‘আজ রাতেই ইরানের সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে’ ইরানের প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ বক্তব্যকে ‘জাতিগত হত্যার হুমকি’ হিসেবে দেখছেন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাপরিচালক অ্যাগনেস কলামার্ড।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) কলামার্ড এক বিবৃতিতে বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন ধরনের অ্যাপোক্যালিপটিক হুমকি দেওয়া, যার মধ্যে ‘এক সম্পূর্ণ সভ্যতার শেষ’ করার সতর্কবাণী রয়েছে, এটি মানবজীবনের প্রতি অভূতপূর্ব নিষ্ঠুরতা এবং উদাসীনতার পরিচায়ক।
তিনি আরও বলেন, নাগরিক এবং নাগরিক স্থাপনাগুলোর ওপর আক্রমণ নিষিদ্ধ। তাই মার্কিন প্রেসিডেন্টের ‘সংহার ও অপরিবর্তনীয় ধ্বংসের’ হুমকি আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের মূল নিয়মগুলোকে চিরতর লঙ্ঘন করে, যার ফলে প্রায় ৯০ মিলিয়ন মানুষের ওপর সম্ভাব্য বিধ্বংসী প্রভাব পড়তে পারে।
কলামার্ডের মতে, এই হুমকি জাতিগত হত্যার হুমকি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে যা জাতিসংঘের জেনোসাইড কনভেনশন এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের রোম স্ট্যাচিউট অনুযায়ী, জাতিগত, নৃগোষ্ঠিক, ধর্মীয় বা জাতীয় কোনো গোষ্ঠীকে আংশিক বা সম্পূর্ণ ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে করা কাজ হিসেবে সংজ্ঞায়িত।
তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সতর্ক করে বলেন, একটি আসন্ন বিপর্যয় রোধের জন্য জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
যুদ্ধাপরাধ, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ ও জাতিগত হত্যায় জড়িত থাকা বা নির্দেশ দেওয়া আন্তর্জাতিক আইনে ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতার বিষয়।
ট্রাম্প ইরানকে হুমকি দিয়ে বলেছেন, আজ রাতেই একটি সম্পূর্ণ সভ্যতা শেষ হয়ে যাবে, যা আর কখনো পুনরুদ্ধার করা যাবে না।
আমি চাই না এটা হোক, তবে সম্ভবত এটা ঘটবে। তবে এখন আমরা সম্পূর্ণ ও সামগ্রিক রেজিম চেঞ্জের পর্যায়ে আছি, যেখানে ভিন্ন, বুদ্ধিমান ও কম উগ্র মনোভাবের মানুষরা প্রাধান্য পাচ্ছে। তাই হয়তো বৈপ্লবিকভাবে চমৎকার কিছু ঘটতে পারে।
তিনি তার ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, কে জানে? আজ রাতেই আমরা জানতে পারব বিশ্বের দীর্ঘ ও জটিল ইতিহাসের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। ৪৭ বছরের জুলুম, দুর্নীতি ও মৃত্যুর অবসান হয়ে যাবে। ঈশ্বর ইরানি জনগণকে আশীর্বাদ করুন।
তার এ হুমকির পর ইরানকে চুক্তিতে পৌঁছাতে নতুন করে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তেহরান সাড়া না দিলে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা শুধু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পই জানেন বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট বলেছেন, ইরানি শাসনব্যবস্থার কাছে স্থানীয় সময় রাত ৮টা পর্যন্ত সময় আছে। অর্থাৎ শেষ ৭ ঘণ্টা। তেহরানের উচিৎ এই মুহূর্তকে কাজে লাগিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি কোথায় দাঁড়িয়ে আছে এবং ইরান চুক্তিতে না এলে কী করা হবে, তা কেবল প্রেসিডেন্টই জানেন।
এর আগে ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটন বারবার কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়ে আসছে। তবে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এই সর্বশেষ সতর্কবার্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে বলে বিশ্লেষকদের মত।
ট্রাম্প ছাড়াও ইরানকে হুমকি দিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কিছু শক্তিশালী ‘অস্ত্র’ রয়েছে; যেগুলোকে তারা এখনও ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে আলোচনার মাধ্যমে সেগুলো ব্যবহার এড়ানো সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।
তবে ইরান এসব পাত্তা দিচ্ছে না। তারা হামলা হলে সেটি প্রতিহত করবে বলে দৃঢ় অবস্থান ধরে রেখেছে। দেশটির সরকারের শীর্ষ নেতারা বারবারই বলছেন, কোনো হুমকি তারা তোয়াক্কা করেন না। প্রত্যেকটি ইরানি তার দেশকে রক্ষায় এগিয়ে আসবে বলেও দৃঢ় বিশ্বাস রয়েছে তাদের। সূত্র: আল জাজিরা