শিরোনাম
◈ গুলশানে দুটি স্পা সেন্টারে পুলিশের অভিযান, ২৮ জন আটক ◈ হাদি হত্যা মামলায় জাবেরকে বাদী করার কারণ জানতে চান বোন মাসুমা ◈ বাজেট অধিবেশন ঘিরে সংসদ ভবন এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র বহন ও মিছিল-সমাবেশ নিষিদ্ধ ◈ এশিয়ান গেমস ক্রিকে‌টে বাংলা‌দেশসহ ১০ দল চূড়ান্ত, অ‌ক্টোব‌রে খেলা হ‌বে জাপা‌নে  ◈ গ‌্যাংস্টার দাউদ ইব্রাহিমের হুম‌কি‌তে আ‌মি প্রস্রাব ক‌রে দেই, আইপিএলের ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা শোনালেন ললিত মো‌দি ◈ আগস্টে ইউপি নির্বাচনের তফসিল, আচরণবিধিতে আসছে বড় পরিবর্তন ◈ হামে ও উপসর্গে মৃত্যু বেড়ে ৬১০, ২৪ ঘণ্টায় প্রাণ গেল আরও ৫ শিশুর ◈ পাহাড়ি অঞ্চলে সফল আর্লি ওয়ার্নিং মডেল: আগাম সতর্কবার্তায় কমছে প্রাণহানি, ভূমিধস মোকাবিলায় নতুন আশার আলো ◈ মার্কিন ভিসা আবেদনকারীদের সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল ‘পাবলিক’ রাখার নির্দেশ দিয়েছে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস ◈ মিথ্যা কাহিনি ও জাল কাগজে অ্যাসাইলাম, হাজারো আবেদন বাতিলের হুঁশিয়ারি

প্রকাশিত : ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:২০ রাত
আপডেট : ০৫ জুন, ২০২৬, ০১:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

হঠাৎ কেন ২২ হাজার কেজি সোনা বিক্রি করলেন পুতিন

প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সরকারের অধীনে চলতি বছর রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রায় ২২ হাজার কেজি (২১.৮ টন) সোনা বিক্রি করেছে। আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কিটকোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্রমবর্ধমান বাজেট ঘাটতি মোকাবিলা করতেই এই বিপুল পরিমাণ সোনা বিক্রি করেছে রাশিয়া। চলতি বছর মার্চের শেষে দেশটির বাজেট ঘাটতি দাঁড়ায় ৬১.২ বিলিয়ন ডলারে, যা অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে।

রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ১ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত দেশটির মোট স্বর্ণ মজুত ছিল ২,৩০৪. ৭৬ টন। এর আগে শুধু মার্চ মাসেই মজুত কমেছে ৬.২২ টন। ইউক্রেন যুদ্ধের পঞ্চম বছরে প্রবেশ করায় রুশ অর্থনীতি নানা চাপের মুখে পড়েছে। ফলে সরকারকে সোনার মতো রিজার্ভ সম্পদ ব্যবহার করতে হচ্ছে।

একই সময়ে দেশটির অভ্যন্তরীণ বাজারে সোনার চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মস্কো এক্সচেঞ্জ-এর তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসে দেশটিতে সোনা লেনদেনের পরিমাণ বছরে ৩৫০ শতাংশের বেশি বেড়ে ৪২.৬ টনে পৌঁছায়। রাশিয়ার মুদ্রা রুবলের অবমূল্যায়নের কারণে লেনদেনের মোট মূল্যও ৫০০ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৫৩৪.৪ বিলিয়ন রুবল বা প্রায় ৭.১ বিলিয়ন ডলার।


রাশিয়া দীর্ঘ সময় ধরে তার স্বর্ণ মজুত বাড়িয়ে এসেছে। ২০০২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে দেশটি প্রায় ১,৯০০ টনের বেশি সোনা কিনেছে। বিশেষ করে ২০০৮-২০১২ এবং ২০১৪-২০১৯ সালের মধ্যে বড় আকারে সোনা কেনা হয়। তবে ২০২০ সালের পর থেকে এই প্রবণতা কমে আসে এবং মোট ক্রয় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু রাশিয়াই নয়—বিশ্বের আরও কয়েকটি কেন্দ্রীয় ব্যাংক বর্তমানে সোনা বিক্রি করছে। প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানি খরচ বেড়ে যাওয়া এবং নিজস্ব মুদ্রাকে স্থিতিশীল রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।


চলতি বছরের জানুয়ারিতেও রাশিয়া প্রায় ৩ লাখ আউন্স সোনা বিক্রি করে, সে সময় আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম প্রতি আউন্স ৫,৫০০ ডলারের ওপরে উঠে যায়। এতে দেশটি আনুমানিক ১.৪১ থেকে ১.৬৮ বিলিয়ন ডলার আয় করে।

অন্যদিকে, ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে চীনে রাশিয়ার মূল্যবান ধাতু রপ্তানি প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। একই সময়ে চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক (পিপলস ব্যাংক অব চায়না) সোনা কেনার ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা বজায় রেখেছে।

বর্তমানে রাশিয়া বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম সোনা উৎপাদনকারী দেশ, যেখানে বছরে ৩০০ টনের বেশি সোনা উৎপাদিত হয়। তবে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দেশটির সোনা কেনার প্রবণতা কমলেও, অভ্যন্তরীণ ভোক্তাদের মধ্যে সোনা কেনার আগ্রহ বেড়েছে। ২০২৪ সালে রাশিয়ার জনগণ রেকর্ড ৭৫.৬ টন সোনা কিনেছে, যা দেশের মোট উৎপাদনের প্রায় এক-চতুর্থাংশ। সঞ্চয় সুরক্ষিত রাখতে সাধারণ মানুষও এখন সোনার ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে উঠছে।

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়