ষেপের জবাব দেয়ার একমাত্র শক্তি হিসেবেই হামাসকে দেখা হচ্ছিল। জিসিসি রাষ্ট্রগুলো সেখানে প্রায় অসহায় দেখাচ্ছিল। এই প্রেক্ষাপটে আব্রাহাম অ্যাকর্ডস ইরানের দৃষ্টিতে আরবদের ওপর ইসরাইলের আরও এক ধরনের প্রাধান্য প্রতিষ্ঠার উদাহরণ ছিল। আমিরাতের পথ অনুসরণ করে বাহরাইনও একই পথে হাঁটে। ফলে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার প্রক্রিয়াটি আমিরাতই এক অর্থে খুলে দেয়। আর তাতে ভৌগোলিকভাবেও ইরানের আরও কাছাকাছি চলে আসে ইসরাইলি উপস্থিতি।

অর্থের টান অস্বীকার করা যায় না

তবু ভৌগোলিক বাস্তবতা বলছে, আমিরাত ও ইরান বাণিজ্য, অর্থনীতি ও অন্যান্য আর্থিক সংযোগের মাধ্যমে অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত। যেমন ভারতীয়রা আমিরাত গড়ে তুলতে বড় ভূমিকা রেখেছে, তেমনি বহু ইরানিও এ কাজে অবদান রেখেছে। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার ফলে আমিরাত ইরানের জন্য বাইরের বিশ্বের সঙ্গে বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেনের প্রধান প্রবেশদ্বারে পরিণত হয়।

দুবাইয়ের মতো বন্দর ও আমিরাতের লজিস্টিক নেটওয়ার্ক ইরানের বাজারে পণ্য প্রবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পুনরায় রপ্তানি কেন্দ্র হিসেবে কাজ করেছে, যা ইরানকে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে প্রবেশের সুযোগ দিয়েছে। সেই কারণেই প্রশ্ন ওঠে, ইরানের অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন কেন আমিরাতের দিকেই ছোড়া হয়েছে। আমিরাত একদিকে ইরানের হামলার নিন্দা করেছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলারও সমালোচনা করেছে। তবু তাদের প্রতিক্রিয়া ছিল উল্লেখযোগ্যভাবে সংযত।

হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমিরাতসহ যেসব উপসাগরীয় দেশ এই পথ ব্যবহার করে, তারা জ্বালানি রপ্তানি এবং সারসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পণ্য পরিবহন করতে পারছে না। অবশ্যই, ইরানের সবচেয়ে কাছের যে দেশটিতে মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে, তা হলো আমিরাত। একই সঙ্গে দেশটি ইসরাইলের সঙ্গেও অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। আর এখন আকাশপথে ইরানের ওপর হামলায় উভয় দেশই সক্রিয়। ইরান বলেছে, তারা অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করবে এবং তারা তা ধারাবাহিকভাবে করছে। একটি বড় লজিস্টিক, বাণিজ্য ও আর্থিক কেন্দ্র হিসেবে আমিরাত ইতিমধ্যে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির মুখে পড়েছে।

তাহলে কি এমন হতে পারে, আমিরাতের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে তার সুনামকে আঘাত করে ইরান দীর্ঘমেয়াদে ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডরের পরিকল্পনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে চাইছে, যেখানে আমিরাত একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র? কারণ, তাতে ইরানের চাবাহার বন্দর-যা একসময় ভারত গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক ও পরিবহন কেন্দ্র হিসেবে যৌথভাবে উন্নয়ন করছিল, বড় প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা পেতে পারে।

অবশ্য চাবাহার বন্দরের নিজস্ব কৌশলগত গুরুত্ব আছে, আর মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংঘাতেরও আরও বড় ও গভীর মাত্রা রয়েছে। তবু এই সম্ভাবনাকে পুরোপুরি উড়িয়ে দেয়া যায় না।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়