শিরোনাম
◈ কুমির সরিয়ে নেওয়া ঠিক হয়নি, মাজারের দিঘিতে ফেরত চাইলেন খাদেম ◈ ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ বিশ্বকাপ মোবাইলে খেলা দেখবেন যেভাবে ◈ ইরান অভিযানের সমাপ্তি ঘোষণা, আর ধারাবাহিক হামলা চালাচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র: রুবিও ◈ স্বামী-সন্তান কানাডা প্রবাসী, সেই মিরপুরেই মিলল আরেক নারীর অর্ধগলিত মরদেহ ◈ গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন সীমান্তে বিএসএফের ১০টি পুশইন অপচেষ্টা রুখে দিয়েছে বিজিবি ◈ অবশেষে পদত্যাগ করেছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান ◈ তাপপ্রবাহে পুড়ছে দেশ, দিনাজপুরে সর্বোচ্চ ৩৮.৫° সেলসিয়াস, আজও ঝড়-বৃষ্টির আভাস ◈ মার্কিন অবরোধের প্রভাব: ভিসা-মাস্টারকার্ড লেনদেন স্থগিতের ঘোষণা কিউবার ◈ মেডিকেলের ছাত্রীরা বছরের পর বছর যৌন হয়রানির শিকার, কমপক্ষে ৩০ জনের অভিযোগ ◈ দ‌ক্ষিণ আ‌ফ্রিকার টি-টোয়েন্টিতে খেল‌বেন রিশাদ হো‌সেন!

প্রকাশিত : ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ০৮:৪৯ সকাল
আপডেট : ০৩ জুন, ২০২৬, ০৬:০০ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

যে ভাসমান গ্যাস স্টেশনে গোপনে বেচাকেনা হয় ইরানের তেল

ভারত মহাসাগরে মার্কিন বাহিনীর হাতে 'এমটি টিফানি' নামক তেলবাহী জাহাজটি নাটকীয়ভাবে জব্দ হওয়ার আগে এক বছর ধরে ইরান এবং মালয়েশিয়া উপকূলের একটি নির্দিষ্ট জলসীমায় রহস্যজনকভাবে একাধিকবার যাতায়াত করেছিল। সিঙ্গাপুরের জমকালো আকাশচুম্বী অট্টালিকাগুলো থেকে মাত্র ৬০ মাইল দূরের ওই জলসীমায় জাহাজটির গতিবিধি ছিল অত্যন্ত সন্দেহজনক।

সিএনএন-এর পর্যালোচনা করা 'মেরিন ট্রাফিক' ডাটা অনুযায়ী, এই সফরের সময় জাহাজটি প্রায়ই একটি ছোট এলাকায় দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করত এবং নোঙর ফেলার পর এর বাধ্যতামূলক 'অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম' বন্ধ করে দিত। কয়েক ঘণ্টা বা কয়েক দিন পর জাহাজটি আবারও এআইএস-এ দৃশ্যমান হতো।

গত মঙ্গলবার এমটি টিফানি এবং এতে থাকা ১৯ লাখ ব্যারেল ইরানি অপরিশোধিত তেল মার্কিন কর্তৃপক্ষের জব্দ করার ঘটনাটি ইরানের বিরুদ্ধে চলা যুদ্ধকে পারস্য উপসাগর থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে ইন্দো-প্যাসিফিক জলসীমায় ঠেলে দিয়েছে। এটি মালয়েশিয়া উপকূলের সেই নির্দিষ্ট জলসীমাকেও বিশ্ববাসীর নজরে এনেছে, যা আকারে যুক্তরাষ্ট্রের রোড আইল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের অর্ধেক। সিএনএন ও বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই এলাকাটি ইরানের জন্য একটি 'ভাসমান গ্যাস স্টেশন' হিসেবে কাজ করে, যা দেশটির 'ছায়া নৌবহর' তেল কেনাবেচা ও মজুতের জন্য ব্যবহার করে। এর মাধ্যমে যুদ্ধকবলিত ইরানি শাসনের কাছে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রা বা নগদ অর্থ পৌঁছে যাচ্ছে।

আনুষ্ঠানিকভাবে সংজ্ঞায়িত না হলেও এলাকাটি 'ইস্টার্ন আউটার পোর্ট লিমিটস' অ্যাঙ্কোরেজ বা নোঙরখানা হিসেবে পরিচিত। এটি সিঙ্গাপুর প্রণালীর পূর্ব প্রবেশপথের কাছে অবস্থিত, যা বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ততম নৌপথ। মালয়েশীয় উপদ্বীপের উপকূল থেকে প্রায় ৪৩ মাইল দূরে দেশটির 'এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোনের' ভেতরে এর অবস্থান। স্যাটেলাইট ইমেজে এই এলাকায় মাঝেমধ্যে শত শত জাহাজকে অলস পড়ে থাকতে দেখা যায়।

