সৌদি আরব জানিয়েছে, সাম্প্রতিক হামলায় সাময়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর দেশটির গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন আবারও পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরে এসেছে। দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে রোববার (১২ এপ্রিল) এ তথ্য জানায় কাতারের সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
মন্ত্রণালয় জানায়, মেরামত কাজ শেষ হওয়ার পর পাইপলাইনটি এখন দৈনিক প্রায় ৭ মিলিয়ন ব্যারেল তেল পরিবহনের সক্ষমতা পুনরুদ্ধার করেছে। এটি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, এই দ্রুত পুনরুদ্ধার সৌদি আরামকো এবং দেশের জ্বালানি ব্যবস্থার উচ্চ পর্যায়ের স্থিতিশীলতা ও সংকট ব্যবস্থাপনার সক্ষমতার প্রতিফলন। এতে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতা আরও শক্তিশালী হবে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিকে সহায়তা দেবে।
মন্ত্রণালয় আরও জানায়, দেশটির মানিফা তেলক্ষেত্রও হামলার পর ক্ষতিগ্রস্ত উৎপাদন পুনরুদ্ধার করে এখন দৈনিক প্রায় ৩ লাখ ব্যারেল সক্ষমতায় ফিরে এসেছে।
তবে এখনো অভ্যন্তরীণ খুরাইস তেলক্ষেত্রের উৎপাদন পুরোপুরি পুনরুদ্ধারের কাজ চলছে।
হামলার কারণে এই ক্ষেত্রটি থেকে দৈনিক প্রায় ৩ লাখ ব্যারেল উৎপাদন কমে গেছে বলে জানানো হয়।
এর আগে সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) গত সপ্তাহে জানায়, ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের একটি পাম্পিং স্টেশনে হামলার ফলে দৈনিক প্রায় ৭ লাখ ব্যারেল উৎপাদন কমে যায়। একই প্রতিবেদনে বলা হয়, মানিফা ও খুরাইস তেলক্ষেত্রে পৃথক হামলায় মোট আরও প্রায় ৬ লাখ ব্যারেল দৈনিক সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
তবে এসব হামলার জন্য কারও নাম উল্লেখ করেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) দেশগুলো যেমন কুয়েত, কাতার, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাত সাম্প্রতিক সময়ে হামলার মুখে পড়ে। ইরান দাবি করেছে, তারা এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।
ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনটি সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের আবকাইক তেলক্ষেত্রকে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। এটি বর্তমানে বৈশ্বিক তেল সরবরাহের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে কাজ করছে, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা ও সীমিত চলাচলের প্রেক্ষাপটে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা বিশ্ব তেল পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশকে প্রভাবিত করছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি মূল্যে চাপ তৈরি করছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির পরও হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হয়নি। এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি শুরুর পর বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত মাত্র ২২টি জাহাজ ওই প্রণালি থেকে বের হয়েছে, যেখানে সংঘাতের আগে দৈনিক গড়ে প্রায় ১৩৫টি জাহাজ চলাচল করত।