গত ১ মার্চ কুয়েতে একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন হামলার ঘটনায় পেন্টাগনের দেওয়া আনুষ্ঠানিক বিবৃতির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন সেখানে দায়িত্বরত সেনারা। পেন্টাগন ওই ঘাঁটিটিকে সুরক্ষিত দাবি করলেও সেনারা বলছেন, সেটি ড্রোন হামলা মোকাবিলায় মোটেও প্রস্তুত ছিল না এবং এই ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো যেত।
মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এর আগে জানিয়েছিলেন, একটি শক্তিশালী ও সুরক্ষিত প্রতিরক্ষা বলয় ভেদ করে ড্রোনটি 'ফাঁকি' দিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়েছিল। তবে সেনাবাহিনীর ১০৩তম সাসটেইনমেন্ট কমান্ডের সেনারা এই দাবিকে ডাহা মিথ্যা বলে অভিহিত করেছেন। হামলায় আহত এক সেনা সিবিএস নিউজকে বলেন, "একটি ড্রোন কোনোভাবে ফসকে ঢুকে পড়েছে—এমন ছবি আঁকার চেষ্টা করা সম্পূর্ণ মিথ্যাচার। প্রকৃতপক্ষে ওই ইউনিটটি নিজেকে রক্ষা করার মতো কোনো অবস্থানেই ছিল না। সেটি কোনো সুরক্ষিত ঘাঁটি ছিল না।"
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের হামলার আশঙ্কায় যখন বেশিরভাগ মার্কিন সেনাকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল, তখন ১০৩তম সাসটেইনমেন্ট কমান্ডকে উল্টো কুয়েতের দক্ষিণ উপকূলের শুয়াইবা বন্দরে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেনারা জানিয়েছেন, এই জায়গাটি সরাসরি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সীমার মধ্যে ছিল। এমনকি ইরানের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় এই পোস্টটির নাম ছিল বলেও আগে থেকে গোয়েন্দা তথ্য ছিল।
এক সেনা সদস্য ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমরা ইরানের আরও কাছাকাছি চলে গিয়েছিলাম এবং একটি পরিচিত লক্ষ্যবস্তুতে অবস্থান নিয়েছিলাম। কেন আমাদের এমন অনিরাপদ জায়গায় যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, তার কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা আজ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।"
সেনাদের বর্ণনামতে, ঘাঁটিটির সুরক্ষার জন্য কেবল নিচ দিয়ে 'টি-ওয়াল' ছিল, যা সাধারণত স্থল বিস্ফোরণ ঠেকানোর জন্য ব্যবহৃত হয়। কিন্তু ড্রোন বা আকাশপথের হামলা প্রতিরোধের জন্য সেখানে কোনো ওভারহেড কভার বা ছাদ ছিল না। সেনারা সেখানে অস্থায়ী টিনের ঘরে কাজ করতেন। এক সেনা বলেন, "ড্রোন প্রতিরক্ষা সক্ষমতার কথা যদি বলেন—সেখানে কিছুই ছিল না।"
যদিও প্রতিরক্ষা সহকারী সচিব শন পার্নেল দাবি করেছিলেন যে সেনাদের সুরক্ষায় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল এবং সেখানে ৬ ফুট উচ্চতার দেওয়াল ছিল। তবে সেনাদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে পেন্টাগন তদন্তাধীন বিষয় বলে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৭৩ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৩ জন নিহত হয়েছেন এবং ৫ জন গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন। তবে অধিকাংশ সেনাই প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে দায়িত্বে ফিরেছেন।
উল্লেখ্য, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে গত মঙ্গলবার থেকে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি শুরু হয়েছে, যা চূড়ান্ত শান্তি চুক্তির পথ প্রশস্ত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।