ইতালির উপকূলে থাকা দু’টি বণিক জাহাজ একটি নৌকা থেকে ৩২ জন অভিবাসপ্রত্যাশীকে জীবিত উদ্ধার করেছে। পাশাপাশি দুই অভিবাসনপ্রত্যাশীর মরদেহও উদ্ধার করেছে তারা। অভিবাসনপ্রত্যাশীদের বহন করা নৌকাটি লিবিয়া থেকে ছেড়ে এসেছিল। জীবিত উদ্ধার হওয়াদের বরাতে উদ্ধারকারী দাতব্য সংস্থাগুলো জানিয়েছে, অন্তত ৭১ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী সাগরে নিখোঁজ হয়েছে। খবর রয়টার্সের।
উদ্ধারকারী বণিক জাহাজের ক্যাম্পেট দে’আরিগো বলেন, “উদ্ধার হওয়ারা পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও মিসরের নাগরিক। তাদের ইতালির কোস্ট গার্ডের জাহাজে তুলে দেওয়া হয়েছে।”
মেডিটেরিয়ানে সেভিং হিউম্যানস অ্যান্ড সি-ওয়াচ নামের দাতব্য সংস্থাটি জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়াদের ইতালীয় কোস্ট গার্ডের একটি টহল নৌকায় স্থানান্তর করা হয়েছে। সেখান থেকে তাদের ইতালির ল্যাম্পেদুসা দ্বীপে নিয়ে যাওয়া হয়।
এদিকে, মার্কিন গণমাধ্যম নিউ ইয়র্ক পোস্ট নিজেদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, শনিবার অভিবাসনপ্রত্যাশীদের নৌকাটি ডুবেছে লিবিয়া উপকূলে। নৌযানটিতে শতাধিক অভিবাসনপ্রত্যাশী ছিল। এর মধ্যে অন্তত ৭০ জন নিখোঁজ রয়েছে। তারা ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা এবং জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনসিএইচইর’র স্থানীয় প্রতিনিধিরা রবিবার (৫ এপ্রিল) জানিয়েছেন, জীবিত উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে একজন শিশু রয়েছে। উভয় সংস্থা জানিয়েছে, বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা তাদের জানিয়েছেন, লিবিয়ার তাজোরা বন্দর থেকে নৌকাটি ছেড়ে আসে এবং এতে শতাধিক মানুষ ছিলেন।
জীবিত উদ্ধার হওয়ারা জানিয়েছেন, আবহাওয়া ছিল খুবই বৈরি। ঢেউ খুবই উঁচু ছিল। নৌকাটি যাত্রা শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উল্টে যায়। তখনও এটি এখনও লিবিয়ার পানিতে ছিল।
ভূমধ্যসাগর পর্যবেক্ষণ করা জার্মান সংস্থা সি-ওয়াচ এই উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, শনিবার তাদের একটি বিমান ভূমধ্যসাগরে সমস্যায় থাকা একটি নৌকার খবর পায়। বিমান সেখানে পৌঁছালে একটি উল্টে যাওয়া কাঠের নৌকা খুঁজে পায়। ওই নৌকা ধরেছিল প্রায় ১৫ জন মানুষ। কয়েকজন মানুষ পানিতে ভাসতে ছিল এবং কিছু মরদেহও ছিল।