এমটি টিফানিকে এর আইএমও নম্বর ৯২৭৩৩৩৭ দ্বারাও শনাক্ত করা যায়। আন্তর্জাতিক মেরিটাইম সংস্থা কর্তৃক নির্ধারিত এই নম্বরটি মালিকানা বা পতাকার পরিবর্তন নির্বিশেষে অপরিবর্তিত থাকে। সিএনএন-এর পর্যালোচনা করা গত আগস্টের স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে, এই জোনের ভেতরে এমটি টিফানি 'মাচো কুইন' নামক আরেকটি জাহাজে কার্গো খালাস করছে। হস্তান্তরের পর মাচো কুইন সংক্ষেপে তার এআইএস চালু করে চীনের দিকে যাত্রা শুরু করে। তবে চীনের কাছে ইরানি তেল চোরাচালানের দায়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ার পর এটি আবারও তার ট্র্যাকার বন্ধ করে দেয়।

মেরিন ট্রাফিক ডাটা অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের হাতে জব্দ হওয়া দ্বিতীয় তেলবাহী জাহাজ 'এমটি ম্যাজেস্টিক এক্স'-ও মধ্যপ্রাচ্য এবং সিঙ্গাপুর প্রণালীর মধ্যবর্তী ইওপিএল জোনে বেশ কয়েকবার যাতায়াত করেছে।

ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউটের ইরান বিষয়ক জ্যেষ্ঠ ফেলো ফারজিন নাদিমি বলেন, সুবিধাজনক অবস্থান এবং পার্শ্ববর্তী কর্তৃপক্ষের শিথিল মনোভাবের কারণে ইওপিএল এলাকাটি ছায়া নৌবহরের হটস্পটে পরিণত হয়েছে। নাদিমি বলেন, "গোপন কার্যক্রমের জন্য এটি অত্যন্ত সুবিধাজনক একটি স্থান। মালয়েশীয় কর্তৃপক্ষ মূলত অন্যদিকে তাকিয়ে থাকে (বিষয়টি এড়িয়ে যায়)।"

অলাভজনক সংস্থা 'ইউনাইটেড অ্যাগেইনস্ট নিউক্লিয়ার ইরান'-এর সংকলিত স্যাটেলাইট তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইওপিএল এলাকায় অন্তত ৬৭৯টি জাহাজ থেকে জাহাজে পণ্য স্থানান্তর করা হয়েছে। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ৪৭১ এবং ২০২৩ সালে ছিল ২৮০টি। তবে প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়েও বেশি হতে পারে, কারণ স্যাটেলাইট প্রতিদিন ওই এলাকার ওপর দিয়ে যায় না এবং খারাপ আবহাওয়ায় জাহাজ শনাক্ত করতে পারে না।

এ বিষয়ে সিএনএন মালয়েশিয়া সরকারের মন্তব্য জানতে যোগাযোগ করেছে। গত জুলাই মাসে মালয়েশিয়া তাদের জলসীমায় অবৈধ পণ্য স্থানান্তর বন্ধে কঠোর ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বার্নামা জানায়, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহামাদ হাসান স্বীকার করেছেন যে এই বিষয়টি তাদের জন্য একটি 'কাঁটা' হয়ে দাঁড়িয়েছে। বার্নামার প্রতিবেদন অনুযায়ী হাসান বলেন, "আমরা আর এমন কোনো দেশ হিসেবে অভিযুক্ত হতে চাই না যারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে সুবিধা দেয়।"

ট্রেড ডাটা ও অ্যানালিটিক্স কোম্পানি 'কেপলার'-এর মতে, ইরান বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ তেল উৎপাদনকারী দেশ, যারা ২০২৫ সালে প্রতিদিন গড়ে ১৬ লাখ ৯০ হাজার ব্যারেল তেল রপ্তানি করেছে। মার্কিন সরকারের তথ্য অনুযায়ী, এই তেলের প্রায় ৯০ শতাংশই যায় চীনে। চীন ইরানি তেলের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা দেয়নি এবং তারা এই নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতাও করে আসছে।

ব্যাপক নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান বিশ্বজুড়ে তেল পরিবহনের জন্য অস্পষ্ট রেকর্ড এবং অনিয়মিত বিমাসম্পন্ন পুরনো ট্যাংকারের ওপর নির্ভর করে। এনার্জি ডাটা ফার্ম 'ভরটেক্সা'-র মতে, ইরানের ছায়া নৌবহরের বেশিরভাগই 'ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ার'; এমটি টিফানির মতো বিশালাকার এই জাহাজগুলো ২০ লাখ ব্যারেল পর্যন্ত তেল ধারণ করতে পারে।

নিষেধাজ্ঞার কবলে থাকা এসব তেল সাধারণত বিশ্ববাজারের মানদণ্ড 'ব্রেন্ট ক্রুড'-এর চেয়ে প্রায় ১০ ডলার কমে বিক্রি হয়। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় প্রতিটি জাহাজ থেকে জাহাজে পণ্য হস্তান্তরের মাধ্যমে ইরানের সরকার কোটি কোটি ডলার রাজস্ব আয় করছে।

গত ফেব্রুয়ারির শেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে ইওপিএল জোনে এই তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। ইউএএনআই চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২১ এপ্রিলের মধ্যে এই এলাকায় অন্তত ২৫০টি জাহাজ থেকে জাহাজে পণ্য স্থানান্তরের ঘটনা ট্র্যাক করেছে। এই এলাকাটি ব্যবহারের ফলে ইরান যুদ্ধের মধ্যেও রপ্তানি প্রবাহ বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের মধ্যেও দেশটিকে আর্থিকভাবে টিকিয়ে রেখেছে। ইউএএনআই-এর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা চার্লি ব্রাউন বলেন, "এটি ইরানের ব্যবসায়িক মডেলের জন্য অপরিহার্য।"

কীভাবে চলে এই 'কার্গো লন্ডারিং' ব্যবসা?

জাহাজ থেকে জাহাজে পণ্য স্থানান্তর শিপিংয়ের একটি নিয়মিত অংশ, যা দক্ষতা বাড়াতে এবং বন্দরে ভিড় এড়াতে ব্যবহৃত হয়। বড় তেলবাহী জাহাজগুলো প্রায়ই ছোট জাহাজে পণ্য খালাস করে কারণ তাদের গভীরতা এত বেশি যে তারা সব বন্দরে ঢুকতে পারে না। তবে পরিবেশগত ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে এই প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত এবং উপকূলীয় কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে অনুমোদিত এলাকায় এটি সম্পন্ন করতে হয়।

কিন্তু 'ছায়া নৌবহর' বা শ্যাডো ফ্লিট লজিস্টিক্যালি প্রয়োজন না থাকলেও তেলের প্রকৃত উৎস গোপন করতে এই পদ্ধতি ব্যবহার করে। তারা প্রায়ই রাতের আঁধারে এবং এআইএস বন্ধ রেখে এই কাজ করে, যাতে কর্তৃপক্ষ তাদের শনাক্ত করতে না পারে।

ইরানের ছায়া তেল বাণিজ্য মূলত একটি নির্দিষ্ট ছক অনুসরণ করে, যেখানে দুটি পৃথক জাহাজের বহর ইরানি তেল চীনে পৌঁছে দিতে কাজ করে। প্রথম সেট বা বহরের জাহাজগুলো ইরানের প্রধান রপ্তানি কেন্দ্র 'খাগ দ্বীপ' থেকে তেল সংগ্রহ করে এবং ভারত মহাসাগর হয়ে মালাক্কা ও সিঙ্গাপুর প্রণালীর মাধ্যমে মালয়েশিয়া উপকূলে নোঙর করে। দ্বিতীয় বহরের জাহাজগুলো তখন জাহাজ থেকে জাহাজে স্থানান্তরের মাধ্যমে সেই তেল গ্রহণ করে এবং চীনের শানডং প্রদেশের 'টিপট' রিফাইনারিগুলোতে নিয়ে যায়, যারা মূলত নিষেধাজ্ঞার কবলে থাকা তেল কেনার জন্য পরিচিত।

কেপলার-এর বিশ্লেষক ইং কং লাহ জানান, চীন আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানি তেল আমদানির কথা ঘোষণা করে না এবং প্রায়ই এই তেলের উৎস মালয়েশীয় হিসেবে প্রচার করে। সিএনএন এ বিষয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে মন্তব্য জানতে চাইলে এক মুখপাত্র বলেন, বেইজিং "একতরফা নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে যার আন্তর্জাতিক আইনে কোনো ভিত্তি নেই।"

ইউএএনআই-এর চার্লি ব্রাউন বলেন, ইরান থেকে এশিয়ায় তেল বহনকারী বেশিরভাগ জাহাজই মার্কিন কালো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত। তবে যেসব জাহাজ সেই তেল গ্রহণ করে চীনে নিয়ে যায়, তাদের বেশিরভাগই এখনও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসেনি। এছাড়া ছায়া নৌবহরগুলো জালিয়াতি করা নথিপত্র এবং ভুয়া পতাকা ব্যবহার করে। তারা প্রায়ই তাদের নিবন্ধন পরিবর্তন করে এবং কর্তৃপক্ষকে বোকা বানাতে কার্গোর ভুল তথ্য দেয়।

ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউটের নাদিমি বলেন, "তারা নতুন কার্গো এবং নতুন জাহাজের জন্য নতুন একটি আখ্যান বা গল্প তৈরি করে। এমনকি কর্মীরা মাঝেমধ্যে জাহাজে নতুন নাম বা পতাকাও এঁকে দেয়। এটি মূলত একটি 'কার্গো লন্ডারিং' ব্যবসা।"

শিপিং ইন্ডাস্ট্রিতে ইওপিএল জোনের এই অবৈধ তৎপরতা দীর্ঘদিনের একটি 'ওপেন সিক্রেট'। ব্রাউনের অনুমান অনুযায়ী, এই এলাকায় পণ্য স্থানান্তর করা ৯৫ শতাংশ জাহাজই আসলে চীন অভিমুখে ইরানি বা রুশ তেল পাচার করছে।

চীনের কাছে একটি কৌশলগত ভাণ্ডার

পারস্য উপসাগরে জাহাজ চলাচলে কোনো বিঘ্ন ঘটলে তা সামাল দিতে ইওপিএল এলাকাটি ইরানের জন্য একটি তেল মজুত কেন্দ্র হিসেবেও কাজ করে। নাদিমি বলেন, "পারস্য উপসাগরে সংঘাতের ঝুঁকি থাকায় ইরান চায় তাদের অপরিশোধিত তেল যতটা সম্ভব গ্রাহকদের (চীনের) কাছাকাছি নিয়ে যেতে।"

কেপলার-এর মতে, গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের সাগরে রেকর্ড ১৯ কোটি ১০ লাখ ব্যারেল তেল মজুত ছিল, যার সিংহভাগই ছিল পূর্ব এশিয়ায়। এই ভাসমান কৌশলগত মজুতের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলায় গত মার্চ মাসে ইরান বিপর্যস্ত থাকলেও চীনে প্রতিদিন গড়ে ১১ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি অব্যাহত রাখতে পেরেছে। যদিও এটি স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কিছুটা কম, তবে তেলের আকাশচুম্বী দাম ইরানের আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে দিতে সাহায্য করেছে।

মার্কিন বাহিনীর হাতে ধরা পড়ার সময় এমটি টিফানি সম্ভবত ইওপিএল জোনের দিকেই যাচ্ছিল। জব্দ হওয়ার আগের এক মাস জাহাজটি হরমুজ প্রণালী এবং পারস্য উপসাগর এলাকায় অবস্থান করছিল। যদিও এর ট্র্যাকার বন্ধ ছিল, তবে ৬ এপ্রিলের স্যাটেলাইট ছবিতে জাহাজটিকে ইরানের খাগ দ্বীপে নোঙর করা অবস্থায় পাওয়া যায়।

১০ এপ্রিল জাহাজটি ওমান উপসাগরে আবারও এআইএস-এ দৃশ্যমান হয় এবং দক্ষিণ-পূর্ব দিকে যাত্রা শুরু করে। মেরিন ট্রাফিক ডাটা অনুযায়ী এর গন্তব্য ছিল সিঙ্গাপুর। ২১ এপ্রিল শ্রীলঙ্কা পার হওয়ার পর জাহাজটি হঠাৎ করে গতিপথ পরিবর্তন করে—প্রথমে তীব্র ৯০ ডিগ্রি কোণে দক্ষিণ দিকে এবং পরে আবারও ৯০ ডিগ্রি কোণে পূর্ব দিকে ঘুরে যায়। এই নাটকীয় পরিবর্তনের পরপরই যুক্তরাষ্ট্র জাহাজটি জব্দের ঘোষণা দেয়।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, মাথার ওপর হেলিকপ্টার চক্কর দিচ্ছে এবং মার্কিন বাহিনী এমটি টিফানির ডেকে অবস্থান করছে। জব্দ হওয়ার পর থেকে জাহাজটি ওই এলাকাতেই অবস্থান করছে।

সূত্র: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়